বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে কুয়েতের মূল জাতীয় দল আছে ১৪২ নম্বরে, বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৭। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে মূল জাতীয় দলের র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাব খাটে না ঠিকই। কিন্তু অনূর্ধ্ব-২৩ আর মূল জাতীয় দলের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি থাকে না বলে মূল দলের র‍্যাঙ্কিং এখানেও মানের পার্থক্যের একটা ধারণা ঠিকই দিয়ে দেয়। আজকের ম্যাচে স্পষ্টতই তাই প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল।

default-image

এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য যে ভালো প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল, সেটির ব্যবস্থা করে দিতে পারেনি বাফুফে। কোনোরকম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা ছাড়াই উজবেকিস্তানে গেছে মারুফুলের দল। মাঠের খেলাতেও ফুটে উঠেছে সে ছাপ। বলের দখলে অনেক এগিয়ে ছিল কুয়েত। অ্যাটাকিং থার্ডে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির মুহুর্মুহু ওয়ান টু ওয়ান আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে।

অবশ্য বিরতিতে যাওয়ার আগে কিছু সময় ভালো ফুটবল খেলেছিল বাংলাদেশ দলও। একসঙ্গে অনেকগুলো পাসের মালা গেঁথেছেন ফয়সাল হোসেন, মারাজ হোসেনরা।

৪-১-৪-১ ফরমেশনে একাদশ সাজিয়েছিলেন মারুফুল। গোল পোস্টের নিচে পাপ্পু হোসেন। রক্ষণভাগে জাতীয় দলের চার খেলোয়াড়—টুটুল হোসেন, রিয়াদুল হাসান, রহমত মিয়া ও ইয়াসিন আরাফাত। দুই সেন্টারব্যাক টুটুল ও রিয়াদুলের জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও আজ কুয়েতি ফরোয়ার্ডদের সামনে তাঁরা শক্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেননি।

১৭ মিনিটেই পিছিয়ে পড়তে পারত বাংলাদেশ, পড়েনি গোলকিপার পাপ্পু পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়ায়। বক্সের বাইরে ফ্রি–কিক থেকে অধিনায়ক ইদ আল রশিদির শট মানবদেয়ালে থাকা টুটুল হোসেনের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। বল ঠেকানোর উদ্দেশ্যে টুটুল হোসেন উঁচুতে লাফ দিলে বল তাঁর হাতে লাগে। পেনাল্টির বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদ জানালেও রেফারি তাঁর সিদ্ধান্তে অটল। অবশ্য স্পট কিক থেকে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন ইদ আল রশিদি। তাঁর নেওয়া ‘পানেনকা’ শট জায়গায় দাঁড়িয়েই লুফে নেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক পাপ্পু।

default-image

কিন্তু আনন্দটা টিকল মাত্র দুই মিনিট। পেনাল্টি ঠেকানোর ২ মিনিট পরই গোল খায় বাংলাদেশ। বাতাসে ভাসানো থ্রু পাসটি বাংলাদেশের রক্ষণভাগের পেছনে ফেলতে চেয়েছিলেন কুয়েতি রাইটব্যাক। বাংলাদেশের দুই সেন্টারব্যাক টুটুল ও রিয়াদুলের মাঝখান থেকে দ্রুতগতিতে বের হয়ে যান আল রাশেদি। ততক্ষণে পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসেছেন গোলরক্ষক পাপ্পু। বল নিয়ন্ত্রণে না নিয়ে বক্সের ওপর থেকে প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠিয়ে দেন আল রাশেদি।

কুয়েতি এই ফরোয়ার্ডের গতির সামনে বেশ কয়েকবার নাকাল হতে হয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে। ৩২ মিনিটেই ব্যবধান বাড়াতে চলেছিলেন রাশেদি। একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢোকার পর নেওয়া তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বাংলাদেশ সে যাত্রায় বেঁচে যায়।

ম্যাচে পরিষ্কার একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৫৮ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে গোলমুখে মাথা ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশের এক খেলোয়াড়। সেই বল কুয়েতি খেলোয়াড়ের হাতে লাগে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়ের পেনাল্টির দাবি তুললেও কর্ণপাত করেননি রেফারি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। ৩০ অক্টোবর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন