সাদ উদ্দিনরা আজ ঝলক দেখাতে পারেননি।
সাদ উদ্দিনরা আজ ঝলক দেখাতে পারেননি। ছবি: শামসুল হক

বাংলাদেশ ০: ০ নেপাল

প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলের জয়ে মুজিব বর্ষ সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় ম্যাচটিও জিতে সিরিজটি ২-০ করতে চেয়েছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। চাওয়া পূর্ণ করতে করতে পারেননি জামালরা। সিরিজ জিতলেও ম্যাচটি জেতা হয়নি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নেপাল দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়েছে গোলশূন্য ড্র।

কেমন হয়েছে ম্যাচটি, তা একটি তথ্য দিলেই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। দুই অর্ধ মিলিয়ে দুই দলের গোলরক্ষকের একজনকেও কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি। বলা ভালো পরীক্ষা নিতে পারেনি কোনো দল। দু–একটি বল বার উঁচিয়ে বেরিয়ে গেছে বা ভালো মুভ হয়েছে । এ ছাড়া শেষ দিকে নেপাল ফরোয়ার্ড নবযুগ শ্রেষ্ঠার একটি হেড সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসা ছাড়া ম্যাচ রিপোর্টে উল্লেখযোগ্য লেখার মতোই কিছু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  

বিজ্ঞাপন
প্রথমার্ধে দুই দল মিলিয়ে উল্লেখ করার মতো সুযোগ মাত্র দুটি। দুটি সুযোগই বাংলাদেশের। তবে পুরোপুরি সুযোগ তৈরি বললেও অন্যায় হতে পারে।

সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিসের অধীনে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। নেপালের পরিবর্তন ছিল পাঁচটি। লম্বা বিরতির পর প্রথম ম্যাচে দুই দলের খেলার মধ্যে যে জড়তা ছিল, সেটি কাটিয়ে উঠে পাসিং ফুটবল দেখা গেছে আজ। আগের ম্যাচের তুলনায় দেখার জন্য যা সুন্দর হলেও কার্যকারিতা আর প্রমাণ করতে পারল কোথায়!

প্রথমার্ধে দুই দল মিলিয়ে উল্লেখ করার মতো সুযোগ মাত্র দুটি। দুটি সুযোগই বাংলাদেশের। তবে পুরোপুরি সুযোগ তৈরি বললেও অন্যায় হতে পারে। ২৪ মিনিটে বাংলাদেশ স্ট্রাইকার সুমন রেজার জোরালো একটি শট ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে। গ্যালারিতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বসা দর্শকেরা একটু ‘উঁহ...’ করল এই যা। ৭ মিনিট পর আরও একটি সুযোগ পেয়েছিলেন সুমন। ডান প্রান্ত থেকে জীবনের ক্রসে গোলমুখে ঠিকঠাক পা লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের জার্সিতে আজ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলা এই স্ট্রাইকার।

এ ছাড়া ডান প্রান্ত দিয়ে নেপাল রক্ষণভাগকে বারবার ঝাঁকুনি দিয়েছে উইঙ্গার সাদ উদ্দিন। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসা রাজিন ধিমালকে বারবার বেসামাল করে তুলতে পারলেও ভালো ক্রসের অভাবে সাদের আক্রমণগুলোয় পূর্ণতা আসেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুমন রেজার পরিবর্তে মাহবুবুর রহমান মাঠে প্রবেশ করলে একটু নড়েচড়ে বসতে পারেন দর্শকেরা। আগের ম্যাচে বদলি নেমে দুর্দান্ত একটি গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু আজ নেপাল রক্ষণভাগকে আর ঝাঁকি দিতে পারলেন কোথায়।

default-image

৬০ মিনিট পরে মানিক হোসেন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে তুলে সোহেল রানা ও বিপলু আহমেদকে মাঠে পাঠানো হয়। ৪-২-৩-১ থেকে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে চলে যায় বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে ১০ নম্বর পজিশন থেকে নাবিব নেওয়াজকে নিয়ে আসা হয় লেফট উইংয়ে। পায়ে বল রাখতে পারলেও নাবিব খেলাটিকে বারবার ধীর বানিয়ে ফেলেছেন। প্রতিবার তাঁর দেরি করে বল ছাড়ার অভ্যাসটা দর্শকদের ভালো লাগার কথা নয়।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয়ার্ধে বরং নেপালের আক্রমণভাগের ধার ছিল বেশি। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে ঢুকে তালগোল পাকিয়ে ফেলে বাল গোপালের শিষ্যরা। আগের ম্যাচে জিতে থাকায় সিরিজ জিততে ড্র প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের শেষের দিকে গোল হজম না করার দিকেই তপু বর্মণ ইয়াসিনদের মনোযোগ ছিল বেশি। তবু ম্যাচের শেষের দিকে বদলি নবযুগের হেড সাইড পোস্টে লেগে ফিরে না এলে দর্শকদের মন খারাপ করেই মাঠ ছাড়তে হতো।

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে অন্য রকম এক দৃশ্যও দেখা গেল মাঠে। পূর্ব গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে আসেন এক দর্শক। মাঠে ঢুকে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে সেলফি তোলার চেষ্টা করেন তিনি। নিরাপত্তাকর্মীরা মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান তাঁকে।

মন্তব্য পড়ুন 0