হ্যারি কেইনও তেমন মনে করেন। ইংলিশ অধিনায়ক ইউরোর প্রথম তিন ম্যাচে ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। এতটাই যে তাঁকে বসিয়ে অন্য কাউকে খেলানোর দাবিও উঠে গিয়েছিল। ইংলিশ মিডিয়া রীতিমতো পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল ইংলিশ দলের জন্য কেইন এ মুহূর্ত কতটা বড় বোঝা।

গোল করা দূরের কথা, ভালোভাবে গোলে শটও নিতে পারছিলেন না। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে জার্মানির বিপক্ষে গোল পান কেইন। গোলটা এল শেষ ষোলোর বড় মঞ্চে। রাহিম স্টার্লিং আর কেইনের গোলে ১৯৬৬ সালের পর কোনো বড় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাসের শাপমুক্তি ঘটিয়েছে ইংল্যান্ড।

default-image

শনিবার রোমে ইউক্রেনের বিপক্ষে শেষ আটের লড়াই ইংল্যান্ডের। এ ম্যাচের আগে বাকি দলগুলোর জন্য রীতিমতো সাবধান বাণীই উচ্চারণ করেছেন কেইন। বলেছেন, তাঁর ইংল্যান্ড আগের ইংল্যান্ড নয়। বরং এই ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক একটা দল, ‘যেকোনো দলই স্বীকার করবে, এবারের ইংল্যান্ড দলটা বিপজ্জনক।’

প্রতিবারই ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু সেই প্রত্যাশার চাপে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ার বহু নজির রয়েছে। কত বড় বড় নাম এ দলটার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল—গ্যারি লিনেকার, পিটার শিলটন, পল গ্যাসকোয়েন, পল স্কোলস, স্টিভেন জেরার্ড, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, ডেভিড বেকহাম, মাইকেল ওয়েন, ওয়েন রুনি, অ্যালান শিয়েরার, জন টেরি—লিখতে গেলে তালিকা কেবল দীর্ঘই হবে। কিন্তু ফলাফলের ঘরে শূন্য।

হ্যারি কেইন, রাহিম স্টার্লিং, হ্যারি ম্যাগুয়ার, বাকায়েকো সাকা, কিয়েরন ট্রিপিয়ের, লুক শ, ক্যালভিন ফিলিপস, ডেক্লান রাইস, ম্যাসন মাউন্ট, ফিল ফোডেন, জ্যাক গ্রিলিশ, কিংবা জর্ডান পিকফোর্ডরা এবার প্রত্যাশার অনেকটাই পূরণ করেছেন। আর মাত্র তিন ম্যাচ জিতলেই তো ইংল্যান্ড ইউরো চ্যাম্পিয়ন। প্রাপ্তিটা প্রত্যাশার কাছে যাওয়ায় কিছুটা তৃপ্তিবোধ করছেন কেইন।

default-image

তবে তিনি এটাও জানেন কাজ এখনো শেষ হয়নি, ‘প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মেলবন্ধন হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। আমরা জার্মানির বিপক্ষে জিতে প্রত্যাশা পূরণ করেছি। ইউরোর কোয়ার্টারে খেলছি। কিন্তু আমরা যেন এখানেই থেমে না যাই, সে ব্যাপারে মনোযোগ দিতে হবে। আশা করছি আমরা আবার ওয়েম্বলিতে ফিরব সেমিফাইনাল আর ফাইনালে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন