বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

১৯ সেপ্টেম্বর বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচেও বাংলাদেশ ৫-০ গোলেই হেরেছিল জর্ডানের কাছে। ওই ম্যাচের পর কোচ গোলাম রব্বানী বলেছিলেন, মেয়েরা ইরানের বিপক্ষে আরও ভালো ফুটবল উপহার দেবেন। কিন্তু আজও খেলায় উন্নতির ছাপ ছিল না।
ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলা বেশির ভাগ ফুটবলারই খেলছেন জাতীয় দলে। মেয়েদের ফুটবল লিগে একপেশে লড়াইয়ে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। দেশের মাটিতে সেই অর্থে বসুন্ধরার ডিফেন্ডারদের কখনোই বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি। কিন্তু এবার এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে খেলতে নেমে মাসুরা পারভীন, শিউলি আজিমরা বুঝেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিষ্ঠুরতা!

শুধু তা–ই নয়, আজ ইরানকে দুবার পেনাল্টি উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। হাস্যকরভাবে দুবারই বক্সের মধ্যে থাবা দিয়ে বল থামিয়েছেন মিসরাত জাহান ও শিউলি আজিম!

default-image

বাংলাদেশের রক্ষণের অবস্থা একেবারে ভঙ্গুর। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন চোটের কারণে দুই ম্যাচেই ছিলেন দর্শকের ভূমিকায়। আঁখির অভাবটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই মিনিটে বাংলাদেশের জালে ঢুকেছে বল। বক্সের বাইরের ফ্রি–কিক থেকে উড়ে আসা বলে ইরানি ডিফেন্ডার মালিকা মতিভাল্লি মাথা ছুঁয়ে করেন গোল (১-০)।

একইভাবে রক্ষণের দুর্বলতায় কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ইরানের আরেক ডিফেন্ডার গুলনুশ খুশরাভি হেডে করেছেন ২-০। একটু পর অহেতুক হাত দিয়ে বল থামিয়ে মিশরাত জাহান পেনাল্টি উপহার দেন ইরানকে। ২৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মিডফিল্ডার বেহেনাজ তাহেরখানি করেন তৃতীয় গোল।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক খেলেছে ইরান। ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার শিউলি ও মাসুরার মাঝখান দিয়ে বল টেনে নিয়ে বক্সের ওপর থেকে জোরালো শট নেন ফরোয়ার্ড হাজার দাব্বারঘি। ওই শট ক্রসবারে লেগে ভেতরে ঢোকে।

default-image

বিরতির পর মিসরাত জাহানের বদলি হিসেবে শামসুন্নাহার সিনিয়রকে মাঠে নামান কোচ গোলাম রব্বানী। ৫৮ মিনিটে মনিকা চাকমার বদলে নেমেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। কিন্তু ম্যাচে বাংলাদেশের ভাগ্য এতটুকু বদলায়নি। বরং ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ৫-০ করেছেন বেহেনাজ।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইরানের কাছে হেরেছিল ২-০ গোলে। এবার জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়েছে ইরান। এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা কখনোই সুখের ছিল না। ২০১৪ সালে শেষবার এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে খেলে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে অংশই নেয়নি। কিন্তু ৭ বছর আগে ৩ ম্যাচে খেয়েছিল ১৫ গোল!

এবার বাংলাদেশ দুই ম্যাচে খেয়েছে ১০ গোল। মেয়েদের ফুটবলে কোনো উন্নতি হয়েছে কি না, সে আলোচনা তোলার সময় হয়েছে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন