তাঁর বয়স একটা বড় সমস্যা। এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে ইউরোপের বড় কোনো ক্লাবে যাওয়ার প্রশ্নে। গত মৌসুমটা রামোস পার করেছেন চোটে চোটে। এটিও বড় একটা নিয়ামক হতে পারে তাঁর দলবদলে।

তবে মাঠে দলের জন্য নিজেকে নিংড়ে দেওয়া, অসাধারণ নেতৃত্বগুণ—রামোসের এ দিকগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। এমনকি শারীরিক সামর্থ্যে এখনো অন্তত দুই-তিন মৌসুম ভালো পারফরম্যান্স করার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র মতে, অন্তত আরও দুটি মৌসুম চুটিয়ে খেলার সামর্থ্য রয়েছে রামোসের।

স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ইতালির নাম আগে উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। কারণ, সেখানে কর ব্যবস্থা তুলনামূলক সহজ। ‘ফুটবল ইতালিয়া’ জানিয়েছে, গত বছরের শেষ থেকে রামোসের ব্যাপারে রিয়ালের সঙ্গে কথা বলছে জুভেন্টাস। রিয়ালে রামোসের সাবেক সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নাকি তাঁকে ইতালিয়ান ক্লাবটিতে সতীর্থ হিসেবে চেয়েছিলেন। গত জানুয়ারিতে এ খবর বেরিয়েছিল সংবাদমাধ্যমে।

ইংল্যান্ডও রামোসের জন্য সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে। সেটি হলে ম্যানচেস্টারের যেকোনো এক অংশে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি—দুটি ক্লাবেরই আগ্রহ আছে রামোসকে ঘিরে।

চলতি মাসের শুরুতে রামোসের সম্ভাব্য দলবদলের খবরে ‘স্কাই স্পোর্টস’ জানিয়েছিল, তাঁকে কিনতে আগ্রহী পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটি দুই বছরের চুক্তি করতে চায় রামোসের সঙ্গে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে রামোসকে পাওয়ার দৌড়ে সিটি সম্ভবত বাকিদের চেয়ে এগিয়ে। স্প্যানিশ তারকার এজেন্ট সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন ক্লাবটির সঙ্গে।

এরিক গার্সিয়ার প্রস্থান এবং আয়মেরিক লাপোর্তের সম্ভাব্য ক্লাববদলের বিষয়টি মাথায় রেখেই নাকি সিটি আগ্রহী। রুবেন দিয়াস, জন স্টোনস ও নাথান আকের সঙ্গে রামোসের মতো সেন্টারব্যাক পেলে খুশিই হবেন গার্দিওলা। আর সিটি যে মেয়াদে চুক্তি করতে চাচ্ছে, সেটিও মনে ধরতে পারে রামোসের। রিয়ালের সঙ্গে রামোসের মেলেনি এ জায়গাতেই। নতুন চুক্তিতে রামোস দুই বছর চেয়েছিলেন। কিন্তু রিয়াল তাঁর সঙ্গে এক বছরের বেশি চুক্তি করতে রাজি নয়।

এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একজন অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক খুঁজছে। ২০১৬ সালে রামোসই একবার জানিয়েছিলেন, আরেকটু হলেই তিনি নাকি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিতেন! তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইউনাইটেড। এখন সেন্টারব্যাক পজিশনে হ্যারি ম্যাগুয়ারের সঙ্গে অভিজ্ঞ একজনকে চান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ ওলে গুনার সুলশার।

ফ্রান্সের পিএসজির কথা ভুলে গেলেও চলবে না। ইউরোপের সেরা হতে মরিয়া পিএসজি নিজেদের রক্ষণভাগ ঠিক করতে রামোসকে কেনার চেষ্টা করতে পারে। গত বছর থিয়াগো সিলভা চলে গেছেন। সে শূন্যস্থান তাই রামোসকে দিয়ে পূরণ করতে পারেন পিএসজি সভাপতি নাসের আল খেলাইফি।

এসব বড় ক্লাবের বাইরে রামোসের জন্য আরেকটি জায়গা হতে পারে সেভিয়া। স্পেনের এ অঞ্চলে জন্ম নেওয়া রামোস বেড়ে উঠেছেন সেভিয়ার বয়সভিত্তিক দলে। ২০০৪ সালে ক্লাবটির মূল দলে নাম লেখান রামোস। তিন মৌসুম সেখানে খেলার পর ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে যোগ দেন রিয়ালে। বাকিটা পাঁচটি লিগ ও চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ইতিহাস।

রামোসের স্ত্রী এখন সেভিয়ায় থাকেন এবং সেখানেই কাজ করেন। ক্যারিয়ারের গোধূলিতে এসে জীবনসঙ্গীকে সময় দিতে পারাটা মন্দ হয় না তাঁর জন্য। তা ছাড়া প্রথম পেশাদার ক্লাবে ফেরাটাও তো দারুণ ব্যাপার, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল এক অনন্য অভিযাত্রা!