কী নিয়ে আসছে বাফুফে?

জাতীয় দলের ভুটান-লজ্জার পর থেকেই নতুন পরিকল্পনার কথা বলছে বাফুফে। সেই পরিকল্পনা তৈরিতে ফাইলপত্র নিয়ে প্রতিদিনই ফুটবল ভবনে দৌড়ঝাঁপ করছেন টেকনিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক্যাল পরিচালক পল স্মলি।
ব্রিটিশ ভদ্রলোক কী পেশ করতে চলেছেন বাংলাদেশের ফুটবল মহলের কাছে? যা শোনা যাচ্ছে, তাঁর মাথা থেকে বিরাট কোনো কর্মপরিকল্পনা বেরোয়নি। বাফুফের কর্তারাই যেসব টুর্নামেন্ট বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রাখা প্রয়োজন মনে করছেন, সেসবই আছে বহুল আলোচিত এই বর্ষপঞ্জিতে।
কিন্তু ধাঁধাটা হচ্ছে, গত ৫ নভেম্বর ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভা শেষে জানানো হয়েছিল, আগামী চার বছরের বর্ষপঞ্জি ওই সভায় অনুমোদন হয়ে গেছে। গতকাল আরেকবার সভায় বসে বর্ষপঞ্জি অনুমোদন করেছে নির্বাহী কমিটি। কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, এ যেন এক মুরগি একাধিকবার জবাই!
আগের সভার পর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী যেমন বলেছিলেন, কিছু যোগ-বিয়োগ করে ১০ ডিসেম্বর এটি প্রকাশ করা হবে। কালও একই তথ্য দিলেন সালাম। সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘বর্ষপঞ্জির সবই ঠিক থাকবে। তবে তারিখ একটু এদিক-ওদিক হতে পারে।’ একই কথা আগেও বলেছিলেন। তার মানে কোনো কিছুর তারিখই ঠিক নেই বাফুফের!
তা বর্ষপঞ্জির উপহার কী? সালাম বললেন, ‘অনেক কিছুই আছে। আগে ফেডারেশন যে ভুল করেছে, এবার তা সংশোধন করবে। আমরা নতুন করে আসছি। চার বছরের পরিকল্পনা দিচ্ছি, ওখানে অনেক অনেক খেলা থাকবে।’ খেলা তো থাকবেই, কিন্তু এই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৃণমূলের ফুটবলে বাফুফে আসলে কী করবে?
ভুটান-বিপর্যয়ের পর এই প্রশ্নে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছিলেন, ‘নতুন খেলোয়াড় তুলে আনতে ডিসেম্বরে সোহরাওয়ার্দী কাপ করব।’ কিন্তু ডিসেম্বরে ওই টুর্নামেন্ট করার কোনো উদ্যোগই নেই। সালাম কাল দিলেন নতুন তথ্য, ‘সোহরাওয়ার্দী কাপ আমরা রেখেছি জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে। এটি অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট হবে। তবে নাম বদলাতে পারে।’
শেরেবাংলা জাতীয় ফুটবল ১৫ বছর ধরে বাক্সবন্দী। এবার তা বাক্স থেকে বের করার কথা বলা হচ্ছে। ১ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত শেরেবাংলা কাপের সময়। ক্লাবগুলোর যুব টুর্নামেন্ট হয় না বলে বাফুফের অনেক সমালোচনা। সেই কাঙ্ক্ষিত টুর্নামেন্টটি রাখা আছে বর্ষপঞ্জিতে। অনূর্ধ্ব-১৮ ক্লাব টুর্নামেন্টের জন্য সময় ১৬ নভেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
মার্চে বঙ্গবন্ধু কাপ আছে, তবে তারিখ হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের জন্যও সময়সূচি চূড়ান্ত নয়। তবে প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের তারিখ ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল। মে মাসে ফেডারেশন কাপ, লিগ শুরু জুনে।
তবে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে সালামের ভাবনাটা একটু অন্য রকম, ‘ভবিষ্যতে খরচ কমাতে ঢাকার বাইরে ভেন্যু কমিয়ে ফেলতে চাই।’ লিগটা তাহলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে রাখা হবে? বর্ষপঞ্জির মারপ্যাঁচে প্রিমিয়ার লিগটা আবার না দু-একটি ভেন্যুতে বন্দী হয়ে যায়!