আগামীকাল মোহামেডানের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন জামাল।
আগামীকাল মোহামেডানের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন জামাল। ছবি : প্রথম আলো

জামাল ভূঁইয়া ও কলকাতা মোহামেডানের মধ্যকার খেলার সম্পর্কটা আপাতত শেষ হতে যাচ্ছে। আগামীকাল মোহামেডানের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন জামাল। আজ ম্যাচ–পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তীর সঙ্গে ক্লাবের পক্ষ থেকে হাজির করা হয়েছিল বাংলাদেশ অধিনায়ককে। বিদায়ের আগে দুজনের কণ্ঠেই বিষাদের সুর। জামালকে মিস করবেন বলে জানিয়েছেন শঙ্করলাল।

বর্তমানে আই লিগের সুপার সিক্স পর্বে খেলছে মোহামেডান। আগামীকাল তৃতীয় ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সের বিপক্ষে খেলবে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। চতুর্থ ও শেষ ম্যাচটি ২১ ও ২৭ মার্চ। কিন্তু জাতীয় দলের সঙ্গে নেপাল সফরে যাওয়ায় মোহামেডানের হয়ে শেষ দুটি ম্যাচ খেলা হচ্ছে না জামালের। বিদায় দেওয়ার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে জামালের ভূয়সী প্রশংসা করলেন কোচ শঙ্করলাল, ‘আমি আগেও বলেছি দলে জামাল একজন নেতার মতো। সে একজন ভালো মানুষ ও একজন ভালো খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চলে যাওয়ায় আগামীকালই ওর এখানে শেষ ম্যাচ। আমরা তাকে মিস করব। সে আমাদের মনে থাকবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

অথচ মোহামেডানের সঙ্গে চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও দলটিতে জামালের খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে জাতীয় দলের হয়ে কাতারে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন জামাল। সুস্থ হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দিতে দেরি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে নতুন দলে দেরিতে যোগ দেওয়ায় মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। কলকাতা মোহামেডানের জার্সিতে অভিজ্ঞতার কথা শোনাতে গিয়ে আজ সে দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন জামাল, ‘সবকিছু মিলিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা। খুব কঠিন সময়ে আমি এসেছিলাম। কারণ, আমি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম। দলে আমি ছিলাম নতুন। আবার অনুশীলন ম্যাচ খেলার তেমন সুযোগ পাইনি। দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে। আমি এখানে আসতে পেরে খুবই গর্বিত।’

প্রায় ৭ বছর পর আই লিগে ফিরে সুপার সিক্সে উঠেছে মোহামেডান। জামালের ছোঁয়ায় যে এই কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে তারা, এটা বললেও হয়তো খুব বেশি ভুল বলা হবে না। চোটের কারণে একটি ছাড়া সব ম্যাচই খেলেছেন জামাল। কাগজে-কলমে কোনো গোল করা কিংবা করানোয় তাঁর নাম না থাকলেও জামালের ভূমিকা যথারীতি ভিন্ন ছিল।

default-image

জাতে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল কলকাতা মোহামেডানেও খেলেছেন পছন্দের ভূমিকায়। আর পাঁড় রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারদের ভূমিকা কখনোই গোল করা বা করানো হয় না, বরং প্রতিপক্ষ যেন হুট করে আক্রমণ করে নিজেদের রক্ষণভাগ ভেঙে না দেয়, সেদিকেই নজর থাকে তাঁদের। রক্ষণকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব থাকে জামালদের। আর এই ভূমিকায় কলকাতায় জামাল এতটাই ভালো খেলেছেন যে এত দিন জামালে মজেছিলেন শঙ্করলাল। জামাল চলে যাওয়ায় তাঁর মনে প্রিয়জন হারানোর বেদনা তো হবেই!

কিছুদিন আগেও মাঝমাঠে জামালের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন শঙ্করলাল। তাঁকে মুগ্ধ করেছিল জামালের নেতৃত্বগুণও। বলেছিলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যে দু-তিনজনের নেতৃত্বে দল ঘুরে দাঁড়ায়, তাঁদের মধ্যে জামাল একজন। আমরা দলে নেতা খুঁজি। সে যদি মাঝমাঠের খেলোয়াড় হয়, তাহলে পরিকল্পনা সাজাতে সুবিধা হয়। জামাল মুখে কথা বলে দলটাকে খেলাচ্ছে। পায়ে ফুটবল নিয়ে খেলাচ্ছে। রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগকে সাহায্য করছে। জুনিয়র খেলোয়াড়দের গাইড করছে। দলে এ রকম ছেলে বেশি থাকলে সাফল্য পেতে সুবিধা হয়।’

বিজ্ঞাপন
default-image

আই লিগকে ভারতীয় ফুটবলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লিগ বলা হয়। আই লিগের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের পার্থক্য করতে গিয়ে জামাল বলেন, ‘আমি মনে করি না তেমন পার্থক্য আছে। স্থানীয় খেলোয়াড়েরা প্রায় একই রকম। তবে আমি মনে করি বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের ফুটবলে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন