বিজ্ঞাপন

গত ১৬ বছরে ঘরোয়া ফুটবলের বিভিন্ন পর্যায়ের ৮টি লিগ খেলেছে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ। পর্যায়ক্রমে সাফল্য পেতে পেতে এবার উঠল সর্বোচ্চ লিগে। স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ ২০০৬ ও ২০০৮ সালে পাইওনিয়ার, ২০০৯ সালে তৃতীয় বিভাগ, ২০১২ সালে খেলেছে দ্বিতীয় বিভাগে।

ওই বছর সেরা চার দলের একটি হয়ে প্রথম বিভাগে ওঠে তারা। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে খেলে প্রথম বিভাগে। এরপর ২০১৯ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেললেও অবনমিত হয়। নতুন করে ক্লাব লাইসেন্সিং করে এএফসি থেকে অনুমতি নিয়ে খেলেছে এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। যে দলটা আগেরবার অবনমিত হয়ে গিয়েছিল, সেই ক্লাবই কিনা এবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রিমিয়ারে খেলার স্বপ্ন পূরণ করেছে!

default-image

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাইফুর রহমান যেন ঘোর লাগা বিস্ময়ের মধ্যে আছেন, ‘আমার সংগঠকজীবনে এত আনন্দ কখনো পাইনি। ক্লাবের বয়স বেশি দিন হয়নি। এত তাড়াতাড়ি প্রিমিয়ারে সুযোগ পাওয়া অবশ্যই বড় অর্জন আমাদের জন্য। অনেক দল ৩০ থেকে ৪০ বছর দ্বিতীয় বিভাগে খেলেও প্রথম বিভাগে উঠতে পারে না। সে হিসাবে আমাদের জন্য এটা বিশাল সাফল্য। আমরা যখন দল গড়ি, তখন চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ ছিল না। কিন্তু তখন থেকেই আমাদের স্বপ্ন ছিল আজ হোক বা ১০ বছর পর হোক, একদিন প্রিমিয়ার লিগে খেলবই। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

প্রিমিয়ার লিগে এসেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি ফেনী সকার, কক্স ইউনাইটেডের মতো ক্লাবগুলো। কিন্তু স্বাধীনতা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাইফুর রহমান চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত, ‘প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য যে পেশাদারত্ব থাকা দরকার, তা হয়তো আমাদের নেই। কিন্তু তারপরও চেষ্টা করব প্রিমিয়ারে টিকে থাকতে। এ জন্য এখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।’

default-image

চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ৭ মাস ক্যাম্প করতে প্রায় কোটি টাকা খরচ করে দলটি। এই দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে আর্থিক সহযোগিতা করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানের জন্য প্রশংসা ঝরল সাইফুরের কণ্ঠে, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ইমরুল ভাই আমাদের সহযোগিতা না করলে নিয়মিত ক্যাম্প চালানো কঠিন হয়ে যেত।’

ঈদের আগেই যেন ঈদের আনন্দ পেয়ে গেলেন কোচ মাসুদ জাহাঙ্গীর। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্যের আনন্দে তাঁর নির্ঘুম কেটেছে পরশু রাত, ‘আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি।’ কোচ দলের সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন ফুটবলারদের। পুরো লিগে মাত্র ১০ গোল খেয়েছে দলটি। গোলরক্ষক রাজু আহমেদ ও ডিফেন্ডারদের প্রশংসাই বেশি ঝরল কোচের কণ্ঠে, ‘আমার এই দলের গোলকিপার ও ব্যাক ফোর ছিল অসাধারণ।’

default-image

কালই ঈদুল আজহা। তাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ সেভাবে উদ্‌যাপন করেনি ক্লাবটি। ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের সবাই বাড়ি ফেরার জন্য ব্যস্ত। তবে ঈদ শেষে বড় রকমের আয়োজন অপেক্ষা করছে ক্লাবের সবার জন্য।

ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাইফুর রহমান সেই আভাসই দিলেন, ‘আগে প্রথম বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘটা করে উদ্‌যাপন করেছি। এবারও বড় পরিসরে উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা আছে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন