default-image

নাইজেরিয়ান ফুটবলার এলিটা কিংসলি ওসিওহা এখন বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের হয়ে খেলার। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সাফল্য এনে দেওয়ার। কিন্তু তিনি কি সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের জার্সিতে—এমন প্রশ্ন এসে যায় স্বাভাবিকভাবেই। তবে জাতীয় ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে তাঁর ব্যাপারে যথেষ্ট ইতিবাচক।

নেপালে তিন জাতি ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে যাবে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে চলছে জাতীয় দলের অনুশীলন। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে জেমির কাছে কিংসলের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেছেন, এলিটা কিংসলিকে বাংলাদেশ দলে ঢুকতে হবে নিজেকে প্রমাণ করেই, ‘বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যে কেউ জাতীয় দলে খেলার জন্য বিবেচিত হতে পারে। বিদেশি কেউ নাগরিক হলেই যে সে সুযোগ পাবে, ব্যাপারটা এমন নয়। নিজেকে প্রমাণ করে, স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়েই তাকে সুযোগ করে নিতে হবে। তবে আমি তার ব্যাপারে ইতিবাচকই।’

৩১ বছর বয়সী এলিটা কিংসলিকে জেমি খুব ভালো করেই চেনেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি ওকে গত মৌসুমে আরামবাগের হয়ে খেলতে দেখেছি। সে কয়েকটি গোলও পেয়েছে। তবে এখন কী অবস্থায় আছে, সেটি দেখতে হবে।’

জেমির নীতি কিছুটা ‘ধীরে চলো’ হলেও জাতীয় দলের ম্যানেজার বাংলাদেশের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার ইকবাল হোসেন এলিটা কিংসলিকে দ্রুত পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী, ‘আমরা সবাই ওকে চিনি। খুব ভালো খেলোয়াড়। আজ সকালে জানলাম সে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছে। কিংসলিকে জাতীয় দলে পেলে খুব উপকার হবে। ফেডারেশনের সঙ্গে আজই ওকে কতটা দ্রুত পাওয়া যায়, সে ব্যাপারে আলাপ করব।’

default-image
বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে কিংসলিকে পাওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা শুরু করেছে বসুন্ধরা কিংস। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্ব শেষে এখন লিগের মধ্যবর্তী দলবদল চলছে। ক্লাবটির সভাপতি ইমরুল হাসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন,‘কিংসলির সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা চলছে। সেও খেলার ব্যাপারে আগ্রহী।’

২০১১ সালে প্রথম বাংলাদেশে খেলতে আসেন কিংসলি। সেবার খেলেছিলেন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের জার্সিতে। এরপর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র আর বিজেএমসি হয়ে সর্বশেষ বাতিল হওয়া মৌসুমে আরামবাগে ফিরেছিলেন তিনি।। করোনার কারণে লিগ বাতিল হওয়ার আগে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু এবারের লিগে তিনি খেলেননি। ব্যস্ত ছিলেন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রচেষ্টায়। ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে মাতিয়েছিলেন তিনি। দেখিয়েছিলেন নিজের গোল করার ক্ষমতা। সে বছরই নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন কিংসলি। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে গত বছর শর্ত দেওয়া হয়, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে হলে আগে বাতিল করতে হবে নাইজেরিয়ার নাগরিকত্ব। সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই গত বছর দলবদলের আগে নাইজেরিয়ায় ফিরে যান তিনি। কিন্তু সময়মতো ফিরে আসতে না পারায় শেষ পর্যন্ত আর খেলা হয়নি। এখন স্থানীয় ফুটবলার হিসেবেই কিংসলিকে বসুন্ধরা কিংসে দেখা যাবে বলেই শোনা যাচ্ছে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন