বেল আরেকবার ব্যর্থ।
বেল আরেকবার ব্যর্থ। ছবি: রয়টার্স

কে জানত বেলজিয়ামে গিয়ে এভাবে হারতে হবে টটেনহাম হটস্পারকে?

ইউরোপা লিগে কাল টটেনহামকে ১-০ গোলে হারিয়ে বড়সড় চমক দেখিয়েছে বেলজিয়াম ক্লাব অ্যান্টোয়ার্প। সেই ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার ইউরোপের মঞ্চে খেলছে বেলজিয়ান দল অ্যান্টোয়ার্প। সেবার উয়েফা কাপের প্রথম রাউন্ডে নিউক্যাসলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। এই দলটির বিপক্ষে কার্লোস ভিনিসিয়ুস, ডেলে আলি, গ্যারেথ বেলদের খেলায় এতটাই হতাশ ছিলেন টটেনহাম কোচ জোসে মরিনিও যে ম্যাচের পর বলেই ফেললেন, ‘পারলে প্রথমার্ধেই আমি ১১ জন বদলি খেলাতাম।’

বিজ্ঞাপন

টটেনহামের হতাশার দিনে সিরি আ-র মতোই ইউরোপা লিগে অপ্রতিরোধ্য ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলান। কাল প্রথমার্ধে ইব্রাহিমোভিচের পেনাল্টি মিসের পরও স্পার্তা প্রাগকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে সিরি ‘আ’র পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা এসি মিলান। অন্য ম্যাচে আর্সেনালও ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আইরিশ ক্লাব ডানডকের বিপক্ষে।

default-image

বেলজিয়ান এই দলটির মাঠে এর আগে ছয় ম্যাচে কখনোই জেতেনি টটেনহাম। হেরেছে চারবার, দুবার ড্র। কাল পঞ্চম হারটি জুটল, গত জুলাইয়ের পর থেকে এটি অ্যাওয়ে ম্যাচে মরিনিওর দলের প্রথম হার। অ্যান্টোয়ার্পের কীর্তিটাও কম না, ইউরোপের লিগে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে দশম বারের চেষ্টায় এই প্রথম জিতেছে কোনো বেলজিয়ান ক্লাব।

ক্যারিয়ারে ইউরোপা লিগে বাছাইপর্বসহ ১৬তম ম্যাচে এসে এই প্রথম হারের স্বাদ পেলেন মরিনিও। তাঁর পাশাপাশি রাতটা গ্যারেথ বেলের জন্যও জঘন্য কেটেছে।

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এই মৌসুমে ধারে নিজের পুরোনো ‘ঘর’ টটেনহামে ফিরেছেন বেল। গত দুই মৌসুমে বলতে গেলে জিনেদিন জিদানের রিয়ালে ‘বোঝা’ হয়ে গিয়েছিলেন ওয়েলস ফরোয়ার্ড। একাদশ তো দূরে থাক, বদলি হিসেবেই তেমন মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। টটেনহামে আসার পর চোট কাটিয়ে মাঝে এক ম্যাচ বদলি হিসেবে নেমেছিলেন, কিন্তু নামের প্রতি আস্থা রাখতে পারেননি। কাল একাদশে সুযোগ পেয়েও ছিলেন ব্যর্থ।

একাদশে মরিনিও কাল রাখেননি কোরিয়ান ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন ও ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে। কার্লোস ভিনিসিয়ুস, স্টিভেন বের্গউইন, ডেলে আলি, হ্যারি উইঙ্কস আর জিওভানি লো সেলসোদের কেউ আসল কাজটাই করতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মরিনিওর ক্ষোভ তাই স্বাভাবিকই। বেঞ্চের ফুটবলারদের ওপর কতটা আস্থা হারিয়েছেন মরিনিও সেটা এই কথাগুলোতেই স্পষ্ট, ‘আমাদের সেরা একাদশ কেমন সেটা আপনারা জানেন। আমি সব সময় মনে করি খেলোয়াড়দের সুযোগটা প্রাপ্য। আমাদের একটা বড় স্কোয়াড আছে। দুহাত ভরে সুযোগটা নিতে পারতে ওরা। আজ রাতে আমার ভবিষ্যতে একাদশ ঠিক করা আরও সহজ হয়ে গেল।’

এই জয়ের কৃতিত্ব মোটেও প্রতিপক্ষকে দিতে চান না কোচ মরিনিও, ‘ম্যাচে ওরা এমনভাবে খেলেছে যেন আমরাই ওদের জিততে দিয়েছি। এই জয়ের জন্য ওদের কোনো কৃতিত্ব দিতে চাই না আমি।’ অবশ্য হারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফুটবলারের ওপর দোষ দিতে চাইলেন না, ‘আমি আলাদাভাবে কারও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে চাই না। এটা সত্যি যে খেলোয়াড়দের বাজে পারফরম্যান্স দলের ওপর প্রভাব ফেলে। আবার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণেও দল ভালো করে।’

মন্তব্য পড়ুন 0