বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

লা পারিসিয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অনেক বিতর্কিত কথাই বলেছেন এভরা। ফ্রান্সের জার্সিতে ৮১ ম্যাচ খেলা এভরা ক্যারিয়ারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস, মোনাকো, নিসের মতো ক্লাবেই বেশি সময় কাটিয়েছেন। ২০১৮ সালে অবসর নেওয়ার আগে এক বছর করে খেলেছেন মার্শেই আর ওয়েস্ট হামে। ভিন্ন ধরনের, ভিন্ন সংস্কৃতির অনেক ক্লাবে খেলে অভিজ্ঞ এভরাই জানালেন, প্রত্যেক ক্লাবেই নাকি অন্তত দুজন করে সমকামী থাকেন!

এভরার এই বক্তব্যই ইউরোপে অনেক সাড়া ফেলেছে, পাশাপাশি শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে মেসি আর এমবাপ্পেকে নিয়ে এভরার কথাগুলোও। মেসিকে নিয়ে এভরার মূল্যায়ন, যে উদ্দেশ্যে পিএসজি মেসিকে এত আগ্রহ নিয়ে দলে টেনেছে, সেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উদ্দেশ্য শুধু মেসিকে কেনাতেই পূরণ হয়ে যাবে না।

‘ওরা মেসিকে দলে টেনেছে, তবে ও পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারবে না। ব্যাপারটা দলগত, পুরো দলের মানসিকতারও ব্যাপার। মোটেও সহজ কাজ নয় এটা। আমি নিজে পাঁচবার ফাইনাল খেলে চারবার হেরেছি’—লা পারিসিয়েনে বলেছেন এভরা।

যে একবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন এভরা, সেটি মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে মিলে, ২০০৭-০৮ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে।

default-image

কাতারি অর্থধন্য হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সে ছড়ি ঘোরালেও ইউরোপে এখনো কপর্দকহীন পিএসজি। ক্লাবের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের খোঁজে তাই নেইমার আর এমবাপ্পেকে তো আগেই এনেছে, এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করা সের্হিও রামোসের পর বার্সেলোনায় চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করে ফেলা মেসিকেও দলে টেনেছে পিএসজি।

কিন্তু মৌসুমে এখন পর্যন্ত পিএসজির হয়ে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়াচ্ছেন এমবাপ্পেই। স্বদেশি তারকাকে নিয়েও কথা বলেছেন এভরা।

মেসির ব্যাপারে কোনো এক কারণে নাখোশ এভরা এমবাপ্পের চলনবলনেও খুশি নন। তাঁর চোখে, এমবাপ্পে বেশিই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। কথা বলার ধরনেও এমবাপ্পের মধ্যে ‘রাজনৈতিক নেতার’ ছাপ দেখেন এভরা। ‘ও বেশ পড়াশোনা করা একটা ছেলে। কিন্তু ওকে দেখে আমার মনে হয়, ও সব সময় একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে চলে। ওকে আমি অনেক পছন্দ করি, কিন্তু ও একটু বেশিই পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করে। সব দেখে মনে হয় যেন কিছু একটা লুকাচ্ছে। ওকে কথা বলতে দেখে মনে হয়, কোনো রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য শুনছি’—এমবাপ্পেকে নিয়ে এভরার বিশ্লেষণ।

default-image

মাঠেও এমবাপ্পে দলের চেয়ে নিজেকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন বলে মনে হয় এভরার, ‘আশা করি, মাঠে ও দলের ব্যাপারে বেশি ভাববে, নিজের গোল নিয়ে বেশি চিন্তা করবে না। কারণ, দিন শেষে দলই সবচেয়ে বড় তারকা, খেলোয়াড় নয়।’

হঠাৎ করে ধনী হওয়ার পর থেকেই ফ্রান্সের ফুটবলে ‘দাদাগিরি’ করে বেড়ানো পিএসজির প্রতি ফ্রান্সের অন্য ক্লাবগুলোর বিদ্বেষ নিয়েও সাক্ষাৎকারে বলেছেন এভরা। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজি ভালো না করতে পারলে ফ্রান্সের অন্য ক্লাবগুলোর সমর্থকেরা যেন খুশিই হন।

নিজে পিএসজির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী মার্শেইয়ে খেলেছেন। খেলেছেন নিস, মোনাকোর মতো ক্লাবেও। তবু অন্য ক্লাবগুলোর পিএসজির প্রতি এই বিরাগের কোনো অর্থ দেখেন না এভরা, ‘আমি মার্শেইয়ে খেলেছি। প্যারিসে বেড়ে উঠলেও আমি পিএসজির ভক্ত কখনো ছিলাম না। কিন্তু পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সময় ফ্রান্সের অন্য সব ক্লাব কেন তাদের বিপক্ষে থাকে, এটা বুঝি না।’

পিএসজি কখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটি জানিয়ে দিয়েছেন এভরা, ‘আমার চোখে ওরা তো ফ্রান্সেরই প্রতিনিধিত্ব করে (চ্যাম্পিয়নস লিগে)। ওরা যদি কাল (চ্যাম্পিয়নস লিগ) জিতে যায়, আমার খুব গর্ব হবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন