করোনার মাঝেও যেভাবে ফুটবল শুরু হচ্ছে জার্মানিতে

বিজ্ঞাপন
default-image

ইউরোপে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবচেয়ে সাফল্য দেখিয়েছে জার্মানি। সে সাফল্যই হয়তো আশাবাদী করে তুলেছে দেশটির ফুটবল কর্মকর্তাদের। আগামী ৯ মে বুন্দেসলিগা চালু করার আশা করছে লিগ কর্মকর্তারা। দেশটির ফুটবলের দ্বিতীয় বিভাগও চালু হওয়ার কথা সেদিন।

ফুটবল মাঠে ফেরার আশায় দিন কাটাচ্ছেন বেয়ার লেভারকুসেনের সব ফুটবলার। দলটির কর্মকর্তারা প্রতিদিন খেলোয়াড়দের খোঁজখবর নিচ্ছেন। ফোন দিচ্ছেন, শরীরের খবর নিচ্ছেন। কারও জ্বর আছে কিনা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, পরিবারের সবার খোঁজও নেওয়া হচ্ছে। অনুশীলনে আসার পর সবার তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে লিওন বেইলি-লার্স বেনডারদের। তবেই সুযোগ মিলছে লকার রুমে ঢোকার।

ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক সাইমন রোলফস বলেছেন, 'আমরা সত্যিকার অর্থেই প্রস্তুত (লিগ শুরু করার জন্য), আশা করি জার্মানিতে যে অবস্থা চলছে তাই থাকবে অথবা আরও ভাল হবে এবং রাজনৈতিকেরা বলবেন, “এখনই ফেরার সময়।” আশা করি সেটা খুব দ্রুত হবে।'

মাঠে খেলা ফিরলেও দর্শকদের এখনো স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় হয়নি। খেলোয়াড় ও ম্যাচ আয়োজন ও সম্প্রচারের সঙ্গে জড়িত সবার পরীক্ষা করা হবে প্রতি সপ্তাহে। জার্মানিতে প্রতি সপ্তাহে ৮ লাখ ১৮ হাজার করোনার পরীক্ষা করা হয়। ফলে লিগের নয়টি ম্যাচ আয়োজন করার জন্য যে পরিমাণ বাড়তি পরীক্ষা করতে হবে (হাজারে চারটি) সেটা দেশের স্বাস্থ্যখাতে খুব একটা চাপ সৃষ্টি করবে না।

লিগে প্রতি দলের এখনো নয়টি করে ম্যাচ বাকি। ৩০ জুনের মধ্যে লিগ শেষ করার আশায় আছে জার্মানি। লিগ কমিটির আশা, লিগ শেষ করতে পারলে টিভি স্বত্বের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ ছোট ক্লাবগুলোকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাবে।

করোনায় জার্মানিতে পাঁচ হাজারের বেশি মৃত্যু হলেও ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্থান খুলে দেওয়া শুরু করছে তাঁরা। আগামী মাসেই স্কুল গুলো চালু হবে। তবে অক্টোবর পর্যন্ত জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকবে।

রোলফসের ধারণা, বুন্দেসলিগা চালু হওয়ার ফলে পুরো বিশ্বই স্বস্তি পাবে কিছুটা, 'শুধু জার্মানি না পুরো বিশ্বে অনেক মানুষকে আনন্দ দেবে এই খবর। দিন শেষে সবাই খেলা ভালোবাসে। এটা সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। খেলার মাধ্যমে জীবনে কিছু স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। শনিবার রাত গুলোয় আবার বড় ম্যাচ দেখা যাবে। এটা অনেক ভক্তের জন্যই ভালো হবে।'

তবে কিছু ঝুঁকির কথা হয়তো সচেতনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে বুন্দেসলিগা। করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীর সংস্পর্শে আসা খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা কয়েকদিনের মধ্যে পরীক্ষা করালেও পরীক্ষায় ধরা পড়বেন না। কিন্তু এর মাঝে খেলা হলে, তাঁর মাধ্যমে আবার ছড়িয়ে পড়বে করোনা।

এ কারণেই লেভারকুসেনের সমর্থকদেরই এক পক্ষ খেলা শুরু করার বিপক্ষে, 'দ্রুত মৌসুম শুরু করাটা হবে সমাজের বাকিদের সঙ্গে নির্মম রসিকতা।' কিন্তু বুন্দেসলিগা আপাতত আর্থিক বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন