ঘরের মাঠে হারের পর বিমর্ষ লিভারপুলের খেলোয়াড়েরা
ঘরের মাঠে হারের পর বিমর্ষ লিভারপুলের খেলোয়াড়েরাছবি: এএফপি

মুদ্রার দুই পিঠই দেখা হয়ে গেল লিভারপুলের। প্রায় চার বছর ধরে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডকে দুর্গ বানিয়ে রেখেছিল তারা। টানা ৬৮ লিগ ম্যাচে অপরাজিত ছিল।

লিভারপুলের মাঠে লিগ ম্যাচ খেলতে এলেই প্রতিপক্ষ যেন ধরেই নিত, আর যা-ই হোক না কেন, ৩ পয়েন্ট পাওয়া হচ্ছে না। টানা ৬৮ ম্যাচ পর লিভারপুলের সেই অ্যানফিল্ড দুর্গই আজ ভেঙে চুরমার!

ঘরের মাঠে লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ হারল তারা। গত রাতে অ্যানফিল্ডে জয় তুলে নিয়েছে চেলসি। মেসন মাউন্টের গোলে চ্যাম্পিয়নদের তাদেরই মাঠে থামিয়ে এসেছে লন্ডনের ক্লাবটি।

তাতে নিশ্চিত হয়ে গেল লিভারপুলের একটি বিব্রতকর রেকর্ড। ক্লাবের ইতিহাসে ঘরের মাঠে এর আগে কখনো টানা পাঁচ ম্যাচ হারেনি তারা। যে মানে-সালাহ-ফন ডাইক-হেন্ডারসনদের কল্যাণে লিভারপুল ৩০ বছরের লিগ-খরা কাটিয়েছিল, সে একই খেলোয়াড়দের সময়ই লিভারপুলের এমন রেকর্ড—অবিশ্বাস্য তো বটেই। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার একটু আগে চেলসির হয়ে গোলটি করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার মেসন মাউন্ট।

বিজ্ঞাপন

পেনাল্টি ছাড়া গোলের হিসাব করলে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে খেলেও লিভারপুল গোল করতে পারেনি। ফন ডাইক, হেন্ডারসনরা না থাকার কারণে লিভারপুলে রক্ষণ-মিডফিল্ডে সমস্যা হবে মনে হলেও, আপাতদৃষ্টিতে দলটিকে সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে তার রক্ষণভাগ।

বাবার মৃত্যুর কারণে গত ম্যাচে খেলতে না পারা অ্যালিসন বেকার এ ম্যাচে ঠিকই মাঠে নেমেছিলেন। তাঁকে পেছনে রেখে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জুটি বেঁধেছিলেন চোট থেকে ফেরত আসা ব্রাজিলিয়ান রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ফাবিনিও ও তুরস্কের ডিফেন্ডার ওজান কাবাক।

এ নিয়ে গোটা মৌসুমে ২০তম বারের মতো সেন্ট্রাল ডিফেন্সের জুটির খেলোয়াড় বদলাল লিভারপুল। এই দুজনকে যথারীতি একটু ওপরে উঠে খেলতে বলেছিলেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তাতে আরেকটু হলে ম্যাচে পিছিয়েই পড়ত লিভারপুল।

default-image

২৫ মিনিটে লিভারপুলের ‘হাই লাইন ডিফেন্স’-এর সুবিধা নিয়ে চট করে বিপজ্জনকভাবে অ্যালিসনের সামনে পড়ে যান চেলসির জার্মান স্ট্রাইকার টিমো ভেরনার। মৌসুম শুরুর আগে এই ভেরনারের লিভারপুলে আসার কথা থাকলেও শেষমেশ চেলসিই বাজিমাত করে।

যে দলে খেলার কথা ছিল, সে দলের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করার একটা বাড়তি তাগিদ ছিল হয়তো। অ্যালিসন চাইলেও উড়ে আসা বলটাকে ঠেকাতে পারেননি, বল জালে জড়ায় ভেরনারের কল্যাণে। কিন্তু লিভারপুলের ত্রাতা হয়ে আসে ভিএআর। দেখা যায়, অফসাইডে ছিলেন ভেরনার।

এই একবার বেঁচে গেলেও লিভারপুল যে সে সুযোগ খুব বেশি কাজে লাগাতে পেরেছে, বলা যাবে না। নতুন কোচ টমাস টুখেলের অধীনে চেলসি বল পায়ে রেখে খেলতে পছন্দ করছে, এই ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বিশেষ করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই চেলসির হাতে ছিল। তাই ফরাসি মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তের পাস থেকে ইংলিশ মিডফিল্ডার মেসন মাউন্ট যখন বাঁ দিক থেকে কাট ইন করে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করলেন, অবাক করা কিছু মনে হয়নি। চেলসির মিডফিল্ড ছিল এতটাই দুর্দান্ত।

ওদিকে লিভারপুলের প্রতিটি ক্ষেত্র ছিল ছন্নছাড়া। দুই মিডফিল্ডার থিয়াগো আর জোন্স পুরো ম্যাচ শেষই করতে পারেননি। মানে-ফিরমিনো গোটা ম্যাচে জঘন্য খেললেও ৬০ মিনিটের মাথায় মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে সালাহকে। প্রথমার্ধে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা একটা লং বল আয়ত্তে এনে গোল করার একটা সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন সাদিও মানে। বল পায়েই লাগাতে পারেননি!

একই অবস্থা ফিরমিনোরও। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণ পর ডি-বক্সের মধ্যে কান্তের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায় লিভারপুল, কিন্তু লাভ হয়নি তাতে।

গোটা ম্যাচে একবারই সরাসরি গোল বরাবর শট নিতে পেরেছে লিভারপুল। তাও ৮৫ মিনিটে, মিডফিল্ডার জর্জিনিও ভাইনালডমের কল্যাণে। এই একটা তথ্যেই বোঝা যায়, কী জঘন্য খেলেছে তারা!

এই পরাজয়ে লিগের শীর্ষস্থান তো দূরে, ন্যূনতম ৪ নম্বর থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্নেও বেশ বড়সড় ধাক্কা লাগল বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়নদের। ২৭ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুলের অবস্থান সাতে। ওদিকে চেলসি ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে ৪ নম্বরে। শীর্ষে যথারীতি ম্যানচেস্টার সিটি। ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন