ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রোনালদোর পর্তুগাল।
ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রোনালদোর পর্তুগাল। ফাইল ছবি: এএফপি

ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা উয়েফা বহু আগে থেকেই পরিকল্পনা করছিল ২০২০ ইউরো নিয়ে। নিজেদের সংস্থার ৬০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা শহরে নয়, ইউরোপজুড়েই আয়োজিত হবে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।

যত বেশি সম্ভব শহরে ইউরো আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহু আগেই পাস হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসে সব হিসাব বদলে গেছে। প্রাথমিকভাবে ১২ জুন থেকে ১২ জুলাই হওয়ার কথা ছিল ২০২০ ইউরো। করোনার বিরতি শেষে ইউরোপের বিভিন্ন লিগ চালু করা গেলেও ইউরো আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। কারণ, গত বছর মার্চেই ইউরো এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন সূচিতে এ বছর ১১ জুন ২০২১ থেকে ১১ জুলাই ২০২১ পর্যন্ত চলবে ইউরো ২০২০। কিন্তু করোনার এ সময় ১২টি ভিন্ন শহরে, ১২ দেশে এতগুলো দলের খেলা ও ভ্রমণের সমস্যার কথা চিন্তা করে ফরম্যাট বদলানোর শঙ্কা জেগেছিল। উয়েফা কাল নিশ্চিত করেছে, ১২টি শহরেই হবে এবারের ইউরো।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সাল থেকে ইউরোর ফরম্যাট বদলেছে। ১৬ দলের বদলে ২৪ দল নিয়ে হচ্ছে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে। সে সুবাদে ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন শহরে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব লুফে নিয়েছিল দেশগুলো। এককভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের বাড়তি চাপ না নিয়েই আয়োজকের সম্মান লাভ করতে ২০টি শহর আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ২টি শহর সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য আবেদন করেছিল। আর ১৯টি শহর আবেদন করেছিল গ্রুপ পর্বের জন্য। জার্মানির মিউনিখ এ দুটি পর্যায়ের জন্যই আবেদন করেছিল।

১৩টি শহর শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টেকে। ফাইনাল ও সেমিফাইনালের দায়িত্ব পেয়েছিল ইংল্যান্ডের লন্ডন। আর গ্রুপ পর্ব ও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ম্যাচগুলো আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছিল ইতালির রোম, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো, স্পেনের বিলবাও, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম, আজারবাইজানের বাকু, হাঙেরির বুদাপেস্ট, রোমানিয়ার বুখারেস্ট, রাশিয়ার সেইন্ট পিটারসবার্গ, জার্মানির মিউনিখ ও বেলজিয়ামের ব্রাসেলস। এর মধ্যে ব্রাসেলসকে বাদ দেওয়া হয়। এই শহরের নির্ধারিত ম্যাচগুলো লন্ডনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে।

default-image

এই ১২ শহরে গ্রুপ পর্বে তিনটি করে ম্যাচ হবে। অর্থাৎ ছয় গ্রুপের প্রতিটি গ্রুপের দলগুলো দুটি ভিন্ন শহরে খেলবে। এ ছাড়া আটটি শেষ ষোলোর ম্যাচ হবে আট ভেন্যুতে। চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ হবে বাকি চার ভেন্যুতে। আর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে। অর্থাৎ টুর্নামেন্টজুড়ে দলগুলোকে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতে হবে। করোনাকালে অনেক দেশেই কঠোর কোয়ারেন্টিন মানা হচ্ছে। এ সময় ভ্রমণে নানা রকম বাড়তি ঝামেলা যুক্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উয়েফার ইউরো, এভাবে ইউরো আয়োজন উচ্চাবিলাসী পরিকল্পনা বলেই মনে হচ্ছে অনেকের।

এ ব্যাপারে গতকাল আয়োজক ১২ শহরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে উয়েফা। আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, তারা পিছু হটছে না। ১২টি শহরেই ইউরো আয়োজন করা হবে, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইউরোপজুড়ে ১২টি শহরে ইউরো আয়োজনের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞার কথা আবার জানিয়েছে উয়েফা। বিভিন্ন শহরের নানা রকম সমস্যা ও পরিস্থিতির কারণে এ টুর্নামেন্ট আয়োজনে জড়িত সবাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝেন। এ কারণে মহামারির এ সময় যেভাবে পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, স্টেডিয়ামগুলোয় কীভাবে সমর্থকদের আনা যায়, সে–সংক্রান্ত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার শেষ সময় বাড়িয়ে এপ্রিলের শুরুতে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের মে মাস থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফুটবল ফিরেছে। পরিস্থিতি ভালো হতে শুরু করায় জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে সীমিত পরিসরে দর্শকও ফিরেছিল। কিন্তু ইউরোপে আবার করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং ভাইরাসের নতুন এক ধরন আবির্ভূত হওয়ায় আপাতত আবার দর্শকহীন ফুটবলে ফিরেছে ক্লাবগুলো।

তবে বেশ কিছু টিকার আবিষ্কার হওয়ায় এবং টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ায় আশা ফিরে পাচ্ছে উয়েফা। তারা এতটাই আশাবাদী যে বছরের মাঝামাঝি নাগাদ ইউরোর আয়োজন দর্শক নিয়ে হবে বলেই মনে করছে। এ ব্যাপারে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিন বলেছেন, ‘পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উয়েফা ১২টি শহরেই ইউরো ২০২০ আয়োজন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইউরোপে জাতীয় দলগুলোর জন্য ইউরো হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবলের অর্থের জোগানদাতা। ফুটবলের বিস্তার ও বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব এ টুর্নামেন্টই রাখে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আশা করি টুর্নামেন্ট যত এগিয়ে আসবে, সবকিছু অনেক বদলে যাবে। যেসব শহরে খেলা হবে, সেই শহর ও সরকারকে যতটা সম্ভব সময় দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে জুন ও জুলাইয়ে কী হতে পার, তার একটি তুলনামূলক চিত্র পাওয়া যায়। ফুটবলকে যেসব জিনিস সুন্দর করে, সমর্থকেরা তার বড় একটা অংশ। এটা অন্য সব খেলার মতো ইউরোর ক্ষেত্রেও সত্য। তাদের স্টেডিয়ামে ফেরার ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন