বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে গোল করেই নয়, সেই ম্যাচে ইউনাইটেডকে জেতাতে কিছু সময়ের জন্য ‘কোচের’ ভূমিকাও নিয়েছিলেন রোনালদো! ম্যাচের ৭২ মিনিটে রোনালদোকে তুলে নিয়ে কোচ ওলে গুনার সুলশার মাঠে নামান জেসে লিনগার্ডকে। বদলি হয়ে বসে থাকেননি রোনালদো। ডাগআউটে কোচ সুলশারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বিভিন্নভাবে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন সতীর্থদের।

বিষয়টি হয়তো অনেককেই মনে করিয়ে দেবে ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে পর্তুগাল-ফ্রান্স ম্যাচটিকে। সেই ম্যাচেও বদলি হতে হয়েছিল রোনালদোকে। সেদিন অবশ্য চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু ম্যাচের ২৫ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হলেও ডাগ আউটে রোনালদো ছিলেন সক্রিয়। কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের পাশে দাঁড়িয়ে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন সতীর্থদের। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটি পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত জিতেছিল এদেরের গোলে।

default-image

পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম ইউরো জয়ের পর ডাগআউটে দাঁড়ানো রোনালদোর ছবি ছাপা হয়েছিল বিভিন্ন দেশের পত্রপত্রিকায়। রোনালদোর ভূমিকার প্রশংসা তখন অনেকেই করেছিল। কিন্তু এবার হচ্ছে এর উল্টোটা। বিশেষ করে ম্যান ইউনাইটেডের সাবেক খেলোয়াড় রিও ফার্ডিনান্ড বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেননি। সাবেক এই ইংলিশ ডিফেন্ডার আর বর্তমানের ফুটবল পণ্ডিত রোনালদোর এ বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ইউনাইটেডের কোচ সুলশারের।

বিষয়টি নিয়ে ফার্ডিনান্ড বলেছেন, ‘সত্যি বলছি আমি কোচ হলে তাকে তার আসনে গিয়ে বসতে বলতাম।’ ফার্ডিনান্ডের কাছে নাকি একটা পর্যায়ে মনে হয়েছে রোনালদোই দল চালাচ্ছেন। আর এসব ক্ষেত্রে অন্যরা রোনালদোর প্রশংসা করলেও ফার্ডিনান্ড কিছুতেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না, ‘এটা সবাই যে এসব ক্ষেত্রে ক্রিস্টিয়ানোকে মানুষ আরও বাহবাই দেবে। সে এটা আসলে সমর্থকদের নজর কাড়ার জন্য করে। মানুষ বলবে দেখুন না, সে ক্লাবের প্রতি তার আবেগ কতটা বেশি। সে জিততে চায়। সে আসলে জিততে মরিয়া।’

default-image

সুলশার অবশ্য ফার্ডিনান্ডের এ কথার প্রতিবাদ করে বলেছেন যে তাঁর সাবেক সতীর্থ পুরো বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছেন, ‘রিও মাঝেমধ্যেই এমন সব বিষয়ে এমন সব বিষয়ে মন্তব্য করে, যে বিষয়ে সে কিছু জানেই না। আরও একবার এ কাজটাই করল সে।’ সুলশার এরপর ব্যাখ্যা করেছেন সেদিন ডাগআউটে ওই সময়ে কী হয়েছিল, ‘নেমানিয়া মাতিচকে ফাউল করার পর (ইয়াং বয়েজের) মার্তিনস পেরেইরার হলুদ কার্ড দেখা উচিৎ ছিল। আর ব্রুনো (ফার্নান্দেজ) এবং ক্রিস্টিয়ানোর দুজনেই যেহেতু প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলোয়াড়, তারা বিষয়টি নিয়ে চিৎকার করল। আমিও হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম দুজন আমার ঘাড়ের কাছে।’

default-image

সুলশার এটুকু বলেই থামেননি। বিষয়টির আরও বিষদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন ম্যান ইউনাইটেডের কোচ, ‘তারা দুজন ওখানে অল্প সময়ের জন্যই ছিল। রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চিৎকার করছিল। আমাদের বিপক্ষে যাওয়া কিছু বাজে সিদ্ধান্তের কারণেও তাদের এমন চিল্লাচিল্লি। এরপর তো ক্রিস্টিয়ানো বসেই পড়েছে। বসে পড়েছে ব্রুনোও।’ ডাগআউটে দাঁড়ানোর নিয়মটা তাঁর ভালোই জানা আছে বলেও উল্লেখ করেণে সুলশার, ‘আমরা ভালো করেই জানি যে ডাগআউটের টেকনিক্যাল অঞ্চলে শুধু একজনই দাঁড়াতে পারে। সেটা হয় আমি, না হয় কারাস (মাইকেল ক্যারিক), মিক অথবা কিয়েরন।’

ডাগআউটে রোনালদোর এভাবে চিৎকার করা নিয়ে সুলশারের কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি, ‘এটা মুহূর্তের উত্তেজনা ছিল। এর জন্য সে লাল কার্ডও দেখতে পারত। তবে তারা যে ক্লাবের জন্য কিছু আবেগ প্রকাশ করেছে তা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। তা ছাড়া ওইটুকুর পর তারা তো আবার নিজেদের আসনে গিয়ে বসেই পড়েছে। এর মানে এই নয় যে ক্রিস্টিয়ানো দল চালাচ্ছিল বা খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দিচ্ছিল।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন