default-image

এ মুহূর্তে এশিয়ার অন্যতম সেরা দল কাতার। এশিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়ন। ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এ দেশটি পৃথিবীর ধনী দেশগুলোর একটিও। কাতারের সাম্প্রতিক ফুটবল অন্য উচ্চতায় ওঠার মূলে বিখ্যাত অ্যাসপায়ার ফুটবল একাডেমি বড় ভূমিকা পালন করছে। অত্যাধুনিক এ একাডেমির সুযোগ–সুবিধা এককথায় দুর্দান্ত। দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিভাবান যেসব ফুটবলারের বাড়বাড়ন্ত, তারা এই অ্যাসপায়ার একাডেমিরই তৈরি। এই অ্যাসপায়ার একাডেমিরও তৈরি করা এক ফুটবলার এখন খেলতে চান বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে।

নাম তাঁর ওবায়দুর রহমান। কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার। অ্যাসপায়ার একাডেমিতে ফুটবলের পাঠ নিয়েছেন, পড়াশোনা করেছেন নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। সবচেয়ে বড় কথা খেলেছেন কাতারের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে। কাতার লিগের ক্লাব আল দুহালির হয়েও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে হয়ে গেছে ২২ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের। তিনি এখন তাঁর মাতৃভূমি বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্নের জাল বুনতে নাম লিখিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বেই বসুন্ধরার হয়ে খেলতে দেখা যাবে তাঁকে। বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্নে তিনি এতটাই বিভোর যে কাতার জাতীয় দলে ভবিষ্যতে কখনো খেলার স্বপ্নকেও বিসর্জন দিতে রাজি তিনি। বাংলাদেশের হয়ে খেলার ইচ্ছার কথা তিনি এরই মধ্যে জানিয়েছেন কোচ জেমি ডে’কে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে তাঁর।

default-image
বিজ্ঞাপন

ওবায়দুরের জন্ম ফেনীতে। ২০০৬ সালে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমান কাতারে। প্রকৌশলী বাবা গোলাম কিবরিয়া সেখানকার এক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। আর ওবায়দুর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সুযোগ পেয়ে যান অ্যাসপায়ার একাডেমিতে। ২০১৭ সালে পাট চুকিয়ে নাম লেখান কাতার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আল দুহালিতে। ক্লাবটির অনূর্ধ্ব– ২৩ দলে খেলার পর ২০১৯-২০ মৌসুমে মূল দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। খেলেছিলেন দুটি ম্যাচও।

প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুর বলছিলেন, ‘আমি অ্যাসপায়ার একাডেমির গ্র্যাজুয়েট। নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। সেখানে একাডেমিক পড়াশোনা কম। খেলা বেশি। এর পর আল দুহালি ক্লাবে যোগ দিই। মূল দলের হয়ে খেলেছি দুটি ম্যাচ।’

default-image

কাতারের নাগরিক না হয়েও দেশটির জাতীয় যুব দলের হয়ে খেলেছেন ওবায়দুর। মূলত মিশন পাসপোর্টের সুবাদে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ করে দেয় কাতার। সে সুযোগেই ওবায়দুরের খেলা হয়েছে অনূর্ধ্ব–১৬ ও ১৯ দলে। কাতার যুব দলের জার্সিতে গলফ কাপ ছাড়াও খেলেছেন চিলির একটি টুর্নামেন্টে। ওবায়দুর বলেন, ‘কাতারে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে মিশন পাসপোর্ট দেয়। সেটা দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলা যায়। পাসপোর্টটি তাঁরা তাঁদের কাছেই রেখে দেন। এএফসির কোনো টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ না পেলেও অনূর্ধ্ব–১৬ দলের হয়ে গলফ কাপ ও চিলির একটি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে খেলেছি।’

default-image

প্রায় দুই সপ্তাহ হলো বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে অনুশীলন করছেন ওবায়দুর। ক্লাবটিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়ে ঠাসা। তাঁদের মধ্যে নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন? ওবায়দুর অবশ্য বলেছেন তিনি চেষ্টা করছেন, ‘অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিজের তুলনা করব না। কারণ করোনার পরে আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ খেলা হয়নি। সে ক্ষেত্রে আমি কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছি। এখন আগে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে মনে হয় বেশ খানিকটা খাপ খাওয়াতে পেরেছি।’

গত মৌসুমে বসুন্ধরায় নাম লিখিয়ে এরই মধ্যে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া হয়ে গিয়েছে ফিনল্যান্ডপ্রবাসী ডিফেন্ডার তারিক রায়হানের। বাংলাদেশের লাল–সবুজ জার্সিতে চোখ ওবায়দুরেরও, ‘আমার মূল লক্ষ্যই বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা। এর জন্যই বাংলাদেশে আসা। বাংলাদেশ কোচ জেমি ডের সঙ্গে আমার আলাপও হয়েছে।’

ওবায়দুরকে বড় সার্টিফিকেট দিচ্ছেন বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন। কয়েক দিনের দেখায় ওবায়দুরকে মনে ধরেছে ব্রুজোনের, ‘খুবই মেধাবী ফুটবলার। বলের ওপর দক্ষতা থাকায় আক্রমণে খুবই তীক্ষ্ণ। কিছু জায়গায় উন্নতি করতে পারলে দুর্দান্ত ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে ওর।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন