default-image

এক বছরের মধ্যে যা জেতা সম্ভব, সব জিতে ফেলেছেন হান্সি ফ্লিক। মাত্র দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে বায়ার্ন মিউনিখকে এক মৌসুমে সম্ভাব্য ছয় শিরোপা জেতানোর কীর্তি গড়েছেন এই জার্মান কোচ। আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকে যাওয়া এক দল নিয়েও পাওয়া সে সাফল্য এ মৌসুমে আর ধরে রাখতে পারেননি। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছে ফ্লিকের বায়ার্ন, তবে বুন্দেসলিগা জিততে আর মাত্র এক জয়ের অপেক্ষা। ফ্লিককে তাই ব্যর্থ বলার উপায় নেই।

বায়ার্ন সেটা বলছেও না। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচকে ছাঁটাই করার কোনো চেষ্টা তারা করেনি। অন্তত বাইরে তা দৃশ্যমান নয়। কিন্তু ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালকের সঙ্গে মতের অমিল হওয়ায় নিজ থেকেই চাকরি ছেড়ে দিতে চাইছেন ফ্লিক। শোনা যাচ্ছে, ক্লাব ফুটবল ছেড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মন দেবেন। ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের সময় জার্মান দলের সহকারী কোচ ছিলেন। ২০২০ ইউরো শেষে বিদায় নেবেন এই মুহূর্তে জার্মানি দলের মূল কোচ ইওয়াখিম ল্যুভ। সাবেক বসের শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইছেন ফ্লিক—গুঞ্জন এমনই।

ফ্লিকের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে বায়ার্ন। তাদের পছন্দ ইউলিয়ান নাগলসমান। কিন্তু আর বি লাইপজিগের ৩৩ বছর বয়সী এই কোচকে টেনে আনতে বেশ কষ্ট করতে হবে বায়ার্নের। প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব থেকে যে প্রায় ছিনিয়ে আনতে হবে তাঁকে। সে জন্য বড় অঙ্কও খসাতে হবে বায়ার্নকে। শোনা যাচ্ছে, অঙ্কটা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ হতে পারে, যা কোচদের দলবদলের অঙ্কের বিশ্ব রেকর্ডই হবে। এক অর্থে, কোচদের দলবদলের ‘নেইমার’ হবেন নাগলসমান। খেলোয়াড়দের দলবদলের বিশ্ব রেকর্ডটা নেইমারেরই দখলে কিনা! ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে পিএসজি কিনে নিয়েছিল ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে।

বিজ্ঞাপন
default-image

জার্মান ফুটবলে নাগলসমান বহুদিন ধরেই আলোচিত নাম। মাত্র ২৮ বছর বয়সে শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবের কোচ হয়ে গিয়েছিলেন। হফেনহেইমে তাঁর সাফল্য দেখে লাইপজিগ ক্লাবের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে তাঁকে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল জগতে যে ‘চেইন’ সৃষ্টি করেছে রেড বুল, তার সবচেয়ে বড় ‘আউটলেট’ এই লাইপজিগ। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগলসমানকে কোচ করে আনা লাইপজিগ তাঁকে সহজে ছাড়তে রাজি নয়।

এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাব নাগলসমানকে কোচ বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই রিয়ালের মতো বড় ক্লাবের দায়িত্ব নিতে চাননি নাগলসমান। এরপর লাইপজিগে গিয়ে নিজেকে আরও পোক্ত করেছেন। এখন তাঁর মনে হচ্ছে, কোনো পরাশক্তি ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু লাইপজিগ নাকি তাঁর মতো এমন কোচকে সহজে ছাড়তে রাজি নয়। বিশেষ করে জার্মান লিগে বায়ার্নের আধিপত্য ভাঙতে চাওয়া ক্লাবের জন্য নাগলসমানকে হারানো তো বড় এক ধাক্কাই হবে।

লাইপজিগের দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯০ ম্যাচে ক্লাবটিকে ৫৩ ম্যাচে জিতিয়েছেন নাগলসমান, হেরেছেন মাত্র ১৬ ম্যাচে। ৩৩ বছর বয়সী কোচের জন্য তাই তারা বায়ার্নের কাছে ৩০ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ইউরো (৩০৭ কোটি টাকা) চেয়ে বসেছে।
এ ব্যাপারে অবশ্য জার্মান সংবাদমাধ্যম দ্বিধাবিভক্ত। টিজেড দাবি করছে, লাইপজিগ ২০ মিলিয়ন দাবি করেছে। ওদিকে স্পোর্টওয়ান বলছে, লাইপজিগের প্রধান নির্বাহী অলিভার মিনজলাফ বায়ার্নের প্রস্তাবের চেয়ে বেশি চেয়েছেন। লাইপজিগের সঙ্গে নাগলসমানের চুক্তি শেষ হতে আরও দুই বছর বাকি।

default-image

১৮ এপ্রিল সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে নাগলসমান অবশ্য তাঁর বায়ার্নে যেতে যাওয়ার গুঞ্জনে রাগ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘বলার মতো কিছুই নেই। আমার মতে কী হবে, অন্য কোথাও নিজেকে দেখতে চাই কি না এবং যা হচ্ছে না, সেসব ব্যাপার নিয়ে কথা বলে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ বানানোটা খুবই ভুল। আমার পক্ষে সম্ভব না এটা বলা যে লেনা গার্কের (জার্মান মডেল) সঙ্গে আমার কাল বিচ্ছেদ হচ্ছে। কারণ, তাঁর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই ছিল না কখনো। আমি দুঃখিত, এ ব্যাপারে (বায়ার্নে যাওয়া) কোনো নতুন খবর দিতে পারছি না। আগে যা বলেছিলাম. এবারও তা-ই। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, কোনো প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি। এ কারণেই আমি জানি না বায়ার্ন কী চায়। আমি বলেছি, আমার চাকরিদাতাদের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে চাই না, এখনো তা-ই বলছি।’

নাগলসমান চান বা না চান, বায়ার্ন তাঁকে পেতে চাইছে এবং সে ক্ষেত্রে হয়তো ৩ কোটি কিংবা ২ কোটি ইউরো দিয়ে তাঁকে নিতে হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নদের। আর সে ক্ষেত্রে কোচের দলবদলের অঙ্কের রেকর্ডটা হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত সে রেকর্ডটি আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াসের। পোর্তোতে দুর্দান্ত সাফল্য পাচ্ছিলেন বলে এই কোচকে ২০১১-১২ মৌসুমে নিয়ে আসে চেলসি। পোর্তো এমনিতে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তাঁর জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দিয়েছিল চেলসি। ওদিকে ব্রেন্ডন রজার্সের জন্য লেস্টার সিটি ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো খরচ করেছে। আর পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং প্রতিদ্বন্দ্বী এসসি ব্রাগা থেকে ১ কোটি ইউরো খসিয়ে এনেছে রুবেন আমোরিমকে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন