বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ইংলিশ দৈনিক ডেইলি মেইল দিচ্ছে এই খবর। নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম জানা যায়নি। তিনি কোন ক্লাবের, সেটিও লেখেনি ডেইলি মেইল। তবে জানিয়েছে, নিজের সিদ্ধান্তের কথা ক্লাবের চিকিৎসকদের জানিয়ে দিয়েছেন ওই খেলোয়াড়। চিকিৎসকেরাও যে বিস্মিত হয়েছেন, সেটি তো আর না বললেও চলে।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ও এর বিরুদ্ধে কাজ করা টিকা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তো কম আলোচনা হচ্ছে না। ইউরোপের লিগগুলোতে ফুটবলারদের মধ্যেও টিকার পক্ষে-বিপক্ষে মত আছে। করোনার টিকার কার্যকারিতা, টিকা নেওয়ার পর শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী পড়বে, এ নিয়ে অনিশ্চয়তাই মূলত টিকা না নিতে চাওয়ার কারণ। পরিবারের খাদ্যাভাসের সঙ্গে টিকার সম্পর্কের কথা এর আগে শোনা যায়নি।

ডেইলি মেইল লিখেছে, মাংসজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা অনেকেই নৈতিক বিচারে টিকা নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। কারণ, টিকা বাজারে ছাড়ার আগে এবং মানবদেহে প্রয়োগের আগে কয়েক ধাপে সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষা হয়। এই ধাপগুলোর মধ্যে দু-তিনটি ধাপে প্রাণীদের শরীরে টিকা দিয়ে গবেষণা চালানো হয়। প্রাণীদের জীবন শঙ্কায় ফেলে দেওয়া এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষাই নিরামিষাশীদের টিকা না নিতে চাওয়ার কারণ।

গত অক্টোবরে প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছিল, ২০টি ক্লাবের খেলোয়াড়দের ৬৮ শতাংশ তখন পর্যন্ত টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন। করোনার অমিক্রন ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর এখন ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের ‘বুস্টার ডোজের’ ব্যবস্থা করেছে।

তবে টিকা না নিতে চাওয়ার পর অদ্ভুত কারণ এর আগেও শোনা গেছে। ডেইলি মেইল লিখেছে, অনেক খেলোয়াড়ই টিকা নিতে চাইছেন না, কারণ তাঁদের ধারণা টিকা নিলে সেটি তাঁদের যৌনক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে! লন্ডনের একটি ক্লাব জানতে পেরেছে, তাদের খ্রিষ্টান খেলোয়াড়েরা টিকা নিতে চান না ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে।

এমনিতেই করোনার সংক্রমণের মধ্যে যেখানে টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা আসছে বারবার, এর মধ্যে এসব কারণে খেলোয়াড়েরা টিকা না নিতে চাওয়ায় বিরক্ত হচ্ছেন প্রিমিয়ার লিগের কর্তাব্যক্তিরা।

করোনার টিকা নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক গবেষণায়ই উঠে এসেছে যে টিকা সংক্রমণ ও অসুস্থতা থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা না দিলেও, টিকা নেওয়া মানুষের করোনা ছড়ানোর হার অনেক কম। তার মানে, করোনা সংক্রমণের হার কমাতে টিকা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, টিকা নিলে গুরুতর অসুস্থতার হারও অনেক কমে আসে।

default-image

টিকা না নেওয়ার প্রভাবের পর ভুল ভেঙে টিকা নিতে আগ্রহী হয়েছেন, এমন খেলোয়াড়ের উদাহরণও ইউরোপে আছে। সেটি অবশ্য ইংল্যান্ডে নয়। জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ইয়োশুয়া কিমিখ এত দিন পর্যন্ত টিকার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সংশয়ে ছিলেন।

পাশাপাশি নিজে খেলোয়াড় বলে এবং বয়স কম বলে করোনায় তাঁর গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম জেনে এত দিন টিকা নেননি কিমিখ। কিন্তু গত মাসে করোনা পজিটিভ হওয়ার পর তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সেখান থেকে সেরে ওঠার পর এখন ভুল বুঝতে পেরেছেন কিমিখ। জার্মান রাইটব্যাক কয়দিন আগে জানিয়েছেন, তিনি এখন টিকা নিতে আগ্রহী।

ইংলিশ লিগেও করোনার টিকা না নেওয়ার খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম নয়। গত অক্টোবরে প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছিল, ২০টি ক্লাবের খেলোয়াড়দের ৬৮ শতাংশ তখন পর্যন্ত টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন। করোনার অমিক্রন ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর এখন ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের ‘বুস্টার ডোজের’ ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু টিকা নিতে জোর তো আর ক্লাব করতে পারে না! সে সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের হাতেই।

যুক্তরাজ্যের স্পোর্টস কার্ডিওলোজিস্ট অধ্যাপক সঞ্জয় শর্মা এই সপ্তাহে বলেছেন, প্রিমিয়ার লিগের শতভাগ খেলোয়াড়ই দুই ডোজ টিকা না নিলে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়বে, সে ক্ষেত্রে করোনার নতুন এই ঢেউয়ের মুখে প্রিমিয়ার লিগ আবার স্থগিত হয়ে যেতে পারে। গত বছরের মার্চে করোনার সংক্রমণের মুখে প্রায় তিন মাস লিগ স্থগিত ছিল।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন