কী হলে সিটি চ্যাম্পিয়ন, কী হলে লিভারপুল

ক্লপের লিভারপুল আর গার্দিওলার ম্যান সিটির শিরোপাদৌড় শেষ দিনেও রঙ চড়াচ্ছেছবি: রয়টার্স

ইশ, সূচিতে যদি আজ লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটিই একে অন্যের মুখোমুখি হতো!

৩৭ ম্যাচ ধরে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াই চলছে। কিন্তু ৩৮তম ম্যাচে এসেও দেখা গেল, কেউ কাউকে সেভাবে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনেও আজ পেপ গার্দিওলার ম্যান সিটি আর ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুল নামছে শিরোপার আশা নিয়ে।

দুই দল দুই ভিন্ন মাঠে দুই ভিন্ন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলবে। একে অন্যের বিপক্ষে ম্যাচ হলে সম্ভবত এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা কিলিয়ান এমবাপ্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘ইউ-টার্নে’র সঙ্গেও সমানে সমান পাল্লা দিতে পারত!

এমবাপ্পের বর্তমান আর ভবিষ্যৎ অন্য আলোচনা, আপাতত প্রিমিয়ার লিগের দুর্দান্ত লড়াইয়ের শেষেই নজর ফেরানো যাক। আজ শেষ ম্যাচে নামার আগে শিরোপার আশাটা সিটিরই বেশি উজ্জ্বল, লিভারপুলের চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে যে শীর্ষে আছে তারাই। দুই দলেরই ম্যাচ নিজেদের মাঠে, বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় সিটি নামবে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে, অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের প্রতিপক্ষ উলভারহ্যাম্পটন।

তা শিরোপার পথে দুই দলের জন্য সমীকরণটা কী?

৩৭ ম্যাচ শেষে লিভারপুলের (৮৯ পয়েন্ট) চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে সিটি। প্রিমিয়ার লিগে দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে হিসাবে আসে গোল ব্যবধান, সেখানেও সিটি অনেক এগিয়ে। লিভারপুলের গোল ব্যবধান (+) ৬৬, সিটির (+) ৭২।

সিটির জন্য সমীকরণটা সহজ। ভিলাকে হারিয়ে দিলেই হবে! সে ক্ষেত্রে লিভারপুল কী করল না করল, সে নিয়ে ভাবতেই হবে না গার্দিওলার দলকে। কিন্তু সিটি না জিতলে? সে ক্ষেত্রে শিরোপা লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে লিভারপুলের দিকে। সিটি ড্র করলে আর লিভারপুল জিতলে সে ক্ষেত্রে সিটির পয়েন্ট হবে ৯১, লিভারপুলের ৯২। অর্থাৎ লিভারপুলই জিতবে।

সমীকরণ

অ্যাস্টন ভিলাকে হারালেই প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ধরে রাখবে সিটি।
লিভারপুলের ম্যাচে যে ফল হয়, সেই একই ফল সিটির ম্যাচে হলেও সিটিই চ্যাম্পিয়ন হবে।
সিটি-ভিলা ড্র হলে বা ভিলার কাছে সিটি হারলে, উলভসকে হারালেই চ্যাম্পিয়ন হবে লিভারপুল।
উলভসের সঙ্গে ড্র করেও লিভারপুল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, যদি সিটি ভিলার কাছে ৭ গোলে হারে। সম্ভাবনাটা যে অবাস্তব, তা বোধ হয় না বললেও চলে!
ম্যানচেস্টার সিটি না লিভারপুল, কারা জিতবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা?
ফাইল ছবি

আছে প্লে-অফের সম্ভাবনাও? 

অবাস্তবের কথা যখন হচ্ছে, তাহলে প্লে-অফের সম্ভাবনা আর বাদ যাবে কেন! তবে সে ক্ষেত্রে যে সমীকরণ, সেটি হাস্যকরই মনে হবে। প্রিমিয়ার লিগে দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে প্রথমে বিবেচনায় আসবে দুই দলের গোল ব্যবধান। তাতেও ব্যবধান তৈরি না হলে বিবেচনায় আসবে কোন দল কত গোল করেছে, এরপর কোন দল কত গোল খেয়েছে, সেটির হিসাবও।

কিন্তু অদ্ভুতূড়ে কিছু ঘটে এরপরও ব্যবধান তৈরি করা না গেলে? সে ক্ষেত্রে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল বিবেচনায় আসবে। তাতেও ব্যবধান না হলে যেতে হবে প্লে-অফে। তা কী হলে লিভারপুল আর ম্যান সিটির ‘প্লে-অফ’ হতে পারে?

এখানেই মজার হিসাব। আগে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাবটা বলে রাখা যাক, লিগে দুই দলের দুই ম্যাচই ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। সে কারণে কাউকে কোনো ভাবেই সেদিকে এগিয়ে রাখা যায় না। তার মানে পয়েন্ট, গোল ব্যবধান, গোল করা ও গোল খাওয়ার হিসাবই এখানে বিবেচ্য। পয়েন্ট সমান হতে পারে শুধু সিটি হেরে গেলে আর লিভারপুল ড্র করলেই। কিন্তু গোল ব্যবধানে সিটি লিভারপুলের চেয়ে ৬ গোলে এগিয়ে থাকায় যেকোনো ব্যবধানে ড্র হলেই হবে না।

কী হতে হবে? খুব ‘সহজ’ হিসাব! লিভারপুল যদি উলভসের সঙ্গে ৫-৫ গোলে ড্র করে, আর সিটি যদি ভিলার কাছে ৬-০ গোলে হেরে যায়, তাহলেই হবে প্লে-অফ। লিভারপুল-উলভস ৬-৬ গোলে ড্র হলেও প্লে-অফ হতে পারে, তবে সে জন্য সিটিকে হারতে হবে ৭-১ গোলে।