টটেনহাম কোচ জোসে মরিনিও
টটেনহাম কোচ জোসে মরিনিওছবি: এএফপি

জোসে মরিনিওকে কোচ হিসেবে পেয়ে ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন যেন নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ড হিউং মিন সনের সঙ্গে আক্রমণভাগে গড়ে তুলেছিলেন দুর্দান্ত জুটি।

কখনো কেইন গোল করছেন, সন সহায়তা করছেন, না হয় সন গোল করছেন, কেন করছেন সহায়তা। এই মৌসুমে এমন দৃশ্য নিয়মিত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হুট করে এক চোটের কারণে এখন মরিনিওর সাজানো সংসার তছনছ হওয়ার জোগাড়!

গত রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ৩-১ গোলে হেরে বসেছে মরিনিওর টটেনহাম। খারাপ সংবাদ এখানেই শেষ নয়।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ শেষে জানা গেছে, বেশ বাজে গোড়ালির চোটে পড়েছেন হ্যারি কেইন। প্রথমার্ধ শেষে কেইনকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাঁর জায়গায় নামানো হয় আর্জেন্টাইন উইঙ্গার এরিক লামেলাকে।

তখনই সন্দেহ করা হয়েছিল যে খারাপ কিছুই হয়েছে এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের। ম্যাচ শেষে সেটাই নিশ্চিত করেছেন মরিনিও।

মরিনিও জানিয়েছেন, অন্তত কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন তাঁর আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র, ‘দুই গোড়ালিতেই চোট পেয়েছে। প্রথমে থিয়াগোর একটা বাজে ট্যাকলের কারণে ও চোটে পড়েছে, পরেরবার কেন ব্যথা পেল, আমিও ঠিকভাবে জানি না। তবে দুই গোড়ালিতে দুই চোট, ভালো কিছু না। দ্বিতীয় চোটটা আবার প্রথমটির চেয়ে খারাপ। হয়তো কয়েক সপ্তাহ লাগবে ওর মাঠে ফিরে আসতে, ঠিক বলতে পারছি না।’

default-image

তবে মরিনিও বেশ ভালোই জানেন, কেইনের অনুপস্থিতি বেশ ভালোই ভোগাবে টটেনহামকে, ‘কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের কোনো বিকল্প নেই। এখন চোটে পড়লে তো কিছু করার নেই। আমাদের লড়াই করে যেতে হবে আরকি। এ ছাড়া কিছু করার নেই আমাদের।’

এই মৌসুমে ১৯ লিগ ম্যাচে ১২ গোল করে ফেলেছেন কেইন। তবে সবচেয়ে নজর কেড়েছে নিচে নেমে তাঁর গোলসহায়তা করার প্রবণতা। ১১টি গোলে সহায়তা করেছেন কেইন, যার বেশির ভাগ সুফল ঘরে তুলেছেন আক্রমণসঙ্গী সন।

এমনকি গত রাতেও তিন মিনিটের মধ্যে কেইনের সহায়তায় আরেকটা গোল করেই ফেলেছিলেন সন। কিন্তু অফসাইডে খাঁড়ায় পড়ে সে গোল বাতিল হয়।

default-image

ম্যাচ হারের ফলে কিছুদিন আগেও পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা টটেনহামের অবস্থা এখন বেশ খারাপ। ১৯ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে আছে তারা। শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে আট পয়েন্টে পিছিয়ে আছে মরিনিওর দল।

যদিও হাতে থাকা একটি ম্যাচ জিতলে পঞ্চম স্থানে চলে আসবে ক্লাবটি। কিন্তু আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার জন্য যে ন্যূনতম চতুর্থ স্থানে থাকতে হবে, হ্যারি কেইনকে ছাড়া ওই লক্ষ্য মরিনিও কীভাবে মৌসুম শেষে পূরণ করেন, সেটাই দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন