হিসাবটা ইউনাইটেডের জন্য কঠিনই হয়ে গেছে। কিন্তু দলটির সমর্থকেরা কি এত সহজে আশা ছাড়বেন! রোনালদো-রাশফোর্ডরাও নিশ্চয়ই চেষ্টা করে যাবেন শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ইউনাইটেডের জার্মান কোচ রাংনিক এভারটনের কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচ শেষে একটা সতর্কবাণীই যেন দিলেন, ‘যদি এভাবে খেলতে থাকি তাহলে আমাকে বলতে হবে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্য নই।’

এভারটনের বিপক্ষে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পুরোটা সময় খেললেও সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। জেডন সানচো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও মার্কাস রাশফোর্ডরাও নিজেদের ছায়া হয়েই ছিলেন। অবনমনের শঙ্কায় থাকা এভারটনের বিপক্ষেও ইউনাইটেডের আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ। রক্ষণটাও তেমন জমাট ছিল না। আর মাঝমাঠেও যথারীতি ছিল ছন্নছাড়া ভাব। সব মিলিয়ে ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের মধ্যে যেন জয়ের ইচ্ছাটাই খুঁজে পাচ্ছেন না রাংনিক। ম্যাচ শেষে তাই তো বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল আর চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার ইচ্ছা থাকতে হবে। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলতে হলে আপনাকে এমন একটি ম্যাচে ৯৫ মিনিটের মধ্যে গোল করতে হবে।’

এভারটন নিজেদের মাঠে কাল খেলতে নেমেছিল বার্নলির কাছে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়ার ধাক্কা নিয়ে। অবনমন এড়ানোর লড়াই যাদের সঙ্গে, সেই বার্নলির কাছে হারের কারণে অনেকটাই বিধ্বস্ত ছিল এভারটন। কিন্তু ইউনাইটেড সেটি কাজে লাগাতে পারেনি। রাংনিক হারের দায় চাপালেন ফরোয়ার্ডদের ওপর, ‘এভারটনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, বার্নলির কাছে ৩ গোল খাওয়া একটি দলের বিপক্ষে যে দল গোল করতে পারে না, সেই দলের কাছে আপনি কিছু আশা করতে পারেন না।’

এভারটনের কাছে হারের পর শীর্ষ চারে থেকে লিগ শেষ করা যে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার মতো কঠিন এক কাজ হয়ে গেছে, ইউনাইটেডের গোলকিপার দাভিদ দে হেয়ার কথায়ও বেরিয়ে এল তা, ‘আমরা যথেষ্ট ভালো খেলতে পারিনি। এখন শীর্ষ চারে থাকাটা আমাদের জন্য খুব কঠিন। আমরা (এভারটনের বিপক্ষে) গোল করতে পারিনি। এমনকি গোলের পরিষ্কার সুযোগও তৈরি করতে পারিনি। ওদের মধ্যে ম্যাচ জয়ের মরিয়া ভাব আমাদের চেয়ে বেশি ছিল। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’