বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার কোচ আমির আলাগিকের কথায় মনে হলো বাংলাদেশকে হারানোর ব্যাপারে তাঁর দল আত্মবিশ্বাস। সৌদি আরবের রিয়াদে দুই ১০ দিন ক্যাম্প করলেও বসনিয়া-হার্জেগোভিনিয়ার এই কোচ খুশি নন মোটেও। শ্রীলঙ্কার ফুটবলের হাজারো সমস্যা তুলে ধরে তিনি বললেন, ‌ ‘আমরা এখানে হারতে এসেছি সেটা বলব না। তবে আমরা কত দূর যেতে পারব জানি না। আমি আসলে খুব বেশি আশা দেখি না। কারণ, শ্রীলঙ্কার ফুটবলে কোনো পেশাদারি নেই। ফুটবলাররা ব্যক্তিগত জীবনের সব কাজ সামলে ফুটবল খেলে।'

সে তুলনায় বাংলাদেশের ফুটবলাররা অনেক বেশি পেশাদার। জামাল ভূঁইয়ারা ৫০-৬০ লাখ টাকা করে পান ক্লাব থেকে। এবার টাকার অঙ্ক আরও বাড়ছে। সুতরাং সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাদারির কথা ভাবলে আজ বাংলাদেশেরই জেতা উচিত। তবে দুই দলের কোচই মনে করিয়ে দিয়েছে মুখে নয়, মাঠে খেলা চাই।

default-image

বাংলাদেশের বর্তমান দলের খেলোয়াড়ের মিলিত আন্তর্জাতিক গোল সংখ্যা ১৭টি। মাহবুবুর রহমানের সর্বোচ্চ ৫। ডিফেন্ডার তপু বর্মণের ৪, বিপলু আহমেদের ৩, মতিন মিয়ার ২। রেজাউল, ইব্রাহিম, সাদ উদ্দিনের একটি করে গোল। সুমন রেজা দুটি গোল করেছেন কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে। সেটি অবশ্য স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়।

শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের মিলিত আন্তর্জাতিক গোল আরও কম, মাত্র ১০টি। কলম্বো এফসির স্ট্রাইকার মোহামেদ আকিবের গোল ১০ ম্যাচে ২টি। মোহামেদ মুশতাকের গোল ১ ম্যাচে ১টি। ৪ ম্যাচে দুটি গোল আহমেদ ওয়াসিম রাজ্জাকের। ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার খেলেন জার্মানির বার্লিনের আঞ্চলিক চতুর্থ স্তরের দল বার্লিনার একে ০৭ দলে।

default-image

ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তরের লিগ দল কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের অনূর্ধ-২৩ দলে খেলেন ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ডিলন ডি সিলভা। জাতীয় দলে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। ইংল্যান্ডের পূর্ব সাসেক্সের ব্রাইটন অ্যান্ড হোভের সেমি পেশাদার ক্লাব হোয়াইট হক ক্লাবের ফুটবলার, ৩২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার মারভিন হ্যামিল্টন জাতীয় দলে খেলেছেন একটি ম্যাচ। চেন্নাই সিটিতে খেলেন ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার চরিথা রত্মায়েকে। শ্রীলঙ্কার ৪ জন ফুটবলার বাইরে খেলেন। গোলকিপার সুজন পেররা জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১টি ম্যাচ খেলেছেন।

শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল কাসুন জয়াসুরিয়ার, ২৭ গোল। ২০০০-২০০৯ পর্যন্ত ৫৩ ম্যাচে এই ২৭ গোল করেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার খেলছেন ক্লাব স্যান্ডার্স ও রিনোন স্পোর্টিংয়ে। ভারতীয় জাতীয় লিগে খেলেছেন ডেম্পো ও ন্যাশনাল ব্যাংকে। একবার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন শ্রীলঙ্কার লিগে—২১ গোল করে।

default-image

কোচ আমির আলাগিক বসনিয়া হার্জেগোভিনায়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্বে ছিলেন ২০০০ সালে। ইস্টবেঙ্গলের কোচ ছিলেন ২০১২-১৩ সালে। মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্টের কোচ ২০১৫ সালে। ১৯৯৬ সাল থেকে এটি তাঁর ২৩ তম দল। শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের আগে বসনিয়া হার্জেগোভিনার একটি ক্লাবের স্পোর্টিং পরিচালক ছিলেন। এই প্রথম কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিলেন। কাজ করেছেন ইরান, চীন,কসভো, সুইডেন, মালদ্বীপ, সৌদি আরব, ওমান, ম্যাসিডোনিয়া, ভারত, লিবিয়া, কুয়েত, জার্মান, ব্রুনাই, ইংল্যান্ড, মন্টেনিগ্রো, অস্ট্রেলিয়ায়ও।

১৯৭২ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ফুটবল দলের নাম ছিল সিলন জাতীয় ফুটবল টিম। দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। ১৯৯৩ সালে রানার্সআপ। নেপালের আনফা কাপে রানার্সআপ হয় ২০০৯ সালে। ২০০৬ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে রানার্সআপ হয়েছিল আয়তনে বাংলাদেশের প্রায় তিনভাগের একভাগ দেশটি। ফিফার সদস্যপদ পায় ১৯৫২ সালে। এফসির সদস্যপদ ১৯৫৪ সালে। সেদিক থেকে তারা বাংলাদেশের চেয়ে পুরোনো দল।

তবে শ্রীলঙ্কার ফুটবল সেভাবে এগোতে পারেনি। ২০১৪ সালে জাফনায় নতুন স্টেডিয়াম উদ্বোধন করতে এসে তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কার ফুটবল নিয়ে তিনি খুশি নন। দ্বীপ দেশটিতে ফুটবল ছড়িয়ে দিতে শ্রীলঙ্কার ফুটবল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপের প্রাক বাছাইয়ে ভুটানের কাছে দুটি ম্যাচেই হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। ফলে গ্রুপ পর্বে যেতে পারেনি। তবে দলটি ২০১৫ কেরালা সাফে সেমিফাইনালে খেলেছিল লঙ্কানরা, যেটি পারেনি বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সঙ্গে খেলা ১৭ ম্যাচে মাত্র ৪টি জিতেছে শ্রীলঙ্কা। ১১টিই হার এবং ২টি ড্র। বাংলাদেশের জালে ১৩ গোল দিয়ে ২৭ গোল খেয়েছে দ্বীপ দেশটি। জয় মাত্র ২২ শতাংশ ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার বর্তমান ফিফার তালিকায় ২০৫। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে হয়েছিল দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২০৬। বাংলাদেশের ১৮৯ ।

default-image

বাংলাদেশ সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকায় ২০০৩ সালে। শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন তারও আগে, ১৯৯৫ সালে। তখন টুর্নামেন্টের নাম ছিল সার্ক গোল্ড কাপ। ১৯৯৩ সালে সার্ক কাপে দ্বীপ দেশটির রানার্সআপ। সেবার বাংলাদেশ খেলেনি। নেপালের আনফা কাপে তারা রানার্সআপ ২০০৯ সালে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে সবাইকে অবাক করে শ্রীলঙ্কা রানার্সআপ হয়েছিল। অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ কাপে বাংলাদেশের কোনো সাফল্য নেই। তবে এসব তথ্য-পরিসংখ্যান মাঠের বাইরের হিসাব। জয় পেতে মাঠে ভালো খেলার বিকল্প নেই। সেদিকেই তাকিয়ে দুই দল।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন