বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বড়দিনের ছুটির আমেজ বক্সিং ডে-তেই শেষ হয়েছে ইউনাইটেডের। অবনমন অঞ্চলে থাকা নিউক্যাসলের সঙ্গে বহু কষ্টে ড্র করেছে রেড ডেভিলরা। এই ড্রতে লিগে এখন সপ্তম স্থানে আছে ইউনাইটেড। এমন ধারা চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আর চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা হবে না তাদের।

নিউক্যাসল ম্যাচে আরও একবার বিতর্ক জন্ম দিয়েছেন রোনালদো। ম্যাচ শেষে কারও জন্য অপেক্ষা না করে রাগ দেখিয়ে সোজা ড্রেসিংরুমের দিকে চলে গেছেন। এ মৌসুমে এর আগেও বেশ কয়েকবার এমনটা করতে দেখা গেছে তাঁকে। সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব না দিয়ে এভাবে মাঠ ছাড়ায় সাবেক সতীর্থ গ্যারি নেভিলও খেপেছেন। রোনালদোর এমন আচরণ দলের পরিবেশ নষ্ট করছে বলে ধারণা নেভিলের।

আগবনলাহোরের কণ্ঠেও তেমন সুর। সোমবার রাতে শুরুতে একাদশে থাকা রোনালদো গোল পাননি। বদলি নেমে দলকে এক পয়েন্ট এনে দিয়েছেন এদিনসন কাভানি। গোল না পাওয়ায় রোনালদোর হতাশা টের পেয়েছেন সবাই। রোনালদোর গোমড়া মুখে ঘুরে বেড়ানো পছন্দ হয়নি আগবনলাহোরের। সাবেক এই স্ট্রাইকারের ধারণা, দলের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, রোনালদোর যত চিন্তা শুধু নিজের গোল নিয়েই!

default-image

ফুটবল ইনসাইডারে আগবনলাহোর বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে রোনালদো শুধু নিজের গোল পাওয়া নিয়েই চিন্তিত। পুরো ম্যাচে রোনালদো মুখ কালো করে ঘুরে বেড়িয়েছে। সুযোগ পাচ্ছিল না বলে বারবার হতাশা প্রকাশ করছিল। ম্যাচের পরও মুখ গোমড়া করে মাঠ ছেড়েছে। আমার ধারণা, ড্রেসিংরুমে গিয়েও এমন ছিল সে।’

ইউনাইটেডের জার্সিতে ১৮ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন রোনালদো। অর্থাৎ প্রত্যাবর্তনে ফর্মেই আছেন এই মহাতারকা। কিন্তু তাঁর ফেরা দলের তরুণদের জন্য ক্ষতির কারণ বলেই মনে হচ্ছে আগবনলাহোরের, ‘তার আচরণ হতাশাজনক। আমি রাশফোর্ড (মার্কাস), গ্রিনউড (ম্যাসন), সাঞ্চো (জাডোন) হলে তো শট নিতেই ভয় পেতাম। ম্যাচে যখনই তারা শট নিচ্ছে, তখনই রোনালদো দুই হাত তুলে হতাশা প্রকাশ করছে, “আমার দিকে কেন পাস দিলে না?” ড্রেসিংরুমে কোনো রসায়ন নেই। রোনালদো আসার পর থেকে রাশফোর্ড ও গ্রিনউডের ফর্ম পড়ে গেছে। ওরা নিজেদের প্রকাশ করতে পারছে না। মনে হচ্ছে ওরা ভাবছে, “রোনালদোকে পাস দিতেই হবে, রোনালদোর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”’

default-image

এ মৌসুমে শুরুটা দারুণ করেছিল ইউনাইটেড। প্রথম দিকে রীতিমতো গোলবন্যা দেখিয়েছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, পল পগবা, গ্রিনউডরা। সেই দলে রোনালদো যোগ দেওয়ার পর তাই আশা বেড়ে গিয়েছিল ইউনাইটেডের। কিন্তু মাঠে হচ্ছে তার উল্টো। আগবনলাহোর এতে রোনালদোরই দায় দেখছেন, ‘রোনালদো আসার আগে গ্রিনউড খেলোয়াড়দের কাটিয়ে এগিয়ে যেত, শট নিত। এখন সে এসব করে না এবং বিরতিতে ওকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। আমি যদি রাশফোর্ড, গ্রিনউড বা সাঞ্চো হতাম তাহলে নিজেকে বলতাম, “কেন তাকে ফিরিয়ে আনল ক্লাব?”’

আজ রাতেই বার্নলির বিপক্ষে ম্যাচ আছে ইউনাইটেডের। এই ম্যাচে ইউনাইটেডকে জয়ের ধারায় ফেরার জন্য একটা কাজ করতে বলছেন আগবনলাহোর। অন্তর্বর্তীকালীন কোচকে বলেছেন দলের ভালোর জন্য রোনালদোকে একাদশ থেকে বাদ দিতে, ‘সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড় যে দুর্দান্ত এক ক্যারিয়ার কাটিয়েছে। কিন্তু সে আর আগের মতো নেই। এ মৌসুমে ইউনাইটেড তাদের সেরা ফুটবল খেলেছে চেলসির বিপক্ষে, সেদিন রোনালদো বেঞ্চে ছিল। রাশফোর্ড, গ্রিনউড বা সাঞ্চো সামনে ত্রয়ী হিসেবে খেলতে পারবে যারা নিজেদের মধ্যে জায়গা অদল-বদল করতে পারে। ম্যানেজারের কলজে থাকলে রোনালদোকে পরের ম্যাচ থেকে বাদ দেবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন