‘এই মোটু রোনালদো, বাইরে এসো!’
কত স্বপ্ন ছিল তাঁর! নিজেরই ছোটবেলার ক্লাবের মালিকানা কিনে নিয়েছেন, নতুন করে ক্লাবটাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে নেবেন, আবার ফেরাবেন ব্রাজিলের ফুটবলের শীর্ষে। সে পরিকল্পনায় কতটা সফল হবেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো, তা সময় বলবে। তবে নিজের ক্লাবেই সমর্থকদের রোষের মুখে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।
এক মাসও হয়নি ব্রাজিলে নিজের প্রথম ক্লাব ক্রুজেইরোর মালিকানা কিনেছেন রোনালদো। কিন্তু ক্লাবে অনেক দিন খেলা গোলকিপার ফাবিও ‘নতুন প্রশাসনে’র সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ঝামেলার জেরে ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর রোনালদোর বিরুদ্ধেই খেপেছেন ক্রুজেইরোর সমর্থকেরা। শত শত সমর্থক মিছিল করেছেন ক্লাবের অনুশীলন মাঠের বাইরে, স্লোগানে ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ জেতানো রোনালদোর মুটিয়ে যাওয়া নিয়েও খোঁচা মেরেছেন তাঁরা!
১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে রোনালদোর পেশাদার ফুটবলে অভিষেকই হয়েছিল ক্রুজেইরোর হয়ে। তবে প্রথম মৌসুমেই ১৪ ম্যাচে ১২ গোল করা রোনালদোর দিকে চোখ পড়ে ইউরোপের ক্লাবগুলোর, এক মৌসুমের বেশি তাই ক্রুজেইরোতে খেলা হয়নি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের। পরের মৌসুমেই যোগ দেন নেদারল্যান্ডসের ক্লাব পিএসভি আইন্দহফেনে।
সেখান থেকে বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলানের জার্সিতে ইউরোপ মাতানো। এরপর ২০০৯ সালে আবার ব্রাজিলে ফেরেন ঠিকই রোনালদো, তবে সেটি করিন্থিয়ানসের জার্সিতে। দুবছর সেখানে খেলেই অবসর। সে কারণেই কিনা, ক্রুজেইরোর প্রতি বাড়তি দায়িত্ব অনুভব করছিলেন রোনালদো।
বেলো হরিজন্তে অঞ্চলের ক্লাবটি ব্রাজিলের ফুটবলে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর একটি ঠিকই, কিন্তু এখন আর সেরাদের সারিতে নেই। শীর্ষস্তরের লিগেই এখন আর খেলছে না! দুই বছর ধরে দ্বিতীয় বিভাগে খেলা ক্রুজেইরোর শীর্ষ স্তরে ফেরার স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ক্লাবটির আর্থিক দুর্গতিও। দেনার দায়ে জর্জরিত ক্লাবটিকে গত মাসে ৭ কোটি ডলার খরচ করে কিনে নেন রোনালদো।
এর আগে স্পেনের প্রথম বিভাগের ক্লাব রিয়াল ভায়াদোলিদেরও সিংহভাগ শেয়ার কিনে নিয়েছিলেন রোনালদো। ক্রুজেইরোকে নিয়ে দুটি ক্লাবের মালিকানা হয়ে গেল তাঁর! তবে ক্রুজেইরো দেনার দায়ে জর্জরিত বলেই ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার পর রোনালদো ঘোষণা দেন, ক্লাবের বেতন ও অন্যান্য খরচ কমাতে হবে সবার আগে। সেটি করতে গিয়েই কি ঝামেলাটা বাধল? হয়তো।
২০০৫ সালে ক্রুজেইরোতে যোগ দেওয়া গোলকিপার ফাবিওর চুক্তি নিয়েই ঝামেলাটা বেধেছে। সমর্থকদের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে ৪১ বছর বয়সী ফাবিও জানিয়ে দেন, তিনি ক্লাব ছাড়ছেন। কারণটা ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘আমার চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে ক্লাবের (আগের প্রশাসনের) সঙ্গে সমঝোতা হয়েই ছিল। কিন্তু এই নতুন প্রশাসন আমাকে সে সুযোগ দিচ্ছে না।’
ক্রুজেইরোর হয়ে ৯৭৬ ম্যাচে খেলা ফাবিও জানান, আগের প্রশাসনের সঙ্গে এক বছরের জন্য চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে সমঝোতা হলেও নতুন প্রশাসন তাঁকে মাত্র তিন মাসের জন্য চুক্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি শুনে তিনি কষ্ট পেয়ে কেঁদেছেন বলেও জানিয়েছেন ফাবিও। ফাবিওর ঘোষণার পর ক্রুজেইরো অবশ্য নিজেদের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে ফাবিওকে সম্মান জানিয়ে অনেক টুইট করেছে, কিন্তু ফাবিওর অভিযোগের জবাব কোনো টুইটে দেয়নি।
এতেই খেপেছে ক্লাবের সমর্থকেরা। ক্রুজেইরোর সংগঠিত সমর্থক গোষ্ঠী ক্লাবের অনুশীলন মাঠের সামনে এসে মিছিল করে, সেখানে তাঁদের স্লোগান ছিল, ‘মোটা রোনালদো! বাইরে এসো, সবকিছুর ব্যাখ্যা দাও!’