ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।
ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।ছবি: রয়টার্স

চ্যাম্পিয়নস লিগ আজ দুর্দান্ত ম্যাচ নিয়ে হাজির হচ্ছে। একদিকে প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে মাদ্রিদে হাজির হচ্ছে লিভারপুল। ওদিকে আক্রমণাত্মক ফুটবলের নিশ্চয়তা দেওয়া এক ম্যাচ ডাকছে ম্যানচেস্টার থেকে।

সেখানে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে আতিথ্য দিচ্ছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। সে ম্যাচের আগে ডর্টমুন্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বারবার একজনের নামই মুখে তুলতে হয়েছে পেপ গার্দিওলাকে, আর্লিং হরলান্ড।

ডর্টমুন্ডের এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার এখন বিশ্ব ফুটবলের ‘হট কেক’। তাঁকে পাওয়ার জন্য পরাশক্তিরা সবাই লাইন ধরে নেমেছে। সে লাইনে সবচেয়ে এগিয়ে থাকার কথা ম্যানচেস্টার সিটির।

করোনার এ সময়ে আর্থিকভাবে সবচেয়ে কম ভুক্তভোগীদের তালিকা করলে পিএসজির পর ম্যানচেস্টার সিটিই থাকবে। সেই দলের কোচই কি না প্রতিদিন দাবি করছেন, তাঁর ক্লাবের হাতে বেশি অর্থ নেই। হরলান্ডকে কেনার মতো তো অবশ্যই নয়।

বিজ্ঞাপন

গার্দিওলা সপ্তাহের শুরুতেই একবার বলেছিলেন, হরলান্ডকে কেনা সম্ভব নয়। আজকের ম্যাচ উপলক্ষে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে গতকাল আরও একবার সে সুরই শোনাতে চাইলেন। প্রথমে বলতে চাইলেন, এত অর্থ দিয়ে কাউকে কেনা সম্ভব নয় সিটির পক্ষে। আবার বলেছেন, নতুন করে ভাবতে চাইতে পারে ক্লাব!

গত সপ্তাহের শেষে হরলান্ডের মুখপাত্র মিনো রাইওলা ও বাবা আলফি হরলান্ড ইউরোপ সফরে বেড়িয়েছেন। প্রথমে স্পেনে গিয়ে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের হর্তাকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। এরপর ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা এ দুজনের। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, সিটি, লিভারপুল ও চেলসির সামনেও মুলো ঝোলানোর কাজটা করতে চান রাইওলা। আলফি হরলান্ড নিজে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলেছেন। ছেলেও সিটির প্রতি দুর্বলতার কথা জানিয়েছেন আগে।

ওদিকে সের্হিও আগুয়েরো সিটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। এমন একজন স্ট্রাইকারের শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইতেই পারে দল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বয়স, দক্ষতা ও দলবদলের অঙ্ক মিলিয়ে সিটির সঙ্গেই হরলান্ডের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে দিচ্ছিলেন সবাই।

কিন্তু সপ্তাহের শুরুতে গার্দিওলাকে অমন প্রশ্ন করতেই ক্ষেপে উঠেছিলেন। তাঁর নাকি কোনো স্ট্রাইকার কেনার মতো টাকা নেই, ইচ্ছাও নেই, ‘এই দামে আমরা কোনো স্ট্রাইকার কিনব না। এটা অসম্ভব, আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রথম দলে আমাদের বহু খেলোয়াড় আছে, একাডেমিতে অনেক আকর্ষণ জাগানিয়া খেলোয়াড় আছে। বিশ্ব ফুটবলে যে অবস্থা, আমরা এ মৌসুমে কোনো স্ট্রাইকার কিনব না। সব ক্লাবই আর্থিকভাবে ধুঁকছে, আমরাও। ওই জায়গায় খেলার মতো খেলোয়াড় হিসাব করলে আমাদের গাব্রিয়েল (জেসুস) আছে, ফেরান (তোরেস) আছে, যারা এ মৌসুমে এই পজিশনে দারুণ খেলেছে। বর্তমানে আরেকটা স্ট্রাইকার না কেনার সম্ভাবনাই বেশি।’

অথচ এর মধ্যেই আবার নতুন করে খবর বেড়িয়েছে হরলান্ডকে কিনতে চায় সিটি। ডর্টমুন্ড যদি এই মৌসুমে হরলান্ডকে বিক্রি করতে রাজি হয়ও, তবে ১৫ কোটি ইউরো খরচ করতে হবে। বার্সেলোনা কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের এই অর্থ জোগাড় করতে বেগ পেতে হবে, কিন্তু সিটির জন্য এটা তেমন কিছু নয়। ইংল্যান্ডের ডেইলি স্টার জানিয়েছিল, বারবার ইউরোপ থেকে ছিটকে পড়ার ব্যর্থতা ঢাকতে সত্যিকারের একজন নাম্বার নাইন খুঁজছে সিটি। আর হরলান্ডের মতো একজনকে পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় তারা।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তাই আবারও হরলান্ডের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। প্রথমেই গার্দিওলা হরলান্ডের স্তুতিবাক্য গেয়ে নিয়েছেন, ‘সে দুর্দান্ত, এটা সবাই জানে। একজন অন্ধ ব্যক্তিও বুঝতে পারেন, সে অসাধারণ। এটা বুঝতে কোচ হওয়ার দরকার হয় না।’ এমন দুর্দান্ত একজনকে কীভাবে আটকাতে হয়, সেটাও জানিয়েছেন, ‘যে স্ট্রাইকার অনেক গোল করে তার বক্সে থাকলে আরও বেশি গোল করে। আমাদের বক্স থেকে যত দূরে থাকবে, তারা সুযোগ কম পাবে।’

বিজ্ঞাপন

এত গেল ম্যাচের আগের গৎবাঁধা কথাবার্তা। সব ম্যাচের আগেই প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড় নিয়ে এমন প্রশংসাবার্তা শোনান কোচেরা। মূল প্রসঙ্গে নিজের মতটাও জানিয়েছেন সিটি কোচ। এবার একটু অন্যভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন গার্দিওলা। তবে এ যুক্তি এর আগেও বহুবার ব্যবহার করেছেন। মাত্র একজন খেলোয়াড়ের পেছনে ৯ অঙ্কের অর্থ খরচে বরাবরই অনীহা জানিয়েছেন পেপ গার্দিওলা।

হরলান্ড যত ভালোই হোক না কেন, এত খরচ তাঁর পেছনে করতে আগ্রহী নন গার্দিওলা, ‘একজন খেলোয়াড়ের পেছনে অনেক অর্থ ঢাললেই সাফল্যের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। ফুটবল একটা দলীয় খেলা। এখানে সবাইকে অবদান রাখতে হয়। এখন পর্যন্ত ক্লাব কোনো খেলোয়াড়ের জন্য ১০ কোটির কাছাকাছি খরচ করতে রাজি হয়নি।’

এত দিন রাজি হয়নি, সেটা সত্যি। সিটিতে যাওয়ার পর গার্দিওলার উল্লেখযোগ্য সব ব্যয় রক্ষণেই করেছেন। রক্ষণ জমাট করার পেছনে অনেক ব্যয় করে অবশেষে ফল পেতে শুরু করেছেন স্প্যানিশ কোচ। এবার আক্রমণেও বড় ধরনের বিনিয়োগের কথা ভাবতেই পারে ক্লাব।

অন্তত সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এসে সে ইঙ্গিত কিন্তু দিয়ে দিয়েছেন গার্দিওলা, ‘হয়তো ভবিষ্যতে এটা পারে। যখন ক্লাবের মনে হবে আগামী ৫ বা ১০ বছরের জন্য দলের উন্নতি করা দরকার। এখন পর্যন্ত ক্লাব, প্রতিষ্ঠান, ক্লাবের প্রধান নির্বাহী ও ক্রীড়া পরিচালকের এটা করার ইচ্ছা হয়নি, তাই আমরাও করিনি (বড় অদলবদল)। কিন্তু হয়তো ভবিষ্যতে করব।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন