সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি দিয়াজ। কিন্তু অসাধারণ দুটি গোল করে পোর্তোর ২৪ বছর বয়সী উইঙ্গার পুরো ম্যাচে আলো কেড়ে নিলেন। হামেস রদ্রিগেজের অনুপস্থিতিতে কলম্বিয়া যেন নতুন এক তারকা পেয়ে গেল এবারের কোপায়। বিশেষ করে ব্রাজিলের বিপক্ষে বাইসাইকেল কিকে গোলে আলোচনায় এসেছিলেন দিয়াজ। এরপর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে গোল করে দলকে জেতানোর চেষ্টা করেছিলেন। আলো ছড়িয়েছিলেন গোটা ম্যাচে, আর্জেন্টিনার রাইটব্যাককে ঘোল খাইয়েছিলেন পুরো ম্যাচে। কিন্তু সেদিন গোল করতে না পারলেও পেরুর বিপক্ষে ঠিকই কাজের কাজটা করেছেন। সেই সঙ্গে নিজেকে চেনালেন এই কোপায়। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে দিয়াজের হাতে। সব মিলিয়ে কোপায় ৪ গোল করে মেসির সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারে ভাগ বসালেন দিয়াজ।

ম্যাচের ৪৫ মিনিটে ইয়োতুনের গোলে এগিয়ে যায় পেরু। এরপর বিরতি থেকে ফিরেই ফ্রি–কিক থেকে অসাধারণ ওই গোল করে কলম্বিয়াকে খেলায় ফেরান জুভেন্টাসের উইঙ্গার কুয়াদ্রাদো। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতেন লাপাদুলা। কিন্তু দুর্ভাগ্য পেরুর, লাপাদুলার শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। এরপর থেকেই মূলত শুরু হয় দিয়াজ-জাদু। ৬৬ মিনিটে গোলরক্ষক কামিলো ভারগাসের লম্বা বল পেয়ে সরাসরি ডি বক্সে ঢোকেন দিয়াজ। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করেন প্রথম গোল। জয়ের স্বপ্ন দেখানো গোলটি করেই টিভি ক্যামেরার সামনে গিয়ে কুয়াদ্রাদোর সঙ্গে বিশেষ ভঙ্গিমায় নেচে গোল উদ্‌যাপন করেন। ৮২ মিনিটে আর সুযোগ নষ্ট করেননি লাপাদুলা। কর্নার থেকে পাওয়া বলে মাথা ছুঁয়ে লাপাদুলা করেছেন ২-২। অতিরিক্ত সময়ে পেরুর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন দিয়াজ, বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত এক জোরালো শটে বল ঢুকেছে জালে।

বাকি সময়ে চেষ্টা করেও কোনো দল গোল পায়নি। আর তাতেই নিশ্চিত হয়েছে, তৃতীয় হচ্ছে কলম্বিয়া।