default-image
>দিন দিন চেলসির সমস্যা বাড়ছে বৈ কমছে না। গত রাতে কারাবাও কাপের ফাইনালে চেলসিকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে। কিন্তু সেই জয় ছাপিয়ে চেলসি কোচ মরিজিও সারি ও গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগার দৃষ্টিকটু দ্বন্দ্ব নিয়ে সবাই আলোচনায় মেতেছে।

গত সপ্তাহে লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে আধ ডজন গোল হজম করেছিল চেলসি। এই সপ্তাহে এই দুই দল আবারও মুখোমুখি হয়েছিল। তবে লিগে নয়, কারাবাও কাপ এর ফাইনালে। এই ম্যাচে চেলসি আবারও ছয়টা গোল হজম করবে, না ডজন পূর্ণ করবে—ফুটবলমোদীদের আলোচনার বিষয় ছিল এটা। কিন্তু না, কালকের ম্যাচে চেলসি কোচ মরিজিও সারি দেখিয়েছেন, এই এক সপ্তাহে সিটিকে নিয়ে বেশ ভালোই গবেষণা করেছেন। ফলাফল—গোলশূন্য ড্র। পেনাল্টিতে হয়তো সিটিকে হারিয়েও দিত তারা। কিন্তু চেলসির গোলরক্ষক কেপা সেটা হতে দিলেন কোথায়!

ম্যাচের নব্বই মিনিটের পর অতিরিক্ত তিরিশ মিনিটেও যখন দুই দলের কেউই কোনো গোল করতে পারল না, পেনাল্টি শুটআউটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে তারা। চেলসির মূল গোলরক্ষক কেপা হলেও পেনাল্টি আটকানোর দিক দিয়ে আবার চেলসির দ্বিতীয় গোলরক্ষক উইলি ক্যাবায়েরো অপেক্ষাকৃত ভালো। এই কারণে কেপাকে উঠিয়ে ‘পেনাল্টি বিশেষজ্ঞ’ ক্যাবায়েরোকে মাঠে নামাতে চান সারি। তা ছাড়া ম্যাচের মধ্যে সিটির স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোর একটা শট আটকাতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন কেপা। সব মিলিয়ে কেপার জায়গায় ক্যাবায়েরোকে নামাতে সারি প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু কেপার যে কোচের কথা শোনার বিন্দুমাত্র ইচ্ছাও ছিল না!

সারি ও দলের সহকারী কোচ জিয়ানফ্রাঙ্কো জোলার বারবার বলা সত্ত্বেও মাঠ থেকে উঠে আসতে অস্বীকৃতি জানান কেপা। ওদিকে বোকার মতো টাচলাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন ক্যাবায়েরো। নিজের গোলরক্ষক কথা শুনছে না, এমতাবস্থায় মেজাজ হারিয়ে ফেলেন কোচ সারি। মাঠ থেকে বের হয়েই যাচ্ছিলেন, কী বুঝে যেন আবার ফিরে এসেছেন। পেনাল্টি শুট আউট শুরু হওয়ার আগে কেপার দিকে তেড়ে যান তিনি, বকাবকি করতে থাকেন। জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার না থাকলে কেপা হয়তো মাঠের মধ্যে কোচের কাছ থেকে কয়েকটা চড়-থাপ্পড় খেয়ে বসতেন! শেষ পর্যন্ত কেপাকে গোলরক্ষক হিসেবে নিয়েই পেনাল্টি শুটআউটে যায় চেলসি। লিরয় সানের শটটা আটকাতে পারলেও দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি কেপা। সার্জিও আগুয়েরোর দুর্বল একটা শট আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ওদিকে ডেভিড লুইজ আর জর্জিনহোও পেনাল্টি মিস করেন। ফলে পেনাল্টি শুটআউট জিতে যায় ম্যানচেস্টার সিটি।

default-image

ম্যাচের পর কেপা আর সারি, দুজনই সমালোচনা এড়ানোর উদ্দেশ্যে পুরো ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ম্যানেজারকে হেয় করার ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য, কোনোটাই নেই কেপার, এমনটাই বলেছেন, ‘অবশ্যই আমি ম্যানেজারজকে হেয় করতে চাইনি। চরম একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে ব্যাপারটা নিয়ে। আমি জানি, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে যে ভিডিও বা ছবি দেখা যাচ্ছে তা আদর্শ কিছু নয়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে ব্যাপারটা নিয়ে খোলাসা করে বলা উচিত। আমি চোটে পড়েছিলাম, দলের চিকিৎসকেরা মাঠে এসে আমাকে সেবা-শুশ্রূষা দিচ্ছিলেন। কোচের ওই সময়ে মনে হয়েছিল আমি হয়তো খেলতে পারব না, তাই তিনি আমার বিকল্প খেলোয়াড় মাঠে নামাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই আমি ঠিক হয়ে যাই ও আবারও খেলার জন্য প্রস্তুত হই, আমার চিকিৎসকেরাও বেঞ্চে ফিরে আমার সুস্থতার কথাই জানিয়েছে সবাইকে। আমি কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠ থেকে নেমে আসতে চাইনি তা নয়, বরং আমি বারবার মাঠ থেকে এটাই বোঝাতে চেয়েছি যে আমি ঠিক আছি, আমাকে নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। আমি সুস্থ। আমি খেলা চালিয়ে যেতে পারব। তাই মাঠে অমনটা করেছি। খেলার শেষ মুহূর্তে অনেক কিছুই হচ্ছিল তখন, প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে এত কিছু ভাবিনি আমি, আমি শুধু জানাতে চেয়েছি যে আমি সুস্থ আছি। কোচকে অমান্য করার ইচ্ছা ছিল না আমার। এটাই আমি বলব সবাইকে। আমি জানি না, আসলেই জানি না কেন সবাই সমালোচনা করছে। আমার কপাল খারাপ আসলে, অনেক বড় ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে ঘটনাটা নিয়ে।’

এদিকে সারি নিজেও গোটা ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি বলেছেন, ‘ব্যাপারটা শুধুই ভুল বোঝাবুঝি, আর কিছুই নয়। আমি ভেবেছিলাম ওর হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগেছে, ও এই অবস্থায় পেনাল্টি শুটআউট খেলতে পারবে না। তাই আমি দলের অতিরিক্ত গোলরক্ষক ক্যাবায়েরোকে ওর বদলে মাঠে নামাতে চাই। দলের ডাক্তাররা কেপাকে সেবা-শুশ্রূষা করে যখন বেঞ্চে ফিরল, আমি তখনই জানতে পারলাম যে কেপা সুস্থ। তার আগে পারিনি। ওই তিন-চার মিনিটের মধ্যেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ক্যাবায়েরোকে নামানোর। জিনিসটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছাড়া কিছু নয়।’

কেপা যা করেছে ঠিকই করেছেন, সারির বক্তব্য এখন এটাই, ‘কেপা যা করেছে, ঠিক। কিন্তু যেভাবে ও বলেছে বা যেভাবে মাঠ থেকে চলে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, সেই প্রক্রিয়াটা হয়তো ভুল ছিল সেই মুহূর্তে। আমি ব্যাপারটা নিয়ে ওর সঙ্গে কথা বলেছি। আবারও বলব। ওর সঙ্গে কথা বলে আমি বোঝাব হালকা ভুল বোঝাবুঝির কারণে মিডিয়ায় কত মাতামাতি হতে পারে!’

সারি-কেপার বক্তব্য আসলেই সত্য হয়ে থাকলে সেটা চেলসির জন্যই ভালো!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন