নেইমার ও এমবাপ্পেকে ধরে রাখতে পারবে পিএসজি?
নেইমার ও এমবাপ্পেকে ধরে রাখতে পারবে পিএসজি? ফাইল ছবি: রয়টার্স

নেইমারকে নিয়ে এখন অনেকে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নিতে পারেন। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেন তিনি। এরপর প্রতি দলবদলেই নেইমারের বার্সায় ফেরার গুঞ্জন উঠেছে। ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজেও এর আগে ক্যাম্প ন্যু-তে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বার্সার আর্থিক অবস্থা এখন খুব বাজে। কেউ কেউ বলছেন, কাতালান ক্লাবটির দেউলিয়া হওয়ার শঙ্কাও আছে। এই অবস্থায় নেইমারের কি বার্সায় ফেরা সম্ভব?

কিংবা প্রশ্নটা এভাবেও করা যায়, বার্সা কি নেইমারকে কেনার চেষ্টা করবে? যেখানে এই আর্থিক দুরবস্থার মধ্যেই মেসির পেছনে মৌসুমপ্রতি প্রায় ১৪ কোটি ইউরো খরচ হচ্ছে কাতালান ক্লাবটির। এর মধ্যে নেইমারের মতো তারকাকে মেসির কাছাকাছি অঙ্কের বেতন নিয়ে কেনাটা বার্সার জন্য কতটা বাস্তবসম্মত। নেইমার এই কথাটা ভালোভাবে বুঝতে পেরেই কি পিএসজিকে মনপ্রাণ সঁপে দিলেন?

ফরাসি ক্লাবটিতে আগের তিন মৌসুম যে মনপ্রাণ সঁপে খেলেনেনি, তা নয়। পেশাদার খেলোয়াড়দের এটাই মূল দায়িত্ব। নেইমার তা পালন করে এলেও এত দিন তাঁর মনের মধ্যে বার্সায় ফেরার একটা আশা ছিল। কিন্তু সেই আশাটুকু এখন বিসর্জন দিয়েছেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। অন্তত তাঁর কথায় এটুকু বিশ্বাস করতেই হবে। এই প্রথমবারের মতো পিএসজিতে নিজেকে ভালো থাকার কথাটা মুখ ফুটে বলেছেন নেইমার। তিনি থাকতে চান এই ক্লাবেই।

বিজ্ঞাপন

লিগ আঁ-তে কাল লরিয়েঁর বিপক্ষে জোড়া গোল করেন নেইমার। কিন্তু তাঁর দল পিএসজি হেরেছে ৩-২ গোলে। এ ম্যাচের পর ফরাসি টিভি চ্যানেল তেলেফুত আঁ-কে নেইমার বলেন, ‘আমি এখন সুখী। সত্যিকারের সুখী। অনেক কিছুই পাল্টেছে। কেন, কী কারণে পাল্টেছে—আমিই বদলে গেছি, নাকি অন্য কিছু বদলেছে, তা বলতে পারব না। কিন্তু এখন (পিএসজিতে) ভালো লাগছে। আমি আগের চেয়ে শান্তিতে আছি, মানিয়ে নিয়েছি। পিএসজিতে থাকতে চাই।’

শুধু বার্সা নয়, নেইমারকে কিনতে অন্য কোনো ক্লাব আগ্রহী থাকলে, তাদেরও এ কথায় হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। ৩৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ৩৩ বছর বয়সী লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার শেষ অধ্যায়ে এসে পড়েছে। ২৮ বছর বয়সী নেইমারই তো বর্তমান সময়ের তারকার প্রতিচ্ছবি! আরও একজন আছেন। তিনি নেইমারেরই সতীর্থ। ২২ বছর বয়সী বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি কিলিয়ান এমবাপ্পে।

পিএসজির আক্রমণভাগে এমবাপ্পের সঙ্গে জুটি বেঁধেই ত্রাস ছড়িয়ে থাকেন নেইমার। ইউরোপিয়ান ফুটবলের আক্রমণভাগে তাঁরা অন্যতম সেরা জুটি। মাঠের মতো মাঠের বাইরেও এমবাপ্পের সঙ্গে সম্পর্কটা জমে উঠেছে নেইমারের। সেটা কি পিএসজিতে থেকে যাওয়ার ভাবনা থেকে?

default-image

হতে পারে। আবার না-ও হতে পারে। নেইমারের মতো এমবাপ্পের পেছনেও তো ঘুরছে অনেক ক্লাব। রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের খবর নতুন না। গত মৌসুমেও জোরেশোরে গুঞ্জন উঠেছিল, এমবাপ্পের নতুন ঠিকানা হতে পারে রিয়াল। বর্তমান ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলও তাঁকে পেতে চায় বলে গুঞ্জন। কিন্তু ফরাসি ফরোয়ার্ড এখনো পিএসজিতে, আর নেইমারও চান তাঁদের জুটিটা অক্ষত থাকুক। এমবাপ্পেকে পিএসজিতেই থেকে যেতে বললেন নেইমার।

নেইমার সরাসরিই বললেন, ‘আমি চাই কিলিয়ানও (পিএসজিতে) থেকে যাক। আমার মনে হয় সেটা পিএসজির সব সমর্থকেরও চাওয়া। আমরা পিএসজিকে অসাধারণ দল বানাতে চাই। প্যারিসে আমি এখন পর্যন্ত প্রতিটি দিন যা করেছি, তা-ই করে যেতে চাই—ফুটবল খেলে সুখী থাকতে চাই। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

নেইমারের এই সুখী থাকায় এমবাপ্পের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ, সে কথাও বোঝা গেল ‘কিলিয়ানের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ভাইয়ের মতো। আমি ওর বড়। আমরা সত্যিই একসঙ্গে খেলতে পছন্দ করি।’
এমবাপ্পেকে পাশে নিয়ে পিএসজিতে তিনবার লিগ আঁ শিরোপা জিতেছেন ব্রাজিলের ফুটবলের বর্তমান পোস্টারবয়। তবে ‘ছোট ভাই’য়ের স্নেহে দেখেন বলেই কি না, এমবাপ্পের ভেতর থেকে আরও বেশি করে সেরাটা বের করে আনতে চান নেইমার, ‘আমি ওর সেরাটা বের করে আনতে চাই। ওকে “সোনার ছেলে” ডাকি কারণ ও সত্যিই সোনায় গড়া। হৃদয়টা অনেক বড় ওর। ফুটবলার হিসেবে ওর দাম আমরা সবাই জানি, কিন্তু মাঠের বাইরেও ও অসাধারণ। আমরা প্রায় একই রকম এবং নিজেদের শতভাগ সুখীই থাকতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন