বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ইতালিয়ান অধিনায়ক জিয়াচিনতো ফাচেত্তি পরে তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেছেন, ‘রাশিয়ান অধিনায়ককে নিয়ে আমি ড্রেসিংরুমের দিকে গেলাম। একটু পরে রেফারি এসে একটা পুরোনো কয়েন বের করলেন। সেটা ওপরে ছোড়ার পর আমি ‘‘টেল’’ ডাকলাম। সেদিন আমিই ভাগ্যবান ছিলাম।’
ওই অর্থে ঠিক পুরো প্রতিশোধ নেওয়া হলো না ইতালির। কিন্তু টস-ভাগ্যে রাশিয়াকে বিদায় করে দিয়ে ফাইনালে ওঠার আনন্দ একেবারে কমও ছিল না ইতালির।
রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ফাইনাল ছিল যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে। সেখানেও নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় পর ম্যাচে ১-১ সমতা। তবে এবার আর টস হয়নি। এক দিন পরে আবার ফিরতি ম্যাচ আয়োজন করা হয় একই মাঠে। এবার ২-০ গোলে জিতে ইউরোপের মুকুট পায় স্বাগতিক ইতালি। এখন পর্যন্ত ওটাই ইতালির একমাত্র ইউরো ট্রফি।

একনজরে ইউরো ১৯৬৮

স্বাগতিক: ইতালি
ফাইনালের ভেন্যু: অলিম্পিক স্টেডিয়াম, রোম
চ্যাম্পিয়ন: ইতালি
রানার্সআপ: যুগোস্লাভিয়া
তৃতীয়: ইংল্যান্ড
চতুর্থ: রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)


ইউরোপিয়ান নেশনস কাপ থেকে বদলে সেবারই ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ হয় টুর্নামেন্টের নাম। বদলে যায় দুই বছরমেয়াদি বাছাইপর্বের ফরম্যাটও। দুই লেগের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচের বদলে প্রচলন হয় গ্রুপ পর্বের। ৮টি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাছাইপর্ব খেলেছিল ৩১টি দল। গ্রুপের সেরা দলগুলোকে নিয়ে হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। সেখানে জয়ীরা সুযোগ পেয়েছিল চূড়ান্ত পর্বে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল তখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলের দাপুটে জয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় ইংল্যান্ড।

আরও যত গল্প

default-image

মালোরির লাল কার্ড
‘ক্যারিয়ারে আমি সাত শতাধিক ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু মানুষ মনে রেখেছে ওই একটা ম্যাচের কথা।’ বিবিসি স্পোর্টসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে একবার বলেছিলেন অ্যালান মালোরি। রাখবে নাই–বা কেন! যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ১৯৬৮ সেমিফাইনালের ওই ম্যাচেই তো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তটার জন্ম দিয়েছিলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার মালোরি। ম্যাচে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে পিছিয়ে তখন, যুগোস্লাভিয়ার ডিফেন্ডার দব্রিভোয়ে ত্রিভিচ খুব বাজে একটা ফাউল করেছিলেন মালোরিকে। রক্ত বেরোয় মালোরির বাঁ পা থেকে। তবে খেপে গিয়ে মালোরি যা করলেন, সেটা আরও ভয়ংকর। স্মৃতিচারণায় নিজেই পরে বলেছেন, ‘আমি রাগে ওকে এমন লাথি মারলাম, সে আলুর বস্তার মতো উড়ে গিয়ে পড়ল। রেফারি এসে আমাকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দিলেন।’
ম্যাচটা ইংল্যান্ড হেরেছিল। সতীর্থরা তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন মালোরিকে। তবে ইংল্যান্ডের তখনকার বিশ্বকাপজয়ী কোচ আলফ রামসে নাকি ড্রেসিংরুমে ফিরে মালোরিকে বলেছিলেন, ‘তুমি ঠিক কাজটাই করেছ।’ দেশে ফেরার পর ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ৫০ পাউন্ড জরিমানা করেছিল মালোরিকে। সেই জরিমানার টাকাও দিয়েছিলেন রামসে। মালোরি পরে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। কারণ, ওই সময়ে ৫০ পাউন্ড অনেক টাকা।’

default-image

ক্রুইফের অভিষেক
১৯৬৮ ইউরোর বাছাইপর্বেই নেদারল্যান্ডসের হয়ে অভিষেক হয় কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফের। রটারডামে হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন ক্রুইফ। ম্যাচ অবশ্য ড্র হয় ২-২ গোলে। সেবার ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি ক্রুইফ আর নেদারল্যান্ডসকে। গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বাছাইপর্বেই শেষ হয়ে যায় নেদারল্যান্ডসের পথচলা।


দর্শকের রেকর্ড
বাছাইপর্বে গ্লাসগোর হ্যাম্পডেন পার্কে ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ম্যাচে দর্শক হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার! প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১৯৯৬ সালের আগে ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ডের ওটাই ছিল শেষ দেখা। ইউরোর কোনো ম্যাচে ওটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দর্শকের রেকর্ড।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন