চেক প্রজাতন্ত্রের কিংবদন্তি ফুটবলার আন্তোনিন পানেনকা
চেক প্রজাতন্ত্রের কিংবদন্তি ফুটবলার আন্তোনিন পানেনকাছবি: টুইটার

পেনাল্টিতে গোলরক্ষকদের পক্ষে যে কোনো একদিকে ডাইভ দেওয়ার ইচ্ছে থামানো খুব কঠিন। ১২ গজ দূরত্ব থেকে বলে শট নেওয়ার মুহূর্তে কিংবা তার একটু আগেই একদিকে ডাইভ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় গোলরক্ষকদের মধ্যে। কেমন হয়, যদি জালের ঠিক মাঝখান বরাবর আলতো করে শট নেওয়া হয়?

গোলরক্ষক একদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ায় মাঝের জায়গাটা তো ফাঁকা থাকে। পেনাল্টি নিতে বিশেষ এই শটের কথা মাথায় এসেছিল আন্তোনিন পানেনকার। সেটি সাবেক চেকোস্লোভাকিয়া দলের গোলরক্ষক দেনেক হ্রুসকার সঙ্গে অনুশীলনে। পরে ১৯৭৬ ইউরোর ফাইনালে টাইব্রেকারে শেষ শটটি এভাবে নিয়ে দলকে শিরোপা জিতিয়ে তো ইতিহাসে অমর হয়ে গেলেন পানেনকা।

বিজ্ঞাপন
default-image

তা এত দিন পর কেন সেই প্রসঙ্গ? ‘পানেনকা’ পেনাল্টির স্রষ্টা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকায় উঠে আসছে সেসব স্মৃতি। সংক্রামক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কাল প্রাগের এক হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭১ বছর বয়সী সাবেক এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি সময় তিনি যে ক্লাবে ছিলেন, সেই বোহেমিয়ানস প্রাহা (১৯৬৭-১৯৮১) কাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে এ খবর। নিজেদের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে ক্লাবটির পক্ষ থেকে টুইট করা হয়, ‘আন্তোনিন পানেনকা আজ (কাল) ভীষণ অসুস্থ ছিলেন, তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (হাসপাতালের) নেওয়া হয়েছে।’ ক্লাবটি পরে এই টুইটটি রি-টুইট করে পানেনকার করোনায় আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছে।

চেক কিংবদন্তি পানেনকা ৪৪ বছর আগের সেই ফাইনালে বুদ্ধিদীপ্ত পেনাল্টি শট নিয়ে খ্যাতি কুড়োন। পরে জিনেদিন জিদান (২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল), আন্দ্রেয়া পিরলো (২০১২ ইউরো), সার্জিও রামোস, লিওনেল মেসি থেকে কিংবদন্তি অনেক ফুটবলারই তাঁর সেই শট অনুকরণ করে সাফল্য কুড়িয়েছেন।

১৯৬৮ সালে বোহেমিয়ানসের হয়ে ক্যারিয়ারের শুরু করেন তিনি। ক্লাবটির হয়ে সাফল্য না পেলেও ১৪ বছর খেলেছেন বোহেমিয়ানসে। এরপর র‌্যাপিড উইয়েন ক্লাবে যোগ দিয়ে জিতেছেন অস্ট্রিয়ার শীর্ষস্থানীয় লিগ। সাবেক চেকোশ্লোভাকিয়ার হয়ে ৫৯ ম্যাচে ১৭ গোল করা সাবেক এ ফুটবলারকে সেই পেনাল্টি শটের জন্য ‘কবি’ উপাধি দিয়েছিলেন ফরাসি এক সংবাদকর্মী।

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রিভেলিনোর মতোই গোঁফের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে পানেনকার। খেলা ছাড়ার পর গোঁফ দেখেও তাঁকে আলাদা করে চেনা যায়। ১৯৭৬ ইউরো ফাইনালে সাবেক পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে চেকোস্লোভাকিয়ার (বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র) শেষ শটটি নিয়েছিলেন তিনি।

ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আলতো এক চিপ করেন আন্তোনিন পানেনকা। দেখে মনে হবে, বুটের ডগাকে চামচ বানিয়ে বলটা তুলে আলতো করে সোজা ছেড়ে দিলেন! আগেই বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন গোলরক্ষক সেপ মায়ার। বিস্ফোরিত নেত্রে তিনি দেখলেন বলটি কীভাবে তাঁকে ফাঁকি দিয়ে জড়িয়ে গেল জালে। সাবেক চেকোস্লোভাকিয়া ইউরোপসেরার মুকুট জিতেছিল তাঁর ওই শটেই। আর তখন থেকে এমন পেনাল্টি শটের নাম হয়ে যায় ‘পানেনকা’।

মন্তব্য করুন