default-image

ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেছিলেন, ‘আমরা এই ম্যাচ থেকে অন্তত একটা পয়েন্ট পেতে চাই।’ এশিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে বলতে গেলে ড্র করার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন জামাল। কিন্তু প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে যে কতখানি ফারাক, সেটা বেশ ভালোভাবেই টের পেয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে করোনায় স্থগিত হওয়া বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের খেলা আবারও শুরু হয়েছে আজ। কাতারের আবদুল্লাহ বিন খলিফা স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগের ম্যাচে আজ বাংলাদেশকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে কাতার। জোড়া গোল করেছেন আলমোয়েজ আলী ও আকরাম হাসান আফিফ। একটি গোল করেছেন আবদুল আজিজ হাতিম। এই জয়ে ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই রইল কাতার। আর ৫ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতেই বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন
default-image

গত অক্টোবরে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাতারের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টিভেজা মাঠে সেই ম্যাচ হারলেও লাল–সবুজের দল গোল করার সুযোগ তৈরি করেছিল। হারের পরও তাই মানুষের প্রশংসা পেয়েছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। কিন্তু আজ গোল করার সুযোগ তৈরি করা তো দূরের কথা, নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই সারাক্ষণ ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয়েছে তপু বর্মণদের। করোনা মহামারির কারণে পাওয়া বিরতিতে এমনিতেই খেলোয়াড়দের ফিটনেস, টেকনিক-ট্যাকটিস আগের মতো নেই।

গত মাসে নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেললেও বাংলাদেশের মাঝমাঠের দুরবস্থা চোখে পড়েছে। আজও ছিল একই অবস্থা। এলোমেলো মাঝমাঠ। জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানাদের খুঁজে পেতে যেন দুরবিন লেগেছে। উল্টো কাতারের গোলরক্ষক মেশাল বারসামকে বেশির ভাগ সময় অলস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কাতারের আক্রমণের একটা পরিসংখ্যানই যথেষ্ট, ৭০ মিনিট পর্যন্ত গোলে ২৪ বার শট নিয়েছে কাতার। সব মিলিয়ে কাতার বাংলাদেশের পোস্টে শট নিয়েছে ২৯ বার। প্রথমার্ধেই কাতার নিয়েছিল ১৮টি শট।

default-image

কোচ জেমি ডে বাংলাদেশ দলকে সাধারণত ৪-২-৩-১ ছকে খেলান। কিন্তু সেই ছক বদলে এদিন রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলিয়েছেন কোচ। ৪-১-৪-১ ছকে কৌশল সাজানো জেমির দলে ছিলেন না অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আশরাফুল রানা। তাঁর বদলে মাঠে নামান আনিসুর রহমানকে। কাতারে গিয়ে স্থানীয় সেনাবাহিনী ফুটবল দল ও লুসাই স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ওই দুই ম্যাচে আশরাফুলের পারফরম্যান্সে খুব বেশি সন্তষ্ট ছিলেন না কোচ। তাই তো আনিসুরের ওপর আস্থা রাখেন। গত ১৩ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় আনিসুরের।

তবে সেদিন তাঁকে ততটা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। কাল বলতে গেলে ‘অ্যাসিড টেস্ট’ হয়েছে আনিসুরের। সারাক্ষণ আকরাম হাসান, হাসান আল হায়দুস, আলী মোয়েজদের ভয়ংকর সব ক্রস, শট সামলাতে হয়েছে আনিসুরকে। কখনো ফিস্ট করে বাঁচিয়েছেন নিশ্চিত গোল। বেচারি আনিসুরের ওপর দিয়েই বলতে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝড় বয়ে গেছে আজ।

বিজ্ঞাপন
default-image

কোচ জেমি ডে বাঁ প্রান্তে খেলিয়েছেন রহমত মিয়াকে, ডান প্রান্তে ছিলেন বিশ্বনাথ ঘোষ। রক্ষণভাগ সামলেছেন তপু বর্মণ ও রিয়াদুল হাসান। তাঁদের ওপরেই খেলেছেন জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, বিপলু আহমেদ, সাদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এ ছাড়া নাম্বার নাইন হিসেবে নাবিব নেওয়াজ জীবনের জায়গায় আজ একাদশে সুযোগ পান মাহবুবুর রহমান। যদিও ৬৬ মিনিটের সময় মাহবুবুরকে তুলে নেন কোচ। এরপর তাঁর বদলে মাঠে নামান নাবিব নেওয়াজকে। কিন্তু নাবিব নেওয়াজ নেমেও ম্যাচের স্কোর লাইনে এতটুকু বদল আনতে পারেননি।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠা। যদিও সেই কৌশলে খুব একটা সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ। সারাক্ষণ দুই পাশ দিয়ে আক্রমণে উঠেছেন কাতারের আকরাম আফিফ ও আহমেদ আলাদিন।

ম্যাচের শুরু থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে উঠেছে কাতার। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের পায়ে ছিল মাত্র ২৭ ভাগ বল। আর ৭৩ ভাগ বল ছিল কাতারিদের দখলে। ম্যাচের ৩ মিনিটেই প্রথম আক্রমণ, আবদেল করিমের শট বারের অল্প ওপর দিয়ে যায়। আর ৪ মিনিটে আকরাম আফিফের ক্রস, আহমেদ আলাদিনের হেড তপু বর্মণ ক্লিয়ার করতে গিয়ে সাইড পোস্টে লাগে। ৯ মিনিটে প্রথম গোল পেয়েছে কাতার। বক্সের মধ্যে মিডফিল্ডার আবদুল আজিজ হাতিমের গড়ানো এক শটে ১-০ তে কাতার এগিয়ে যায়। ৩৩ মিনিটে আফিফ দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে করেন দ্বিতীয় গোল। আনিসুরের মাথার ওপর দিয়ে বল ঢোকে জালে।

default-image

এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ভয় ছিল আলমোয়েজ আলীকে নিয়ে। ৯ গোল করে যিনি এশিয়ান কাপ ফুটবলের সেরা গোলদাতা হয়েছেন এবার। ঠিক সময়ে দারুণভাবে জ্বলে ওঠেন আলমোয়েজ। ৬৩ মিনিটে আলমোয়েজের দুর্দান্ত এক হেড ঠেকিয়ে দেন আনিসুর। এরপর ৭০ মিনিটে আলমোয়েজ বক্সে ঢুকলে তাঁকে বাধা দেন রিয়াদুল। এরপর মালয়েশিয়ান রেফারি মোহাম্মদ আমিরুল ইজওয়ান পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেখান থেকে গোল করেন আলমোয়েজ (৩-০)। আর ৭৬ মিনিটে আবদেল আজিজের থ্রো থেকে প্লেসিংয়ে নিজের জোড়া গোল করেন আলমোয়েজ। এটি ছিল ম্যাচে কাতারের চতুর্থ গোল। অবশ্য গোল করেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এই ফরোয়ার্ড। এরপর যোগ হওয়া সময়ে আকরাম আফিফ বাংলাদেশের কফিনে ঠুকেছেন শেষ পেরেক।

বাংলাদেশ দল: আনিসুর রহমান, বিশ্বনাথ ঘোষ, রহমত মিয়া, তপু বর্মণ (ইয়াসিন খান), রিয়াদুল হাসান, জামাল ভূঁইয়া, বিপুল আহমেদ (সুমন রেজা), সোহেল রানা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মাহবুবুর রহমান (নাবিব নেওয়াজ), সাদ উদ্দিন।

মন্তব্য করুন