দুনিয়াজোড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো করোনাকালে এই প্রতিষ্ঠানও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। তবে বিশ্বের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান যেখানে আর্থিক ক্ষতি কমানোর জন্য কর্মী ছাঁটাই, বেতন হ্রাসের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে, নেইমার জুনিয়র ইনস্টিটিউট এখানেই ব্যতিক্রম। করোনার প্রভাবে গত বছরের মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলছে। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ১৪২ জন কর্মীর চাকরি তো আছেই, উল্টো কাজ না করা সত্ত্বেও ১৪২ জনের প্রত্যেকে পুরোটা সময় ধরে পুরো বেতন পাচ্ছেন। কারও বেতন ১ শতাংশ কাটেননি নেইমার।

শুধু তা–ই নয়, বেতনের পাশাপাশি কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা–সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচের বিষয়টাও নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কর্মীদের বেতন দিতে গিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৯০ হাজার ইউরো করে খরচ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির। বাংলাদেশি হিসাবে প্রায় সাড়ে ৯১ লাখ টাকার সমান। এই সংকট যত দিন চলবে, নেইমার তত দিন তাঁর অধীন কর্মীদের এভাবে বেতন-ভাতা দিয়ে যাবেন বলে প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে।

ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছেন নেইমারের বাবা ও তাঁর মুখপাত্র—নেইমার সিনিয়র। কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টাই নেইমারদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই জানিয়েছেন পিএসজির সবচেয়ে বড় তারকার বাবা, ‘আমার পরিবার ও আমি ১৪২ জন সদস্যের এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারটা দেখভাল করছি। তারা সম্পূর্ণ বেতন-ভাতাই পাচ্ছে।’ নেইমার যে নিজের পকেট থেকে এই খরচ দিচ্ছেন, সেটাও বলতে ভোলেননি নেইমারের বাবা, ‘আমরা কর্মীদের বেতন দেওয়ার এই কাজটা করছি নিজেদের পকেট থেকে খরচ করে।’

করোনাকালে নিজেদের চাকরি কিংবা বেতনাদি নিয়ে কর্মীদের কোনো চিন্তা করতে হবে না বলে জানিয়েছেন নেইমারের বাবা, ‘এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরি ও বেতন নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। ওই ব্যাপারটা আমরা দেখছি। যত দিন এই মহামারি চলবে, তত দিনই দেখব।’