বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কাতারে ২০০ কোটি ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ হাজার ৫৪ কোটি অর্থ বিনিয়োগের ব্যাপারটা শুরুতে ব্যাখ্যা করা যাক। স্প্যানিশ টিভি অনুষ্ঠান এল চিরিঙ্গিতো জানিয়েছে, ‘গত কয়েক বছরে নিজের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাতারে ২০০ কোটি ইউরোর বেশি বিনিয়োগ করেছেন। কাতারের আমিরের সঙ্গে তাঁর দারুণ সম্পর্ক। আর রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাবের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।’

এল চিরিঙ্গিতো টিভি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আচমকা বেড়ে গেছে। এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জোসেপ পেদ্ররোলের কথা একসময় হাসি-তামাশার জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু রিয়াল সভাপতি পেরেজের খুবই ঘনিষ্ঠ এই উপস্থাপক। নিজের যেকোনো কাজের জন্য পেদ্রেরোলকে ব্যবহার করেন পেরেজ। সেটা ভুয়া খবর সৃষ্টি করে হোক কিংবা ক্লাবের ভেতরের খবর ফাঁস করতেই হোক না কেন। রিয়াল মাদ্রিদ যে আগস্টের শেষ দিকে এমবাপ্পেকে কেনার জন্য প্রস্তাব দেবে, সেটা দলবদলের শুরু থেকেই জানিয়ে আসছিলেন পেদ্রেরোল। বিভিন্ন কারণে সমর্থকগোষ্ঠীকে খেপিয়ে তোলা পেরেজ এমন খবর সৃষ্টি করেই নিজের পক্ষে একটু সমর্থন বাড়াচ্ছিলেন।

default-image

এর মধ্যেই গত পরশু পিএসজির কাছে এমবাপ্পের জন্য ১৬ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। চুক্তির আর মাত্র এক বছর বাকি আছে, আর চার মাস পরেই যাকে মুফতেই নেওয়া যাবে, তার জন্য ১৬ কোটি ইউরোর প্রস্তাব অনেকের কাছেই বাড়াবাড়ি ঠেকছে। ওদিকে পিএসজির কাছ এ প্রস্তাব খুব কম মনে হচ্ছে। দলটির ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দো বলেছেন, এত কম দামে তারা এমবাপ্পেকে ছাড়বেন না। এটা জেনেই নাকি পেরেজ এমন প্রস্তাব দিয়েছেন। যাতে পিএসজি এখন বিক্রি না করলেও ছয় মাস পর এমবাপ্পের সঙ্গে রিয়াল মুফতেই চুক্তি করে নিতে পারে।

লিওনার্দো অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, দরটা বাড়িয়ে দিলে এবং সেটা তাঁদের মনঃপূত হলে আর আপত্তি থাকবে না পিএসজির। সে দরটা কত, সেটাও জানানো হয়েছে ফ্রান্সের বিশ্বস্ত দুই পত্রিকার মাধ্যমে। ২১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। এর মধ্যে পিএসজি নেবে ১৮ কোটি, এমবাপ্পেকে কেনার জন্য যে অর্থ তারা ব্যয় করেছিল। আর বাকি ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দেওয়া হবে মোনাকোকে। কারণ, এমবাপ্পেকে কেনার সময় মোনাকোর একটা শর্ত গিলেছিল পিএসজি। আর তা হলো, এমবাপ্পেকে প্রথম চুক্তির মেয়াদে বিক্রি করা হলে বাড়তি ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো পাবে মোনাকো!

default-image

এ খবর পাওয়ার পর রিয়াল কাল রাতে নতুন এক প্রস্তাব দেওয়ার খবর শুনিয়েও আপাতত চুপচাপ আছে। কারণ, তারা জানে, লিওনার্দো যতই উষ্মা দেখান আর বড় বড় কথা বলুন কেন, মূল সিদ্ধান্ত তো নেবেন পিএসজির মালিক। পোশাকি নাম কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে পিএসজির মালিকানা তো আসলে কাতারের মালিক তামিম বিন হামাদ আল থালির হাতেই।

রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি পরিচয়ের বাদে পেরেজের অন্য পরিচয়টি কিন্তু ফেলনা নয়। স্পেনের অন্যতম ধনী ব্যক্তি পেরেজ নির্মাণ ব্যবসায়ী। পেরেজ ব্যবসার দিকটা দারুণ বোঝেন। আর সে কারণেই এই মহামারির মাঝেও রিয়াল মাদ্রিদ কোনো ক্ষতির মুখ দেখেনি, যেটা বার্সেলোনা বা অন্য অনেক বড় ক্লাবই এড়াতে পারেনি। কাতারে ব্যবসার বিনিয়োগ করে রাখায় পেরেজ এখন হাতে দারুণ এক টেক্কা পেয়েছেন।

default-image

কাতারের আমিরের সঙ্গে তাঁর এই সম্পর্ক এখন ভালোই কাজে লাগবে, যদি আসলেই এমবাপ্পে দলে টানার ইচ্ছা থাকে তাঁর। কারণ, এমবাপ্পে পিএসজির জন্য অনেক গর্বের বস্তু হতে পারেন, ক্রীড়া প্রকল্পের বড় অংশ হতে পারেন। কিন্তু কাতারের আমিরের কাছে পেরেজের বিনিয়োগ করা ২০০ কোটি ইউরোর ব্যবসার গুরুত্ব এর চেয়ে কম নয়।

তাই চিরিঙ্গিতো যদি সঠিক তথ্য দিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে নতুন করে দর না হাঁকিয়েই কিন্তু আরেকটি চাল দিয়ে ফেলেছেন পেরেজ। এখন দেখার অপেক্ষা, পিএসজি কী পাল্টা জবাব দেয়!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন