default-image

পরাজয়ের অনুভূতি কতটা কষ্টের, এ মুহূর্তে মামুনুলদের চেয়ে ভালো বুঝবে কে? বাংলাদেশ অধিনায়ক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দল সেমিফাইনালে খেলবে। অনেক অনিশ্চয়তার পরও সে ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছিল। এরপর স্বপ্নের পালে লাগল জোর হাওয়া—ফাইনাল জিতে সোনালি ট্রফিটা ছোঁবে বাংলাদেশ।
খেলার পুরো ৯০ মিনিট পর্যন্ত উজ্জ্বলও থাকল স্বপ্নটা। শেষ বাঁশি বাঁজতে মিনিট খানেক বাকি। মীমাংসা অতিরিক্ত সময়ে হবে—এমন ভাবনা যখন মাথায়, ঠিক তখনই কর্নার পেল মালয়েশিয়া। উড়ে আসা বলটি ফাইজাতের মাথা ছুঁয়ে জালে! মুহূর্তেই শোকবাড়িতে পরিণত হলো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারি। তীরে এসে তরি ডোবার যাতনায় নীল বাংলাদেশ শিবির। কান্নায় ভেঙে পড়লেন মামুনুল-রায়হানেরা। বিমর্ষ, বিষণ্ন পুরো দল। পুরো দেশও কি নয়?
বিষাদ ভর করেছে লোডভিক ডি ক্রুইফের ওপরও। পেশাদার কোচ হলেও আবেগের ঊর্ধ্বে যাওয়ার সাধ্য কার? ডাচ কোচ সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘যদি আমরা ৩-০ গোলেও হেরে যেতাম তবু ঠিক ছিল। কিন্তু শেষ মিনিটের গোলে এভাবে! কিছুতেই এ হার মেনে নিতে পারছি না। ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। শুধু আমি কেন, পুরো জাতিই দুঃখ পেয়েছে। চেয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু কাপটা এ দেশেই থাকবে। কিন্তু পারলাম না।’
চোটের কারণে সেমিফাইনালে ওঠার নায়ক হেমন্তকে হারাতে হলো ম্যাচের আগেই। একই কারণে ম্যাচের ৭ মিনিটেই উঠে গেলেন আরেক গুরুত্বপূর্ণ সেনানি জাহিদ। হারের পেছনে এটাকেও অন্যতম কারণ বললেন ডি ক্রুইফ, ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এভাবে হেমন্ত ও জাহিদের মতো ফুটবলারকে হারানো যে কোনো কোচ ও দলের জন্যই কষ্টদায়ক।’
টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন জামাল ভূঁইয়া। বিষণ্ন মনেই সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফিটা নিলেন বাংলাদেশ মিডফিল্ডার। ছবিটা যেন মারাকানার গত বিশ্বকাপ ফাইনালের কথাই মনে করিয়ে দেয়। দলের পরাজয়ের কষ্ট বুকে নিয়ে লিওনেল মেসিকে নিতে হয়েছিল টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।
ফুটবল এমনই—কখনো ভাসাবে আনন্দের জোয়ারে আবার কখনো উপহার দেবে নিষ্ঠুরতম মুহূর্ত!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন