যে আশা করে কুতিনিওকে বার্সায় আনা হয়েছিল, তাঁর ছিটেফোঁটাও পূরণ হয়নি।
যে আশা করে কুতিনিওকে বার্সায় আনা হয়েছিল, তাঁর ছিটেফোঁটাও পূরণ হয়নি।ছবি : রয়টার্স

বার্সেলোনার আশা ছিল, তিনি দলে এসে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার অভাব পূরণ করবেন। লিভারপুলের হয়ে তখন ফিলিপ কুতিনিও খেলতেনও দুর্দান্ত। খেলার ধরনের মধ্যে সামান্য হলেও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ওই ঝলকটা দেখা যেত। বার্সার কর্তাব্যক্তিরা তাই এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের পেছনে টাকার বস্তা নিয়ে দৌড়াতে আপত্তি করেননি। ওদিকে কুতিনিওর প্রতি কাতালানদের আগ্রহ দেখে লিভারপুলও সুবিধা নিয়েছে পুরোদমে। চড়চড় করে বাড়িয়ে দিয়েছে দামের পারদ। শেষমেশ ১৬ কোটি ইউরোর বিনিময়ে রফা হয়। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, শুধু ওই দাম পেয়েই ক্ষান্ত হয়নি লিভারপুল, চুক্তিতে এমন অনেক শর্ত ঢুকিয়ে দিয়েছে, যা বার্সেলোনার কপালের চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এমনই এক শর্তের কথা প্রকাশিত হয়ে পড়েছে সম্প্রতি। সেটি জানিয়েছেন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর সাংবাদিক গাব্রিয়েল সানস। তিনি বলেছেন, বার্সেলোনার জার্সি গায়ে কুতিনিও যদি আর দশটা ম্যাচ খেলে ফেলেন, তাহলে লিভারপুলকে আরও দুই কোটি ইউরো দিতে বাধ্য থাকবে বার্সেলোনা। বাংলাদেশের হিসাবে যা প্রায় ২০২ কোটি টাকার সমান।

বিজ্ঞাপন
default-image

যে আশা করে কুতিনিওকে বার্সায় আনা হয়েছিল, তাঁর ছিটেফোঁটাও পূরণ হয়নি। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার উত্তরসূরি হিসেবেই যে কাতালানরা তাঁকে দেখেছিল, তার প্রথম প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল বার্সার জার্সি গায়ে কুতিনিওর প্রথম ম্যাচেই। নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী এসপানিওলের বিপক্ষে কোপা দেল রে'র একটা ম্যাচে কুতিনিওর অভিষেক করিয়ে দিয়েছিল বার্সেলোনা। সে ম্যাচে ইনিয়েস্তার বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। এরপর থেকে কুতিনিওর পারফরম্যান্স শুধু নিচের দিকেই নেমেছে।

মাঝে এক মৌসুম ধারে বায়ার্ন মিউনিখেও খেলে এসেছেন, জিতে এসেছেন ট্রেবল। কিন্তু আসল ক্লাবের হয়ে অর্জনের ভাঁড়ারটা তেমন সমৃদ্ধ নয়। তাঁকে কেনার জন্য বার্সেলোনার যেহেতু এত খরচ হয়েছে, তাই কুতিনিওর খারাপ পারফরম্যান্সটা যেন আরও বেশি করে চোখে পড়ছে।

পারফরম্যান্স যতই খারাপ হোক না কেন, মূল একাদশ কিংবা বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এর মধ্যেই ৯০টা ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার। এই ৯০ ম্যাচে গোল করেছেন ২৩টি, করিয়েছেন ১৪টি। আর ঝামেলাটা বেধেছে এখানেই। বার্সেলোনার সঙ্গে লিভারপুলের চুক্তিতে উল্লিখিত ছিল, বার্সেলোনার হয়ে ১০০ ম্যাচ খেললে ওই বাবদ আরও দুই কোটি ইউরো পাবে লিভারপুল।

এমনিতেই টাকাপয়সার অবস্থা বিশেষ ভালো নয় বার্সেলোনার। সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ যা করে গিয়েছেন, তাতে দলটা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভীষণ। সঙ্গে করোনাভাইরাসের উপদ্রব, আয়-উপার্জনের পথও বন্ধ হয়ে গেছে অনেক। পছন্দের খেলোয়াড়কেই যেখানে টাকা দিয়ে কিনতে পারছে না বার্সেলোনা, সেখানে লিভারপুলকে এই উটকো দুই কোটি ইউরো দেওয়ার কোনো মানেই হয় না।

বিজ্ঞাপন
default-image

তাই বার্সেলোনা খুব করে চাইছে কুতিনিওর ১০০ ম্যাচ হওয়ার আগেই তাঁকে অন্য কোনো ক্লাবের হাতে ‘গছিয়ে’ দিতে, এমনটাই জানিয়েছেন মুন্দো দেপোর্তিভোর সাংবাদিক গাব্রিয়েল সানস। কুতিনিওর বর্তমান বাজারমূল্য চার কোটি ইউরোর মতো। গত মৌসুমের দলবদলের সময় আর্সেনালের মতো ক্লাব চেয়েছিল তাঁকে। বার্সেলোনাকে এই যন্ত্রণা থেকে উদ্ধার করতে এবার আর্সেনাল এগিয়ে আসবে কি না, কে জানে!

প্রতিনিয়ত কুতিনিও চুক্তির এমন নতুন নতুন শর্ত বের হয়। কিছুদিন আগে জানা গিয়েছিল, চুক্তিতে লিভারপুল শর্ত রেখেছে, ২০২১ সাল পর্যন্ত 'অল রেড'দের কোনো খেলোয়াড়ের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারবে না বার্সেলোনা। যদি এই সময়ের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় পছন্দ হয়েও যায় কাতালানদের, সে খেলোয়াড়ের বাই আউট ক্লজের সমান অর্থ পরিশোধ তো করতে হবেই, উল্টো লিভারপুলকে আরও ১০ কোটি ইউরো বাড়তি দিতে হবে বার্সেলোনার। যে কারণে এই সময়ের মধ্যে মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানে, রবার্তো ফিরমিনো, ফাবিনিও, আলিসন, ভার্জিল ফন ডাইক, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আরনল্ড, জর্জিনিও ভাইনালডম কিংবা অ্যান্ডি রবার্টসনের মতো একাধিক খেলোয়াড়ের উত্থান ঘটলেও বার্সেলোনা তাঁদের নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেনি।

default-image

এমনকি নতুন কোচ রোনাল্ড কোমান এসে যে ভাইনালডমকে পছন্দ করেছেন, তাঁকেও এই কারণেই গত মৌসুমে দলে নিতে পারেনি বার্সেলোনা। এই ডাচ মিডফিল্ডারকে দলে নেওয়ার জন্য তাঁর চুক্তি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে বার্সেলোনা। চুক্তি শেষ হবে ২০২১ সালের জুনে, আর চুক্তি শেষ হলেই বিনা মূল্যে এই তারকাকে দলে আনতে পারবে বার্সা। শুধু ভাইনালডমই নন, ম্যানচেস্টার সিটির এরিক গার্সিয়া ও সের্হিও আগুয়েরো, অলিম্পিক লিওঁর মেম্ফিস ডিপাইর মতো অনেক খেলোয়াড়ের চুক্তি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে কাতালানরা। টাকাপয়সার অবস্থা এতই খারাপ।

ভাঁড়ারই যেখানে শূন্য, সেখানে উটকো দুই কোটি ইউরোর ঝামেলা কে বইতে চায়? কুতিনিওকে তাই পত্রপাঠ বিদায় করে দিতে চায় বার্সেলোনা।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন