default-image

ইংল্যান্ডে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বরিস জনসন প্রশাসন। সংকটের মুখে আরও ভয়ংকর এক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। নিম্ন আয়ের পরিবারের বিদ্যালয় পড়ুয়া শিশুদের বিনা মূল্যে খাবার দেওয়ার প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল জনসন সরকার। কিন্তু আবেগঘন এক চিঠিতে এমন সিদ্ধান্ত কতটা অযৌক্তিক ও অমানবিক সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন তরুণ ইংলিশ স্ট্রাইকার মার্কাস রাশফোর্ড। চিঠি লেখার এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত বদলেছে সরকার।

যুক্তরাজ্যে নিম্ন আয়ের পরিবারের বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের খাবারের খরচ দেয় সরকার। ‘ফ্রি স্কুল মিল’ নামের এই প্রকল্পের অধীনে ১৩ লাখ শিশু পায় এই সুবিধা। করোনা-পরিস্থিতিতে সরকার এ খরচ আর চালাতে রাজি ছিল না। তাই নতুন টার্ম শুরু হলেই এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তারা। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলশ অবশ্য ঠিকই নিম্ন আয়ের শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

এ অবস্থায় মার্কাস রাশফোর্ড সিদ্ধান্ত নিলেন কিছু করার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই স্ট্রাইকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা খোলা চিঠি লিখেছেন। সেখানে নিজের গল্পটা বলেছেন, বলেছেন ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে চাপানোর গর্বের কথা। সে সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘ফ্রি স্কুল মিল’ চালু না থাকলে যে তাঁর এই স্বপ্ন পূরণ হতো না সেই গল্পটাও। নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য রাশফোর্ডকেও স্কুল থেকে পাওয়া এই খাবারের অপেক্ষায় থাকতে হতো। নিজের বেড়ে ওঠার পেছনে আশপাশের মানুষের ভালোবাসা ও মানবিকতার কথা স্বীকার করেছেন অম্লানবদনে।

এরপরই সরকারকে বলেছেন, রাজনীতি এক জিনিস আর মানবিকতা অন্য। এই সুবিধা কেড়ে নেওয়া হলে অনেক সম্ভাবনাময় শিশুই হয়তো আর নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। দেশের সেবা করে গর্ববোধ করবে না। কারণ করোনায় যেখানে অধিকাংশ পরিবারের নিয়মিত আয় বন্ধ, অনেকেই নিয়মিত খাবার পাচ্ছে না; সেই কঠিন সময়েই যদি রাষ্ট্র সাহায্য না করে, তাহলে দেশপ্রেম জাগবে কীভাবে? এর পর একের পর টুইট করে সরকারকে এ সিদ্ধান্ত বদলানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাশফোর্ড। এ আন্দোলনে সবাইকে এক হতে বলেছেন।

এমন আবেগঘন চিঠি সাড়া ফেলেছে বিশ্বজুড়ে। মাত্র ২২ বছর বয়সী এক তারকার এমন সুচিন্তিত চিঠিতে নড়েচড়ে বসতে হয়েছে রাজনীতিবিদদের। আজ তাই স্কুল ছুটির সময়টাতেও শিশুদের খাবারের খরচ দেওয়ার জন্য ‘কোভিড গ্রীষ্মকাল স্কুল ফান্ড’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১৫ পাউন্ড করে দেওয়া হবে। সর্বমোট এর অধীনে ১২ কোটি পাউন্ড বা ১২ শ কোটি ৮৯ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ‘দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনায়’ রাশফোর্ডের অবদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। আর বিরোধী দল লেবার পার্টি এভাবে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলাকে স্বাগত জানিয়েছে। এত বড় সিদ্ধান্ত যার টুইটে হলো, সেই রাশফোর্ডের কণ্ঠে বিনয়। টুইটে লিখেছেন, ‘আমরা যদি এক হই, তাহলে কী করতে পারি দেখুন। এটাই ২০২০ সালের ইংল্যান্ড।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0