বিজ্ঞাপন

তবে বেশির ভাগ বিচারক ব্রাজিল সরকারকে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক কারমেন লুসিয়া তাঁর রায়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্য নিয়ে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য সরকার ও মেয়রদের। “কোপাভাইরাস” এবং নতুন সংক্রমণ ও ধরন এড়াতে সেসব বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।’

default-image

করোনা মহামারিতে এমনিতেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১২ মাস দেরিতে শুরু হচ্ছে কোপা আমেরিকা। কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনা ছিল মূল আয়োজক দেশ। কলম্বিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আর্জেন্টিনায় কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে আয়োজনের ভার ব্রাজিলের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

তখন থেকেই বিতর্ক চলছিল, ব্রাজিলে কোপা আমেরিকা আয়োজন ঠিক হচ্ছে কি না? কেননা, ব্রাজিলও করোনার সংক্রমণে ভুগছে। মৃতের সংখ্যা ৫ লাখের কাছাকাছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে শুধু ব্রাজিলেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এত বেশিসংখ্যক মানুষ মারা গেছেন।

এরই মধ্যে এবারের কোপা আমেরিকা থেকে দুটি বড় স্পনসর প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। কোপার সঙ্গে থাকলেও অন্তত এই টুর্নামেন্টে তারা কোনো কিছু চালু রাখবে না।

এমনকি ব্রাজিল দলের খেলোয়াড়েরাও শুরুতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তাঁরা আপত্তি তোলেননি। রোববার ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হয়ে কোপা অভিযান শুরু করবে তিতের দল।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিল ভেনেজুয়েলাকে ‘লন্ডভন্ড’ করে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে মহামারিবিদেরা সতর্ক করেছেন, ব্রাজিলে এখন নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে।

এমন সময় কোপা আমেরিকার মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সংক্রমণের আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে তাঁরা মনে তারা করছেন।

সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ জোসে ডেভিড আরবায়েজ সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতির মধ্যে একটি ইভেন্ট আয়োজন যে কেমন পাগলামি, তা বোঝানো অসম্ভব।’

কোপা আয়োজন থামাতে এর আগে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করেছিল ব্রাজিলের জাতীয় মেটালওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, সোশ্যালিস্ট পার্টি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার দল ওয়ার্কার্স পার্টি। আগামী বছর তিনি নির্বাচনে বলসোনারোর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসব টুর্নামেন্ট চলমান, তার মধ্যে কোপা আমেরিকা প্রাচীনতম। করোনার কারণে এবার টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো দর্শকহীন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পরপর দলগুলোর করোনা পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। খেলোয়াড় ও স্টাফদের চলাফেরাও থাকবে সীমিত পর্যায়ে। চারটি আয়োজক শহরে ভাড়া করা বিমানে যাতায়াত করবেন খেলোয়াড়েরা।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন