এরপর ট্রেন ধরে লিডস থেকে সোজা পৌঁছে যান লন্ডনে। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে বেশ আয়েশের সঙ্গেই খেলা দেখছিলেন নিনা। গায়ে জড়িয়ে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডের পতাকা। আর জাতীয় পতাকার রঙে রাঙিয়ে রেখেছিলেন মুখ। নিনার গলায় ঝোলানো ছিল একটা ক্যামেরা।

যখনই হ্যারি কেইন, রাহিম স্টার্লিংদের পায়ে বল পড়েছে, তখনই সজোরে চিৎকার করেছেন নিনা। ৩০ মিনিটে যখন মাইকেল ডামসগার্ডের গোলে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক, পুরো স্টেডিয়ামে অন্য সব ইংলিশ দর্শকদের সঙ্গে চুপসে যান নিনাও। কিন্তু সিমন কায়েরের আত্মঘাতী গোলে ইংল্যান্ড সমতায় ফিরলে নিনার আনন্দ দেখে কে!

ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোলের ওই সময় পাগলের মতো উল্লাস করছিলেন নিনা ও তাঁর বন্ধু। দুজনের এমন উদ্‌যাপনের দৃশ্য ওই মুহূর্তে ধরা পড়ে টেলিভিশন ক্যামেরায়। টেলিভিশন উপস্থাপিকা স্টেসি দুলির ইনস্টাগ্রামেও আবার তাঁদের একইভাবে দেখা যায়। টেলিভিশনে নিনার এমন উল্লাসের ছবি দেখে অফিসের বস বুঝে যান, মিথ্যা বলেছেন তাঁর কর্মী। ব্যস, এরপর নিনাকে পরদিন অফিসে যেতে নিষেধ করে দেন।
চাকরি হারিয়ে বিপাকে পড়া নিনা আপাতত নিজের লিঙ্কড ইন পেজে আরেকটা চাকরি জোগাড়ের চেষ্টা করছেন।

এভাবে চাকরি হারিয়ে একদিকে মন খারাপ নিনার। আবার ইংল্যান্ড ৫৫ বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠায় নিনার মনটা খুশিতে ভরে গেছে। নিনা বলছিলেন, ‘এটা একটা মিশ্র অনুভূতি। আমরা ফাইনালে উঠেছি, আমি তো রীতিমতো উড়ছি। কিন্তু একই সঙ্গে আমি আমার চাকরিও হারিয়েছি।’

চাকরি হারিয়ে বিপাকে পড়া নিনা আপাতত নিজের লিঙ্কড ইন পেজে আরেকটা চাকরি জোগাড়ের চেষ্টা করছেন।

বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা ঝরল নিনার কণ্ঠে, ‘আমার বন্ধু টিকিট পেয়েছিল। সে জানত খেলা হচ্ছে এবং আমি ফুটবল খেলা দেখার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারি।’

ফুটবল যেন নিনার ধ্যানজ্ঞান, ‘১৯৯৬ সালের পর এমন আনন্দ আমরা করতে পারিনি। সেবার যখন (জার্মানির বিপক্ষে ইউরোর সেমিফাইনালে) গ্যারেথ সাউথগেট পেনাল্টি মিস করেন আমি আমার মায়ের সোফায় বসে অঝোরে কেঁদেছিলাম। আমার মতো ফুটবল দর্শক এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে পারে না। ফুটবলই আমার জীবন।’

এভাবে টেলিভিশনে চেহারা দেখানোর পর রীতিমতো সেলিব্রেটি হয়ে গেছেন নিনা, ‘আমরা সারা বিশ্বে খবর হয়ে গেছি। সারা বিশ্বের সব টিভিতে আমাদের চেহারা দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমার বন্ধুরা ফোন করে বলেছে, “তোকে আমরা দেখেছি।” এমনকি স্টেসি দুলির ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতেও আমাকে দেখা গেছে।’