হ্যারি কেইনের গলার স্বর নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করেছেন ইএসপিএনের দুই সাংবাদিক।
হ্যারি কেইনের গলার স্বর নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করেছেন ইএসপিএনের দুই সাংবাদিক। ছবি: রয়টার্স

তাঁর সমালোচনা করার অনেক কিছুই থাকতে পারে। টানা দুই ম্যাচে যে দৃষ্টিকটু উপায়ে পেনাল্টি আদায় করে নিলেন হ্যারি কেইন, সেটি নিয়ে চাইলে অনেক সমালোচনাই করা যায়।

বার্নলির বিপক্ষে লিগের আগের ম্যাচে বলে হেড করতে লাফিয়ে ওঠা চার্লি টেইলরের দিকে নিজেই এগিয়ে গিয়ে ইচ্ছা করে পড়ে গিয়েছিলেন, কাল ব্রাইটনের বিপক্ষে কেইন একই কাজ করেছেন অ্যাডাম লালানার সঙ্গে। এবারও পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছেন! বরং তাঁর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে লালানা মাটিতে পড়েছেন বেমক্কা, যাতে ব্রাইটন মিডফিল্ডারের চোটে পড়ার শঙ্কা ছিল।

কেইনের প্রশংসা করার বিষয়ের কমতি নেই। এবারের লিগে চোখধাঁধানো ফর্মে আছেন কেইন। লিগে ৭ ম্যাচে ৬টি গোল করেছেন ২৭ বছর বয়সী ইংলিশ স্ট্রাইকার, করিয়েছেন আরও ৮টি। গোল করার জন্য কেইন সব সময়ই প্রশংসা পেয়েছেন, এবার নজর কাড়ছে যেভাবে নিচে নেমে দারুণ পাসে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করছেন, সেটিও।
কিন্তু এসব প্রশংসা বা সমালোচনা বাদ রেখে সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের অনুষ্ঠান ‘ইএসপিএন এফসি’র দুই সাংবাদিক ব্যঙ্গ করলেন কেইনের একটি শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে। ইংলিশ স্ট্রাইকারের গলার স্বর আর বাচনভঙ্গি নিয়ে হাসাহাসি করেছেন দুই সাংবাদিক ও স্টুডিওতে থাকা আরেকজন। সেটি আবার প্রচারিত হয়ে গেছে! বিতর্কের মুখে ইএসপিএনের সেই দুই সাংবাদিকের একজন মার্ক ওগডেন ক্ষমাও চেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে কাল বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে কেইনের গোলে ১৩ মিনিটে এগিয়ে যায় টটেনহাম। এরপর তারিক ল্যাম্পটির গোলে ব্রাইটন সমতা ফেরায় বটে, তবে এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে টটেনহামে ফেরা গ্যারেথ বেলের হেডে জিতে যায় জোসে মরিনিওর দল। স্পার্সের ২-১ গোলের জয়ের সেই ম্যাচের পর বিশ্লেষণেই ইএসপিএনের সাংবাদিকদের এই বিতর্ক।

ম্যাচে ওই গোল করে একটা কীর্তিও গড়েছেন কেইন। ১৪৯ গোল নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলারদের তালিকায় সেরা দশে ঢুকে গেছেন টটেনহাম স্ট্রাইকার। সেই কীর্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়েই ইএসপিএনের বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক ওগডেন বলে বসেন, ‘হ্যারি কেইন—ও তো সম্ভবত সবচেয়ে বেশি...’ এতটুকু বলেই দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে ওগডেন যে ভঙ্গিটা করেছেন, তাতে পরিষ্কার বোঝা যায়, পেনাল্টি আদায়ে কেইনের এমন নাটুকেপনায় খুব বিরক্ত তিনি।

বিরক্তিটা আরও স্পষ্ট হলো ওগডেনের পরের কথায়। তাঁর সহসঞ্চালিকা আলেক্সিস নুনেস ফোড়ন কাটলেন, ‘(রেফারির প্রতি) ওর ভাবটা দেখে মনে হয় ও বলতে চাইছে, “এটা (পেনাল্টি দেওয়া) নিয়েও আমাকে কথা বলতে হবে?”’ ওগডেন ওপাশ থেকে বললেন, ‘ব্যাপারটা খুব বিরক্তিকর, তাই না?’

কিন্তু সেখান থেকে হঠাৎ আলোচনা চলে যায় কেইনের স্বর ও বাচনভঙ্গির দিকে। স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে না এমন তৃতীয় একজন ব্যক্তিকে (পরে জানা গেছে তিনি অনুষ্ঠানটির প্রযোজক) বলতে শোনা গেল, ‘ওর কথা শুনতেই বিরক্ত লাগে আমার। ওর গলার স্বরটা এত অদ্ভুত!’ ওগডেন সকৌতুক, ‘আমি হ্যারি কেইনের ঢঙে কথা বলে দেখাব?’ স্ক্রিনে অদৃশ্য প্রযোজক তখন বলেন, ‘ওর তো এই দিকটাই শুধু ওকে আলাদা করে রাখে!’ নুনেস বলে বসেন, ‘হ্যাঁ, আসলেই! ওর যা গলার স্বর! ঈশ্বরকে ওর ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। এমন গলার স্বরের একজন ফুটবল খেলে বলেই বেঁচে গেছে!’

বিজ্ঞাপন
default-image

ভিডিও ফুটেজটা সম্প্রচারিত হওয়ার কথা যে ছিল না, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না। কিন্তু ভুলে সম্প্রচারিত হয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক ওঠা স্বাভাবিকই। কেইনের খেলার কোনো দিক পছন্দ না-ই হতে পারে, স্পার্স স্ট্রাইকারের বিতর্কিত উপায়ে পেনাল্টি আদায়ের সমালোচনাও হতে পারে, কিন্তু শারীরিক একটা দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা ভব্যতার মাত্রাই ছাড়িয়ে যায়। অনেকে ওগডেন ও নুনেসকে চাকরিচ্যুত করার পরামর্শও দিচ্ছেন ইএসপিএনকে।

এত বিতর্কের মধ্যে ওগডেন ক্ষমা চেয়ে টুইট করেছেন। দুই পর্বের টুইটের প্রথম পর্বে কেইনকে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘আমাদের প্রযোজকের সঙ্গে একটা অসংলগ্ন আলাপের ভিডিও দুর্ঘটনাবশত অল্প কিছুক্ষণের জন্য জনসমক্ষে সম্প্রচারিত হয়ে গেছে। পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সেটি। এটা নিয়ে কোনো সংশয় নেই যে আমাদের মন্তব্যগুলো খুবই অশ্রদ্ধাপূর্ণ ছিল, যেগুলো নিয়ে অনুতাপ করছি। হ্যারি কেইনের জন্য আমাদের সম্মানের কমতি নেই, যে কিনা অসাধারণ একজন পেশাদার, তরুণদের জন্য রোল মডেলও।’

টটেনহাম ও কেইনের কাছেও ক্ষমা চেয়ে টুইটের দ্বিতীয় পর্বে লিখেছেন ওগডেন, ‘আমরা টটেনহাম হটস্পার ও হ্যারির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। পাশাপাশি ক্ষমা চাইছি ক্লাবটির সমর্থক ও ইএসপিএন এফসির দর্শকদের কাছেও।’

নুনেসও ক্ষমা চেয়ে টটেনহাম আর কেইনকে ট্যাগ করে টুইটে লিখেছেন, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে সম্প্রচারিত হয়ে যাওয়া আলোচনায় আমাদের মন্তব্যগুলোর জন্য সত্যিই দুঃখিত। মন্তব্যগুলো অপ্রয়োজনীয় ও মানবিক বোধশূন্য। হ্যারি কেইনের জন্য আমার সম্মানের কোনো কমতি নেই, যে কিনা সম্পূর্ণ একজন অ্যাথলেট ও নেতা।’ দারুণ একটা শিক্ষাও তাঁদের হয়েছে বলে জানালেন নুনেস, ‘আমাদের কাছ থেকে আরও ভালো আচরণ প্রাপ্য ছিল তার, তার সমর্থকদেরও আরও ভালো কিছু প্রাপ্য ছিল। দুর্ভাগ্যজনক এই ভুল থেকে বড় একটা শিক্ষা হয়েছে আমাদের সবার। আরেকবার হ্যারি ও টটেনহাম হটস্পারের কাছে ক্ষমা চাইছি।’

মন্তব্য পড়ুন 0