বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ব্রাজিল কোচের মতো না হলেও ভিনিকে নিয়ে অন্য রকম পরিস্থিতিতে পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দারুণ খেলছেন ভিনিসিয়ুস। অভিযোগ উঠেছে, আনচেলত্তির রিয়াল ব্রাজিল উইঙ্গারের ওপর নির্ভরশীল। ইতালিয়ান কোচকে এ অভিযোগ খণ্ডন করতে সাতপাঁচ বোঝাতে হচ্ছে সংবাদমাধ্যমকে। তাতে অবশ্য তেমন লাভ হচ্ছে না। গত ২৯ ডিসেম্বর ভিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে রিয়াল স্কোয়াডের বাইরে চলে যান। এরপর ভীষণ ভুগেছে আনচেলত্তির দল। ২ জানুয়ারি হেতাফের কাছে হারে ১-০ গোলে।

কিন্তু ছয় দিন পরই ভিনি দলে ফিরে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় এনে দেন রিয়ালকে, ম্যাচে ২টি গোল করেছেন তিনি। সে ম্যাচের পর ভিনির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন আনচেলত্তি। ব্রাজিলিয়ান তারকার সহজাত ড্রিবলিং কিংবা পায়ের কারুকাজ নিয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি। কিন্তু মন্তব্যটা বুঝিয়ে দেবে রিয়াল আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুসের প্রভাব, ‘সে এমনভাবে জোড়া গোল করেছে যেন সে দলের সেন্টার ফরোয়ার্ড।’

অথচ ভিনি খেলেন বাঁ প্রান্তের উইংয়ে। বল পেয়ে এখান থেকে দৌড়ে বক্সে ঢোকাটা তাঁর সহজাত খেলা। সেখানে করিম বেনজেমা-মার্কো আসেনসিওরা থাকলেও আলাদা করে নজর কাড়ছেন ভিনি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ভিনির গোল করার ক্ষুধা আগের তুলনায় বেড়েছে। গোলের গন্ধও এখন পাচ্ছেন ভালোই। তীব্র গতি ও পায়ের কারুকাজে ডিফেন্ডারদের ছিটকে ফেলা তাঁর সহজাত হলেও আগে ফিনিশিংয়ে সমস্যা ছিল তাঁর। সাম্প্রতিক সময়ে খেলা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এ সমস্যা এখন অতীত হওয়ার পথে।

default-image

ভিকেরি তাঁর কলামে বিষয়টিকে ভিনির উন্নতি হিসেবে দেখলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন, গতিটা অমূল্য সম্পদ এই ব্রাজিলিয়ানের, তিতে ভিনির চকিত গতিকে বলে থাকেন ‘পঞ্চম গিয়ার’। কিন্তু ফুটবল খেলা তো শুধু গতি দিয়ে হয় না। ম্যাচে ক্ষণে ক্ষণে খেলার ছন্দ পাল্টায়।

সে অনুযায়ী, কখন থামতে হবে, সেটা বোঝাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সময়ে থেমে পাস বাড়ানো, ক্রস দেওয়া কিংবা শট নেওয়া—এসব জায়গায়ও ভিনির উন্নতির অবকাশ দেখছেন ভিকেরি।

ভিকেরি আরও ব্যাখ্যা করেছেন, দৌড়ে বক্সে ঢুকে ভিনি আগে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতেন। এ কারণে ফিনিশিং ভালো হতো না। তীব্রগতিতে দৌড়ানো অবস্থায় নিখুঁত পাস দেওয়া তো এমনিতেই কঠিন। কিন্তু এ দুটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটানোর সামর্থ্য আছে বলেই ভিনির খেলা দেখলে রোমাঞ্চ জাগে।

তবু কি তিনি ব্রাজিল দলে নিজের জায়গা পোক্ত করতে পেরেছেন? সুযোগ একেবারে কম পাননি। ২০১৯ সালে পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে ব্রাজিল দলে ভিনির অভিষেক। সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় বদলি হিসেবে খেলেছেন চার ম্যাচ।

শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পান ভিনি। কিন্তু বিরতির পরই তুলে নেওয়া হয়। এরপর ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার বিপক্ষেও মাঠে নেমেছেন বদলি হয়ে। গত নভেম্বরে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের একাদশের মাঠে নামেন এবং সেবারই প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের জার্সিতে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় খেলার সুযোগ পান ভিনি।

default-image

ভিকেরির মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সে ম্যাচে দারুণ খেলার পরও ভিনিকে একাদশে সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁর চেয়ে কম দক্ষতাসম্পন্ন খেলোয়াড়েরা সুযোগ পেয়েছেন। কারণ, তিতে ভিনির নিজেকে মেলে ধরায় অবাক হয়েছেন। ব্রাজিল কোচ এমন দল গড়ার চেষ্টা করছিলেন, যেখানে একাদশে ভিনির জায়গা ছিল অনিশ্চিত।

তিতে তাঁর ভাবনার প্রমাণ রাখেন গত অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে ওই ম্যাচে ব্রাজিলকে ব্রাজিলের মতো দেখা গেছে। ডান প্রান্তে উইঙ্গার হিসেবে ওপর-নিচ করার স্বাধীনতা পান রাফিনিয়া। বাঁ প্রান্তে বল প্লেয়িং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন লুকাস পাকেতা। তাঁর থেকে একটু ভেতরে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে খেলেন নেইমার।

স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলেন তিনি। তবে অ্যাটাকিং থার্ডের শেষ ফলায় জেসুস কিংবা গ্যাব্রিয়েল বারবোসার চেয়ে ম্যাথিউস কুনিয়াকে বেশি মানানসই লেগেছে।

কিন্তু তিতে এখন এই সমন্বয় ধরে রেখেই নতুন করে ভাবছেন বলে মনে করেন ভিকেরি। আর এ ভাবনার কারণ ভিনিসিয়ুস। তাঁর কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনায় পথ খুঁজছেন ব্রাজিল কোচ। যেহেতু একাদশে ১২ জন খেলানো যাবে না, তাই উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচের একাদশ থেকে যেকোনো একজনকে বাদ দিতে হবে ভিনিকে খেলাতে। এটাই চ্যালেঞ্জ তিতের—আক্রমণভাগে সেরা সমন্বয় খুঁজে বের করা।

যেহেতু তিতের হাতে পর্যাপ্ত খেলোয়াড়, লোকের চোখে এটা মধুর সমস্যা মনে হতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কোচের এ সমস্যার সমাধান করেছেন নেইমার। চোটে পড়ায় ব্রাজিলের সর্বশেষ স্কোয়াডে জায়গা হয়নি পিএসজি তারকার। তাতে ভিনিসিয়ুসের কপাল খোলার সম্ভাবনাই বেশি।

একাদশের হয়ে খেলার সুযোগ পেতে পারেন ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। ভিনি ফর্ম ধরে রাখতে পারলে তাতে নেইমারের ওপর থেকেও চাপ কিছুটা কমে।

আগামী বছর কাতার বিশ্বকাপই সম্ভবত সেরা সময়ের নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ। গত দুটি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে চাপটা এড়াতে পারবেন না নেইমার। কিন্তু ভিনি উঠে আসায় চাপটা ভাগ করে নিতে পারবেন দুজন।

ভিকেরির ভাষায়, ভিনির পাশে ‘জুনিয়র’ শব্দটা শুধু একটি জায়গাতেই আছে, তাঁর নামে। মাঠে তিনি প্রমাণ করেছেন, জাতীয় দলের একাদশে সিনিয়রদের সঙ্গে নিয়মিত খেলার যোগ্যতা রাখেন। আর ছন্দে থাকা এই ভিনিকে কাতারেও দেখা গেলে ব্রাজিলের দুই দশকে গড়ানো বিশ্বকাপ-খরা কেটে যেতেই পারে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন