স্টেডিয়ামে ঢোকার সুযোগ মিলতেই ভরে উঠেছে গ্যালারি।
স্টেডিয়ামে ঢোকার সুযোগ মিলতেই ভরে উঠেছে গ্যালারি। ছবি: শামসুল হক

কথা ছিল করোনার কারণে ৮ হাজারের বেশি দর্শক মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তাঁরা গ্যালারিতে বসবেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার মুজিব বর্ষ আন্তর্জাতিক ফুটবল সিরিজের প্রথম ম্যাচে উৎসাহ–উদ্দীপনার কাছে হার মেনেছে দর্শকসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা। নিশ্চিতভাবেই আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ৮ হাজারের বেশি দর্শক।

দর্শকসমাগম প্রচুর হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার সব চেষ্টাই করা হয়েছে। মুখে মাস্ক না থাকায় ফিরিয়েও দেওয়া হয়েছে অনেককে। গেটেই বাফুফে কর্মচারীদের হাতে ছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। দর্শকদের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা দেখা গেছে।
আসলে ১০ মাস পর দেশের মাঠে ফুটবল ফেরার আনন্দটাই পেছনে ফেলেছে করোনার আতঙ্ক। কারও হাতে বাংলাদেশের পতাকা, কেউ পরে এসেছেন জাতীয় দলের জার্সি। ড্রাম–বদ্যি সবই ছিল দর্শকদের কাছে। তাঁদের উদ্দীপনায় মুখরিত ছিল আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম।

বিজ্ঞাপন
default-image

বাবা মাসুম আলীর হাত ধরে শনির আখড়া থেকে এসেছে সাত বছরের মোহাম্মদ মাহিন। মাসুম আলী কাপড়ের ব্যবসায়ী। নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ দেখবেন বলে দোকান বন্ধ করে এসেছেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। মাহিন প্রথমবার ফুটবল ম্যাচ দেখতে এসে অভিভূত, ‘আমি টেলিভিশনে অনেক ফুটবল ম্যাচ দেখেছি। কিন্তু মাঠে আজই প্রথম এলাম। এ জন্য খুব ভালো লাগছে আমার। নেপালের সঙ্গে ম্যাচটি দেখব বলে বাবাকে আগেই বলে রেখেছিলাম। বাবা আমার কথা রেখেছেন।’

খেলা দেখবেন বলে মুন্সিগঞ্জ থেকে এসেছেন শফিকুল ইসলাম ও রাকিবুল হাসান। বন্ধুদের সঙ্গে বসে খেলাটা উপভোগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বন্ধুরা অন্য গ্যালারিতে বসেছেন। একটু মন খারাপ করেই পশ্চিম গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছিলেন শফিকুল। কিন্তু নেপালের জালে বল জড়াতেই সে কী উল্লাস এই দুজনের। নিয়মিতই মাঠে খেলা দেখতে আসেন শফিকুল। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর এটাই প্রথম ফুটবল ম্যাচ। ম্যাচটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘নেপালের বিপক্ষে দুটি ম্যাচই দেখার ইচ্ছা আমার। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এর আগে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা দেখেছি। আজ অনেক দিন পর মাঠে বসে খেলা দেখছি বলে খুব ভালো লাগছে। ম্যাচটি দেখব বলে দুই বন্ধু মিলে অনেক পরিকল্পনা করেছি।’

default-image

খেলা দেখার কথা বললে অফিস ছুটি দেবে না। তাই কৌশলের আশ্রয় নিয়ে অফিস থেকে মাঠে চলে এসেছেন ফজলে রাব্বী। ২৩ বছর বয়সী যুবকের প্রিয় ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া, ‘আমি আসলে জামাল ভূঁইয়ার খেলা দেখতেই মাঠে এসেছি। এর আগে লিগের খেলাগুলো দেখতাম। তারেক কাজীর খেলা দেখারও ইচ্ছা ছিল। কিন্তু চোটের কারণে তিনি খেলতে পারবেন না শুনে একটু খারাপই লেগেছে।’

উত্তরার মাদ্রাসাপড়ুয়া সিফাত ওবায়দুল্লাও জামাল ভূঁইয়ার ভক্ত। খেলা দেখতে এসে সিফাতের নজরও বেশির ভাগ সময় রইল জামালের দিকে, ‘জামাল ভূঁইয়া আমার পছন্দের ফুটবলার। সাদউদ্দিনের খেলাও ভালো লাগে আমার। অনেক দিন এঁদের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আশায় ছিলাম কবে মাঠে খেলা ফিরবে। অবশেষে খেলা ফিরেছে। এই ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে পারছি, কী যে আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না।’

জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার বেলাল আহমেদ এসেছেন তাঁর একাডেমির এক দল খুদে ফুটবলার নিয়ে। মাঠে বসে শিষ্যদের খেলা দেখাতে পারছেন বলে ভীষণ খুশি বেলাল, ‘আমি এই মাঠে কত ম্যাচ খেলেছি। সেই গল্প আজ বললাম এদের। আসলে আগে থেকেই মাঠে আসাটা অভ্যাস করছি ওদের। গ্যালারিতে বসে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখছে বলে ছেলেরা সবাই খুব খুশি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0