সেরে ওঠার আগেই ইংল্যান্ডে ফিরছেন সালাহ।
সেরে ওঠার আগেই ইংল্যান্ডে ফিরছেন সালাহ। ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক দায়িত্ব সারতে দেশে গিয়েছিলেন, কিন্তু সে দায়িত্ব আর পালন করা হয়নি মোহামেদ সালাহ ও মোহামেদ এলনেনির। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ‘উইন্ডো’টা বন্দী হয়েই কাটাতে হয়েছে। বিরতি শেষ, শুরু হচ্ছে আবার ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততা। এখনো সেরে ওঠেননি এ দুজন। করোনা নেগেটিভ না হলে এত দিন ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতেন সবাই। তবে সালাহ ও এলনেনির ক্ষেত্রে নিয়মে একটু বদল আনছে মিসর। করোনা আক্রান্ত দুই ফুটবলারকে আজ লন্ডনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার করোনা ধরা পড়ে লিভারপুল ফরোয়ার্ড সালাহর। এ কারণে টোগোর বিপক্ষে আফ্রিকান কাপ নেশনসের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলা হয়নি তাঁর। পরে গত বুধবার আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় আবার পরীক্ষা করা হয়। তখনো করোনা পজিটিভ হয়েছেন সালাহ। ওদিকে মঙ্গলবার করোনা পজিটিভ হন এলনেনি। আর্সেনাল মিডফিল্ডার তাই টোগোর বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটায় আর খেলতে পারেননি। এই সপ্তাহে লিভারপুল ও আর্সেনাল তাই আর মাঠে নামাতে পারবে না এই দুজনকে। তবু তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছে যাঁর যাঁর ক্লাব।

বিজ্ঞাপন
default-image

সালাহ ও এলনেনিকে চিকিৎসা সরঞ্জামযুক্ত বিশেষ উড়োজাহাজে করে লন্ডনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। লন্ডনে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে আবার পরীক্ষা করে দেখা হবে দুজনকে। এরপর আবার নতুন করে তাঁদের আইসোলেশনে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ‘জাতীয় দলের তারকা সালাহ ও মোহামেদ এলনেনি আগামীকাল হুরঘাদা বিমানবন্দর থেকে ভাড়া করা এক উড়োজাহাজে করে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিমানে চিকিৎসার সব সরঞ্জাম আছে। আশা করা হচ্ছে, তাঁরা শিগগিরই করোনা নেগেটিভ হবেন এবং নিজ নিজ দলের হয়ে পরের ম্যাচেই খেলতে পারবেন।’

বিবৃতিতে মিসর ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, খেলোয়াড়েরা যাঁর যাঁর ক্লাবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন এবং এ ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেই নিয়েছেন তাঁরা, ‘দুই খেলোয়াড় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই দুই ক্লাবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে মিসর ফেডারেশন। এ ব্যাপারে ফেডারেশনের প্রশাসনিক বিষয় সামলানোর পাঁচ বছর মেয়াদি কমিটির সদস্য ক্যাপ্টেন মোহামেদ ফাদল ও জাতীয় দলের চিকিৎসক মুহাম্মদ আবু আল-এলা সব সময় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। দুই খেলোয়াড়ও নতুন করে নমুনা দিয়েছেন।’

default-image

এর আগে সালাহর করোনায় আক্রান্তের খবর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। দেশের হয়ে খেলার জন্য ক্লাব থেকে এলেও প্রথমে ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দিয়েছিলেন সালাহ। সেখানে অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মাস্ক খুলে নাচতে দেখা গেছে তাঁকে। অনেকের সন্দেহ, এভাবেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এই তারকা। সালাহর এমন আচরণের সমালোচনা করেছিলেন দেশটির সাবেক খেলোয়াড় মিডো, ‘সালাহর এই অবহেলার পেছনে যারা দায়ী, তাদের চুপ করে থাকাটাও আরেকটি বিষয়। এতে বোঝা যায়, জাতীয় দলের চেয়ে এখনো খেলোয়াড় বড় এবং এতে ব্যর্থতাই বয়ে আনবে।’


সে বিতর্ক পাশ কাটিয়ে আবার ইংল্যান্ডে ফিরছেন সালাহরা। করোনা থেকে সেরে ওঠার আগেই কেন তাঁদের এভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মিসর জাতীয় দলের চিকিৎসক মুহাম্মদ আবু এল-এলা, ‘এখন পর্যন্ত যা বলা যাচ্ছে, যদি কোনো খেলোয়াড়ের নমুনা নেগেটিভ আসে এবং বুকের এক্স-রে যদি পরিষ্কার আসে, তাহলে তাঁরা মাঠে ফিরতে পারবেন। এ কারণেই আর্সেনাল ও লিভারপুল বলেছে, তাদের খেলোয়াড়দের ফেরানোর ব্যবস্থা করতে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0