default-image

অভিযোগগুলো গুরুতরই ছিল। লিওনেল মেসিদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে বার্সেলোনা, বোর্ড সভাপতি হোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর একক আধিপত্য বিস্তার নিশ্চিত করতেই ক্লাব কিংবদন্তিদের অপমান করা হতো টুইটার ও ফেসবুকে, এ কাজে খরচ করা হয়েছে ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। তবে একটি নিরপেক্ষ নিরীক্ষায় এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বার্সেলোনাও তাই দায়মুক্তি পেল ভয়ংকর এক কেলেঙ্কারি থেকে।

এ বছর ফেব্রুয়ারিতে কাতালান সংবাদমাধ্যম কে থি জোগাস এক প্রতিবেদনে দাবি করে, বার্সেলোনা বোর্ড নাকি এক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করেছিল, আইথ্রি নামের সে প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল বার্সা সভাপতি হোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর ভাবমূর্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উজ্জ্বল করা। আর সে সঙ্গে যেসব বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে বার্তোমেউর বনে না, তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো।

কে থি জোগাসের দাবি ছিল, ওই প্রতিষ্ঠান এক শর কাছাকাছি টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্লাব কিংবদন্তি মেসি, জাভি, জেরার্ড পিকে, পেপ গার্দিওলা, কার্লেস পুয়োলদের আক্রমণ করত। সাবেক সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা ও কাতালান স্বাধীনতাকামী রাজনীতিবিদ কার্লেস পুইচডিমন্তের বিপক্ষেও নেমেছিল আইথ্রি।

আইথ্রির সৃষ্টি করা অ্যাকাউন্টগুলো মেসির বিরুদ্ধে চুক্তি নবায়ন না করার গুঞ্জন সৃষ্টি করত। পিকের সব ব্যবসায়িক বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা করত এরা। ২০১৭ সালে শুরু হয় প্রোপাগান্ডা। একের পর এক মন্তব্য করে ও বিভিন্ন নেতিবাচক আলোচনা করে মেসিদের আক্রমণ করা হতো। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বার্তেমেউর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা ও তাঁর সভাপতিত্ব নিশ্চিত করা।

এই অভিযোগ ওঠার পর ভীষণ চাপের মুখে পড়ে বার্সেলোনা পরিচালনা পর্ষদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে এটাকে 'বার্সাগেট' নামও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে এর একটি নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয় বার্সা বোর্ড। এ সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ খুঁজতেই কিছুদিন আগে ন্যু ক্যাম্পে গিয়েছিল স্পেনের মানি লন্ডারিং বিভাগ।

তবে শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ওই নিরীক্ষায় কে থি জোগাসের তোলা অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এক বিবৃতিতে বার্সেলোনা বোর্ড এই তথ্য জানিয়ে আরও বলেছে, ক্লাবের আইন পরামর্শক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যারা এসব কুৎসা রটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0