default-image

শেষ বাঁশি বাজতে মিনিট খানেকের মতো বাকি। অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলার মানসিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। হঠাৎই কর্নার মালয়েশিয়ার পক্ষে। উড়ে আসা বলটিকে দুর্দান্ত হেডে ফাইজাত পাঠিয়ে দিলেন জালে। মুহূর্তেই স্তব্ধ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রায় ৩০ হাজার দর্শক। যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্টেডিয়াম, ৪০ হাজার ভোল্টের!
বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন গুড়িেয় উড়তে শুরু করেছেন মালয়েশিয়ান যুবারা। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন রায়হান, মামুনুল, ইয়ামিন। চুপচাপ মাটিতে মুখ গুঁজে শুয়ে রইলেন অনেকক্ষণ। এত কাছে, তবু কত দূরে সরে গেল কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি।
এটা হতে পারত স্মরণীয় এক সন্ধ্যা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে সোনালি ট্রফিটা নিতে পারতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। কিন্তু সবকিছুই কর্পূরের মতো উবে গেল শেষ মুহূর্তের হৃদয়ভাঙা এক গোলে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদিনের মতো টুকরো টুকরো খুনসুটি আর করতে পারলেন না কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ। ডাচ কোচের ফরসা মুখখানায় রাজ্যের অন্ধকার। দলকে ফাইনালে তুলেও তিনি এক বিয়োগান্ত কাহিনির চরিত্র। কিছুতেই মানতে পারছিলেন না হারটাকে, ‘যদি আমরা ৩-০ গোলেও হেরে যেতাম, তবু ঠিক ছিল। কিন্তু শেষ মিনিটের গোলে এভাবে! উফ্, আমি কিছুতেই এই হার মেনে নিতে পারছি না। ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। শুধু আমি কেন, পুরো জাতিই দুঃখ পেয়েছে। চেয়েছিলাম যেন বঙ্গবন্ধু কাপটা এই দেশেই থাকে। কিন্তু পারলাম না।’
ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা। ওয়ার্মআপের সময় হেমন্ত হেরে যান চোটের কাছে। আর সাত মিনিটেই চোট পেয়ে উঠে আসেন আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় জাহিদ। হারের পেছনে এটাকেও অন্যতম কারণ বললেন ডি ক্রুইফ, ‘অমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এভাবে হেমন্ত ও জাহিদের মতো ফুটবলারকে হারানো যেকোনো কোচ ও দলের জন্যই মর্মান্তিক।’
তার পরও দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোল শোধ করে দারুণভাবে মাঠে ফেরে দল। বিরতির সময় কোচের কি বার্তা দলকে বদলে দেয় এভাবে? ‘আমি ওদের বলেছিলাম যা হয়েছে সব ভুলে যাও। নতুন করে শুরু করো। একটা গোল হলেই সব দৃশ্য বদলে যাবে। এমনকি সহকারী টিটুকেও বলেছিলাম দেখো, খুব দ্রুতই তৃতীয় গোলটি পেয়ে যাব। অতিরিক্ত সময়েও হয়তো পেতে পারতাম। কিন্তু সব ভেস্তে গেল।’
এমন হারে ডি ক্রুইফ ভাগ্যকেও দুষলেন কিছুটা, ‘সবাই আমরা দুর্ভাগা। এই কাপটা জিতলে এ দেশের ফুটবল অনেক বদলে যেত। তার পরও বলব এই টুর্নামেন্টে সেরা দল একটাই—বাংলাদেশ।’
শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়ার পুরোনো অভ্যাসটা বদলানো গেল না ভেবে দুঃখই ঝরল কোচের, ‘ফুটবলারদের মধ্যে ক্লান্তি এসে পড়েছিল। ওদের একটু মনোযোগেরও অভাব ছিল। তার পরও ভেবেছিলাম এই দল থেকে শেষ মিনিটের গোল খাওয়ার ভূতটা পুরোই তাড়িয়ে দিতে পেরেছি। মনে করেছিলাম এটা ওদের মাথা থেকে মুছে ফেলতে পেরেছি। কিন্তু আবারও তা ঘটল।’
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পরশু তাজিকিস্তানে এএফসি কাপে খেলতে গেছেন স্ট্রাইকার মিঠুন চৌধুরী ও ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের দুই ফুটবলারকে নাকি ছাড়তেই চাননি কোচ, ‘আমি ওদের ছাড়তে চাইনি। আমি এটা নিয়ে সালাউদ্দিনের (বাফুফে সভাপতি) সঙ্গে কথাও বলেছিলাম। উনি আমাকে বুঝিয়েছেন যে ওটাও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এবং ওদের ছেড়ে দেওয়া উচিত বাংলাদেশের ফুটবলের স্বার্থেই। আমি যেহেতু বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতির জন্য এসেছি তাই ওদের ছাড়তে রাজি হই। কিন্তু আবারও বলছি আমি মোটেও খুশি নই এই সিদ্ধান্তে।’
শিরোপা জিতে মালয়েশিয়ার কোচ মোহাম্মদ রাজিপ ইসমাইল উচ্ছ্বসিত, ‘খুব কঠিন একটা ফাইনাল ছিল। কিন্তু শেষ মিনিট পর্যন্ত আমরা আশা ছাড়িনি।’
আশা কিন্তু বাংলাদেশও ছাড়েনি। স্কোরলাইন বলছে হেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু মাঠের ৯০ মিনিটের ছবিটা কি তাই বলে?

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন