একসময় পিতার আসনে বসানো কোচের কথায় চটে যেতে পারেন রোনালদো

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোছবি: এএফপি

কার্লোস কুইরোজকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে সহকারী কোচ হিসেবে পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ তারকাকে ইউনাইটেডে ভিত গেড়ে বসতে দারুণ সহায়তা করেছেন কুইরোজ।

পর্তুগিজ এ কোচকে তখন পিতার আসনে বসিয়েছিলেন রোনালদো। একবার ইউনাইটেডের অনুশীলনে রোনালদোকে ভুল করে একটি ট্যাকল করেন রুদ ফন নিস্টলরয়।

ডাচ স্ট্রাইকার এরপর খোঁচা মেরে রোনালদোকে বলেন, ‘কী করবে? তোমার বাবার কাছে অভিযোগ করবে?’ কয়েক মাস পর নিস্টলরয়কেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়তে হয়।

কিন্তু রোনালদোর সঙ্গে কুইরোজের সম্পর্কটা এক রকম থাকেনি। ইউনাইটেড ছেড়ে ২০০৮ সালে পর্তুগাল জাতীয় দলে কোচের দায়িত্ব নেন কুইরোজ। এর পর থেকেই দুজনের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।

কুইরোজের খেলার কৌশলের সমালোচনা করেন রোনালদো। ২০১০ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারার কারণ হিসেবে কুইরোজের খেলানোর কৌশলকে দায়ী করেছিলেন ইউনাইটেড তারকা। পরে রোনালদো ক্ষমা চাইলেও দুজনের সম্পর্ক আগের মতো থাকেনি। কুইরোজ তখন স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘আমরা এখানে বন্ধু হতে আসিনি। পর্তুগালের যেমন রোনালদোকে দরকার, তেমনি রোনালদোরও পর্তুগালকে প্রয়োজন।’

মিসরের কোচ কার্লোস কুইরোজ
ফাইল ছবি: এএফপি

সে যা হোক, এত দিন পর রোনালদো-কুইরোজ সম্পর্কের শিকড় টেনে বের করার কারণ মোহাম্মদ সালাহ। কুইরোজ এখন মিসর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ। তাঁর অধীন আফ্রিকান কাপ অব নেশনস খেলছেন লিভারপুল তারকা সালাহ। তাঁকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেছেন কুইরোজ, যা শুনে চটে যেতে পারেন রোনালদো।

কুইরোজ অন্তত এমনটাই মনে করেন, ‘আপনারা হয়তো একমত হবেন, আমাদের দলে গ্রহের সেরা ফুটবলারটি আছে। তবে আমার বন্ধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এ কথা শুনলে মন খারাপ করবে।’

এক দশকের বেশি সময় ধরে সেরা ফুটবলারের দৌড়ে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেই এগিয়ে রাখা হয়। তবে ৩৬ বছর বয়সী রোনালদোর ফর্ম আর আগের মতো নেই।

এদিকে সালাহ ইংলিশ ফুটবল মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ মৌসুমে ২৬ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন সালাহ। এ ছাড়া ৯টি গোল বানিয়েও দিয়েছেন। নেশনস কাপে সবচেয়ে সফল দল মিসর এবারও সালাহর ওপর ভরসা রেখেই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে।

কুইরোজ ও রোনালদো। কুইরোজ যখন পর্তুগাল দলের কোচ ছিলেন
ফাইল ছবি: এএফপি

৯ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে কুইরোজ বলেন, ‘আমরা নেশনস কাপে ঘোরাফেরা করতে যাচ্ছি না। আমরা জিততে যাচ্ছি। তাই জয়ের মানসিকতা প্রয়োজন। সালাহর তা আছে এবং সে দলের মধ্যে তা প্রোথিত করতে পারে। সে এখন বিশ্বের সেরা ফুটবলার এবং সে কারণেই তার ওপর আস্থা আছে। তবে আমরা একটি দল। বিশ্বের সেরা ফুটবলার থাকায় দলের মানসিকতা ঠিক পথেই থাকবে বলে মনে করি।’