জোসে মরিনিও
জোসে মরিনিও ছবি: রয়টার্স

কাল রাত থেকে ইউরোপের ফুটবল টালমাটাল হয়ে আছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডসহ ১২টি ক্লাব মিলে ঠিক করেছে, তারা নিজেরা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে নিজেরাই তাতে খেলবে। টাকা-পয়সা যা আসবে, নিজেরাই তা ভাগাভাগি করে নেবে।

দৃশ্যত লোভী মানসিকতার ফল এই টুর্নামেন্ট ফুটবলের জন্য কতটা ক্ষতিকর, সেটি নিয়েই এখন আলোচনা চারদিকে। নাকি এটা উয়েফার কাছ থেকে আরও বেশি টাকা বের করে নেওয়ার জন্য ১২টি ক্লাবের ফন্দি, সেটা নিয়েও হচ্ছে বিতর্ক। চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ছক কী হবে, টাকা-পয়সার বণ্টন কেমন হবে, সেসব নিয়ে আজই যে বৈঠকে বসার কথা উয়েফার!

এত কিছু যখন আলোচনার টেবিল গরম করে রেখেছে, এর মধ্যে টটেনহাম থেকে এল ধাক্কা দেওয়া আরেক খবর। অন্য কোনো সময়ে হয়তো এটিই হতো ইউরোপের ফুটবলে আজকের দিনের সবচেয়ে বড় খবর। খবরটা এই, টটেনহাম বরখাস্ত করেছে তাদের কোচ জোসে মরিনিওকে।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের নভেম্বরে মরিসিও পচেত্তিনোর বদলে তাঁকে এনেছিল টটেনহাম। কিন্তু হঠাৎ আজ তাঁর এভাবে বরখাস্ত হওয়ায় একটা প্রশ্নও উঠে যায়, মরিনিওর এভাবে বরখাস্ত হওয়ার পেছনে সুপার লিগের কোনো সম্পর্ক নেই তো?

টটেনহাম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছে খবরটা। বিবৃতিতে লেখা, ‘ক্লাব নিশ্চিত করছে যে জোসে মরিনিও এবং তাঁর কোচিং দলের অন্য সদস্য জোয়াও সাক্রামেন্তো, নুনো সান্তোস, কার্লোস লালিন ও জিওভান্নি সেরাকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

default-image

আপাতত মরিনিওর উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা-ও জানিয়ে দিয়েছে ক্লাব, ‘(দলের সহকারী কোচদের একজন) রায়ান ম্যাসন আজ মূল দলের অনুশীলন করাবেন। এ ব্যাপারে আরও কিছু জানানোর থাকলে সেটি ঠিক সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

শুধু ফর্মের হিসাব করলে মরিনিওর বরখাস্ত হওয়া হয়তো খুব একটা চমকপ্রদ ঘটনা নয়। লিগে প্রথম ১২ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার ১ নম্বরে ছিল মরিনিওর টটেনহাম, কিন্তু এরপর পথ হারিয়েছে। সর্বশেষ ২০ ম্যাচের ৯টিতে হেরেছে, জিতেছে ৭টি।

এই মুহূর্তে ৩২ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে লিগে সপ্তম স্পার্স। আটে থাকা এভারটনের ৩১ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট, ছয়ে থাকা লিভারপুলের ৩১ ম্যাচে ৫২। সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্নও প্রায় শেষ। চার নম্বরে থাকা ওয়েস্ট হামের পয়েন্ট ৩২ ম্যাচে ৫৫, পাঁচে থাকা চেলসির ৩১ ম্যাচে ৫৪। সুপার লিগ চালু হয়ে গেলে অবশ্য লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার এই হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে যাবে টটেনহাম, তারাও যে সুপার লিগের আয়োজক ১২ ক্লাবের একটি!

এর বাইরে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে ইউরোপা লিগে গিয়েও ভালো করতে পারেনি টটেনহাম, বাদ পড়েছে শেষ ষোলোতে। এফএ কাপেও পঞ্চম রাউন্ডেই শেষ হয়ে গেছে স্পার্সের অভিযান।

কিন্তু এত কিছুর পরও মরিনিওর এখন ছাঁটাই হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়! মরিনিও দাবি করতেই পারেন, তাঁর এই ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি তাঁর নয়। একে তো টটেনহামে কেইন, সন আর ধারে আসা বেলকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ বাদ দিলে এই দলে তেমন ভরসা করার মতো খেলোয়াড় নেই, তারওপর বছরে-দশ বছরে কালেভদ্রে একটা শিরোপা জেতা টটেনহামকে আরেকটি শিরোপার কাছে নিয়ে এসেছিলেন মরিনিও। উঠিয়ে এনেছেন এবারের লিগ কাপের ফাইনালে। সেই ফাইনালও আবার আগামী ২৫ এপ্রিল ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে।

বিজ্ঞাপন

সে কারণেই কিনা, মরিনিওকে এভাবে বরখাস্ত করায় খেপেছেন টটেনহামের সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার জেমি ও’হারা। টটেনহাম গত মৌসুমে সম্প্রচারক সংস্থা অ্যামাজন প্রাইমের সঙ্গে চুক্তি করে মৌসুমের মাঠের বাইরের চিত্র বা ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ নিয়ে একটা প্রামাণ্যচিত্র বানিয়েছে। সেটার জন্যই মরিনিওর মতো টিভিতে চড়া দামে বিকোনো একটা নামকে কোচ করে এনেছেন টটেনহামের মালিক ড্যানিয়েল লেভি, এমনই অভিযোগ ও’হারার।

টুইটে ধুয়ে দিয়েছেন টটেনহামকে, ‘লেভি নিষ্ঠুর একজন মানুষ। সত্যি বলতে জোসের জন্য আমার খারাপ লাগছে। তাঁকে ভালো খেলোয়াড় এনে দিয়ে সাহায্য করা হয়নি। দেখাই যাচ্ছিল দলের পারফরম্যান্স আরও খারাপ হচ্ছিল। তাঁকে (মরিনিও) অ্যামাজনের প্রামাণ্যচিত্রের জন্য কাজে লাগানো হয়েছে। এরপর ছুড়ে ফেলা হয়েছে, তা-ও তাঁকে যে ফাইনাল জেতার জন্য আনা হয়েছে, সেই ফাইনালের আগে।’

default-image

মরিনিওর টটেনহামে আসাই বিতর্কিত ছিল। আগের মৌসুমে টটেনহামকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তোলা পচেত্তিনোকে বরখাস্ত করে টটেনহাম। কিন্তু পাঁচ-ছয় বছর ধরে নিজের কৌশলে দলটা সাজাচ্ছিলেন পচেত্তিনো, গড়েছিলেন নিজের ‘বল দখলে রেখে আক্রমণের’ কৌশলে। সেখানে পচেত্তিনোর দলটাকেই তুলে দেওয়া হয় পুরো বিপরীতে ‘রক্ষণ ঠিক রেখে পাল্টা আক্রমণের’ কৌশলে খেলা মরিনিওর হাতে!

অবশ্য এভাবে বরখাস্ত হওয়ায় মরিনিওর একটাই লাভ, চড়া বেতনে স্পার্সে চুক্তি করা মরিনিওর পকেট ফুলছে!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন