অবিশ্বাস্য সেই গোল খাওয়ার পর কোর্তোয়া।
অবিশ্বাস্য সেই গোল খাওয়ার পর কোর্তোয়া। ছবি: রয়টার্স

থিবো কোর্তোয়ার হাতজোড়া বিশ্বস্ত। তাতে ভরসা রাখতে পারেন পৃথিবীর যেকোনো কোচ। কিন্তু কোর্তোয়ার পাজোড়া? তাতে ভরসা রাখবেন কে! কিন্তু কোর্তোয়া তো গোলরক্ষক, তাঁর পায়ের কাজ কী, বলতে পারেন অনেকে। আছে...আছে পায়েরও দরকার হয় গোলরক্ষকদের। বেলজিয়াম-ডেনমার্ক ম্যাচে কোর্তোয়া পায়ের দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছেন নতুন করে।

রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে গত মৌসুমে লিগের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন।গোলরক্ষকদের পরম আরাধ্য জামোরা ট্রফি রিয়ালে এনেছেন ১২ মৌসুম পর। কাল কোর্তোয়ার গোল খাওয়া দেখলে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এমন একজন গোলরক্ষক অমন গোল হজম করেন কীভাবে! এ কী সেই কোর্তোয়া, গত বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে প্রায় একাই রুখে দিয়েছিলেন ব্রাজিলকে। নাকি সেই কোর্তোয়া—ওই বিশ্বকাপেই রাশিয়ার বিপক্ষে যিনি বুঝিয়েছিলেন গোলরক্ষকদের পাজোড়াও ঠিকঠাকমতো চালাতে জানতে হয়। সে ম্যাচে পাস দিতে গিয়ে কোর্তোয়া বল তুলে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের পায়ে। গোলের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সেরেছিলেন ডেনিস চেরিশেভ। কিন্তু কাল রাতে ডেনমার্কের বিপক্ষে কোর্তোয়া কাউকে ওই কাজটিও সারতে দেননি!

মানে, গোল হজম করায় কোর্তোয়া অন্য কাউকে অবদান রাখতে দেননি। ভুলটা দেখে যে কেউ বলবেন, এখানে রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষকের অবদান শতভাগ।

বিজ্ঞাপন

চেলসির জার্সিতে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও একটা সমালোচনা ছিল তাঁর, মাঝেমধ্যেই দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে গোল হতে দেন এই লম্বা গোলরক্ষক। তবে জিনেদিন জিদান রিয়ালের কোচ হয়ে আসার পর কোর্তোয়া এভাবে পায় গোল হজম করেছেন কি না, সেটি গবেষণার বিষয়। কিন্তু কাল দেশের জার্সিতে ওই মুহূর্তে ২৮ বছর বয়সী এ গোলরক্ষকের পায়ে কী ভর করেছিল কে জানে! ম্যাচে তখন ৮৬ মিনিটের খেলা চলছে। উইঙ্গার নাসের শাদলি ব্যাকপাস দিয়েছিলেন কোর্তোয়াকে। একেবারে নিরীহ গোছের ব্যাকপাস। ম্যানুয়েল নয়্যার হলে হয়তো ওসব সামলাতে ভ্রুক্ষেপই করতেন না, রোনালদিনহোর ‘নো লুক পাস’-এর মতো বলটা চালান করে দিতেন মাঝমাঠে।

পায়ের দক্ষতায় নয়্যার তো দূরে থাক, এমনকি তাঁর আগে রিয়ালের গোলবার সামলানো কেইলর নাভাসের মতোও নন কোর্তোয়া। কিন্তু শাদলির ব্যাক পাস সামলাতে কোর্তোয়া সম্ভবত অতি সাবধানী হয়ে পড়েছিলেন। ড্যানিশ আক্রমণভাগ ধারেকাছে থাকলেও ঝুঁকি বলতে কিছু ছিল না। কোর্তোয়ার পাঁচ গজ জায়গার মধ্যে কেউ ছিলেন না। তবু বলটা রিসিভ করতে গিয়ে কোর্তোয়া যখন আলগোছে পা নামাচ্ছিলেন, দর্শকদের কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দলের শীর্ষ গোলরক্ষক অমন ‘শো’ দেখাবেন।

default-image

কোর্তোয়া পা নামালেন ঠিকই, কিন্তু বল পায়ে ঠেকেনি। পা নামার আগেই বল গড়িয়ে গড়িয়ে চলে গেল, এরপর সোজা জালে! তাই দেখে কোমরে হাত দিয়ে অবাক বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাদলি। গোল হজমের পুরো দায়-দায়িত্ব কোর্তোয়ার হলেও স্কোরশিটে আত্মঘাতী গোলের পাশে লেখা হবে তাঁর নাম!

২৮ বছর বয়সী কোর্তোয়া বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। তবে যে কারও বাজে দিন যায়। কোর্তোয়া তারকা গোলরক্ষক বলেই তাঁর বাজে দিনগুলো মনে একটু বেশিই দাগ কেটে থাকার কথা। গত ফেব্রুয়ারিতে লেভান্তের বিপক্ষে রিয়ালের ১-০ গোলে হারের ম্যাচে একটি শট ঠেকানো থেকে অবিশ্বাস্যভাবে হাত সরিয়ে নিয়েছিলেন কোর্তোয়া। তবে কাল রাতে নেশনস কাপের ম্যাচে অবিশ্বাস্য ভুলে কোর্তোয়ার চেয়ে ক্লান্তিকেও বেশি দুষতে পারেন অনেকে। একের পর এক ম্যাচ গড়াচ্ছে। এই ক্লাব ফুটবল তো তার বিরতিতে মাঠে গড়াচ্ছে, প্রীতি ম্যাচ কিংবা নেশনস কাপ। ফুটবলারদের একটু বিশ্রাম তো লাগে! ঠিকঠাক বিশ্রাম না পেলে পা তো ধীরে নামবেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0