বিজ্ঞাপন

মেসি খেলবেন-ই বা কীভাবে? একে তো বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির চুক্তি নবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, গত ৩০ জুন বার্সার সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় মেসি তাই এই মুহূর্তে কাগজে-কলমে বার্সার খেলোয়াড় নন। তার ওপর কোপা আমেরিকা শেষে ছুটি কাটিয়ে মেসি ২ আগস্ট বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার কথা। তত দিনে বার্সেলোনা দল ইসরায়েলে চলে যাওয়ার কথা ছিল।

আর বার্সা কোচ রোনাল্ড কোমান আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন, মেসি বার্সায় চুক্তি নবায়ন করলে এবং ২ আগস্ট ক্লাবে ফিরলেও মেসির সঙ্গে তাঁর সমঝোতা অনুযায়ী, নিয়ম মেনে প্রথমে বার্সার অনুশীলন মাঠে ফিটনেস নিয়ে কাজ করবেন মেসি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বার্সার হয়ে প্রাক্‌-মৌসুমে মাঠে নামবেন ৮ আগস্ট, ক্যাম্প ন্যুতে জুভেন্টাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে।

কিন্তু মেসি না খেললেও বার্সেলোনা নামটাই তো জেরুজালেমের ম্যাচকে ঘিরে আলো টেনে নিতে বাধ্য। তার ওপর ইসরায়েলের ক্লাবগুলোর মধ্যে এই বেইতার জেরুজালেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা কখনো কোনো আরব খেলোয়াড়কে তাদের দলে নেয়নি। ক্লাবটির সমর্থকদেরও সব সময় ‘আরবরা নিপাত যাক’ স্লোগান দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ আছে।

সে কারণেই চারদিক থেকে প্রতিবাদ এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই, সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ হয়েছে ফিলিস্তিন থেকেই। ফিলিস্তিনের কয়েকটি ফুটবল ক্লাব মিলে ৯ জুলাই বার্সেলোনার উদ্দেশে খোলা চিঠিতে লিখেছে, ‘একই খেলায় আপনাদের সহযাত্রী হিসেবে, খেলা ও ন্যায্য ব্যবস্থার প্রতি আবেগ নিয়ে বেড়ে ওঠা অ্যাথলেট হিসেবে আমরা দেখতে চাই না যে আপনার নাম, আপনাদের প্যাশন কেউ উল্টোপাল্টা কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রপাগান্ডা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করে আমাদের ফিলিস্তিনি মানুষের ওপর দেশটির আগ্রাসনকে খেলাধুলার নাম দিয়ে মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টায় তো নয়ই!’

ফিলিস্তিন ছাড়াও মুসলিম এবং মানবতাবাদী অনেক মানুষ বার্সাকে এই ম্যাচ খেলতে নিরুৎসাহিত করেছেন। সেটিরই ফল হয়ে এল বার্সার এই ম্যাচ বাতিল করা। বিতর্কিত শহর জেরুজালেম থেকে ম্যাচটি সরিয়ে নিলে প্রতিবাদ এত হতো না, সে কারণে প্রস্তাব এসেছিল জেরুজালেম থেকে ম্যাচটা সরিয়ে তেল আবিব কিংবা অন্য কোনো শহরে নেওয়ার। কিন্তু বেইতার জেরুজালেমের মালিক মোশে হগ সে প্রস্তাবে রাজি হননি। সে কারণে ম্যাচ বাতিল করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না

এতে বেশ খুশি হয়েছে ফিলিস্তিন। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (পিএফএ) প্রধান জেনারেল জিব্রিল রাজুব বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাকে খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অধিকারকে সম্মান দেখানো এবং দেশটির লাখো সমর্থকের এই আনন্দ দেওয়া বার্সেলোনার সিদ্ধান্তটাকে পিএফএ অভিবাদন জানাচ্ছে।’

default-image

তবে মেসিরা না গেলেও ইসরায়েলে বার্সেলোনার প্রতিনিধিত্ব ঠিকই থাকছে। বার্সা সভাপতি লাপোর্তা গত শুক্রবারই ইসরায়েলে গেছেন। গতকাল ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হার্জগকে বার্সার একটি জার্সি উপহারও দিয়েছেন। ২০ জুলাই পর্যন্ত লাপোর্তা ইসরায়েলে থাকবেন। সেখানে বার্সেলোনা ক্লাবের একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠান হবে।

বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনিওর অধিনায়কত্বে বার্সার লেজেন্ডদের দল আগামীকাল তেল আবিবে ‘লেজেন্ডস এল ক্লাসিকোতে’ খেলার কথা রিয়াল মাদ্রিদের লেজেন্ড দলের সঙ্গে।

এত সব কিছু দিয়ে নাকি বার্সার ‘বিপণনে’র ইচ্ছা লাপোর্তার। স্প্যানিশ দৈনিক এএস লিখেছে, আর্থিকভাবে অনেকটা পঙ্গু হয়ে পড়া বার্সেলোনা এখন বেপরোয়া হয়ে একজন ‘শেখ’ খুঁজছে। শেখ বলতে এএস বুঝিয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটি যেমন আরব তেল ব্যবসায়ীর মালিকানায় অঢেল টাকাপয়সা ঢালতে পারছে, পিএসজি যেমন কাতারি আমিরের বদান্যতায় ইউরোপের ফুটবলের অর্থের বাজারে ছড়ি ঘোরাচ্ছে, ইসরায়েলে তেমনি কোনো স্পনসর বা বিনিয়োগকারীর খোঁজে যাবেন লাপোর্তা।

ইসরায়েলে গিয়ে বেইতার জেরুজালেমেরই মালিক মোশে হগের সঙ্গে লাপোর্তা দেখা করবেন বলে জানাচ্ছে এএস। হগ ইসরায়েলের সবচেয়ে ধনী বিনিয়োগকারীদের একজন কিনা!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন