বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সাড়ে চারটায় ম্যাচ স্থগিত হওয়ার ঘোষণা এল, আর ৫টা ৩১ মিনিটে কিলমারনক ঘোষণা দিয়ে দিল—রাইট বরখাস্ত!

অবশ্য এমনটা আর মনে হবে না, যদি এক ঘণ্টার ব্যবধানে লিগ কর্তৃপক্ষ আর কিলমারনক ক্লাবের দুই বিবৃতি ছাপিয়ে একটু পেছনের দিকে তাকান। কিলমারনক কোচের পদে রাইটের চাকরি এমনিতেই সুতোয় ঝুলছিল, হয়তো গতকাল ডুনফার্মলাইনের ম্যাচ জিতলে একটা বাড়তি সুযোগ পেতে পারতেন। কিন্তু ঘন কুয়াশা সেটি আর হতে দিল না।

ডুমফার্মলাইনের মাঠে কাল স্থগিত ঘোষিত হওয়ার আগে দ্বিতীয়ার্ধে গড়ানো ম্যাচটি স্থগিত হওয়ার সময়ে ১-১ গোলে ড্র ছিল। কিন্তু গত মৌসুমের শেষে এই রাইটের অধীনেই ২৮ বছর পর স্কটল্যান্ডের প্রথম বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে নেমেছে কিলমারনক। এ মৌসুমেও দলটির ভাগ্য সুপ্রসন্ন নয়, লিগে কালকের আগের তিনটি ম্যাচেই তারা হেরেছে। তিনটিই ১-০ ব্যবধানে।

default-image

ওই তিন হারে যা হলো, ১৭ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে কিলমারনক আছে লিগের পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে। স্কটল্যান্ডে দ্বিতীয় বিভাগে মৌসুম শেষে লিগ চ্যাম্পিয়নরাই শুধু সরাসরি প্রথম বিভাগে (স্কটিশ প্রিমিয়ার লিগ) খেলার সুযোগ পায়, দ্বিতীয় দল খেলে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার প্লে-অফের সেমিফাইনালে। তৃতীয় ও চতুর্থ দল খেলে প্লে-অফের কোয়ার্টার ফাইনালে। এ মুহূর্তে লিগের চতুর্থ দল প্যাট্রিক থিসলের পয়েন্ট ১৮ ম্যাচে ৩১। আর শীর্ষে থাকা আব্রোয়াথের পয়েন্ট ১৮ ম্যাচে ৩৪।

পয়েন্ট তালিকা বলছে, হাতে থাকা ম্যাচটি জিতলেই পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে উঠে যেত কিলমারনক, সে ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা দলের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান থাকত আর দুই পয়েন্টের। কিন্তু ক্লাবের বোর্ড আর টমি রাইটের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।

কাল ম্যাচ স্থগিত হওয়ার এক ঘণ্টা পর দেওয়া বিবৃতিতে ক্লাব পরিচালক বিলি বাওয়ি সেটা পরিষ্কার করেই বলে দিয়েছেন, ‘সিদ্ধান্তটা নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে আমাদের। কারণ, আমি জানতাম টমির সব চেষ্টা ছিল কিলমারনকে আবার সাফল্য এনে দেওয়ার লক্ষ্যে। কিন্তু ক্লাবের সবাই এ ব্যাপারে পরিষ্কার যে প্রিমিয়ারশিপে (প্রথম বিভাগ) ওঠাই আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। আমাদের এ মৌসুমে আর অর্ধেক ম্যাচ বাকি আছে, জানুয়ারির শীতকালীন দলবদল এখনো বাকি। সে কারণে আমাদের সব মনোযোগ এখন নতুন কোচকে নিয়ে ওই লক্ষ্য (প্রথম বিভাগে ওঠা) পূরণের চেষ্টা করা।’

রাইট অবশ্য গত মৌসুমেও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। ফেব্রুয়ারিতে যখন তাঁকে কিলমারনকের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, ক্লাবটা তখনো প্রথম বিভাগেই ছিল। রাইটের কাছে ক্লাবের চাওয়া ছিল—যেকোনোভাবে অবনমন ঠেকাও! কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১২ দলের লিগে ১১তম হয়েছে কিলমারনক। স্কটল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম বিভাগে ১২তম দলটি সরাসরি নেমে গেছে দ্বিতীয় বিভাগে, আর ১১তম হওয়া কিলমারনককে খেলতে হয়েছে প্লে-অফের ফাইনালে। দুই লেগের সে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে ওঠার প্লে-অফের সেমিফাইনালে জেতা ডান্ডি ইউনাইটেড।

কিন্তু দুই লেগেই ২-১ গোলে হেরে যায় কিলমারনক, তাতে ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবার দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যেতে হয় কিলমারনককে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন