ম্যাচের আগে রিয়ালের কোচ জিনেদিন জিদানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন বার্সেলোনার কোচ রোনাল্ড কোমান। ম্যাচ শেষে কোমানের মুখে এই হাসি আর ছিল না।
ম্যাচের আগে রিয়ালের কোচ জিনেদিন জিদানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন বার্সেলোনার কোচ রোনাল্ড কোমান। ম্যাচ শেষে কোমানের মুখে এই হাসি আর ছিল না। ছবি: রয়টার্স

এল ক্লাসিকো, মানে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা ম্যাচ বলে কথা! স্পেনের ফুটবলে সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ, বিতর্ক ছাড়া এ ম্যাচ শেষ কী করে হয়? কাল রাতে সর্বশেষ এল ক্লাসিকোও বিতর্ক ছাড়া শেষ হয়নি। রিয়ালের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচ শেষে বিতর্কটি তুলেছেন বার্সেলোনার কোচ রোনাল্ড কোমান। কাতালান ক্লাবটির ডাচ্‌ কোচের দাবি, প্রাপ্য একটি পেনাল্টি দেওয়া হয়নি তাঁর দলকে। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জিনেদিন জিদানের কাছে অবশ্য বার্সেলোনার পেনাল্টির এই দাবিকে মনে হচ্ছে মায়াকান্না।

জিদান সরাসরি বলেননি যে বার্সেলোনা পেনাল্টি নিয়ে মায়াকান্না করছে। তবে ম্যাচ শেষে পেনাল্টি-বিতর্ক নিয়ে রিয়ালের ফরাসি কোচ যা বলেছেন, সেটার মানে ওটাই দাঁড়ায়। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে জিদানকে সাংবাদিকেরা মনে করিয়ে দেন, তাঁর দলের এবারের এল ক্লাসিকো জয়টি বিতর্কিত করেছে কোমানের পেনাল্টির দাবি। এ প্রসঙ্গ উঠতেই জিদান বার্সেলোনার পেনাল্টির দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘রেফারি যদি বাঁশিই না বাজান, তার মানে এটি কোনো পেনাল্টি ছিলই না।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার কোচ কোমান দাবি করেছেন, তাঁর দলকে রেফারি বঞ্চিত করেছেন। কোমানের কথা, ‘রেফারিদের কাছে একটাই চাওয়া, অন্তত সিদ্ধান্তগুলো যেন তাঁরা ঠিকঠাক দেন। মেন্দি যেভাবে ব্রাথওয়াইটকে চ্যালেঞ্জ করল, সেটা নিঃসন্দেহে পেনাল্টি ছিল...এ সিদ্ধান্তে যে শুধু আমিই রেগে আছি, তা নয়। আমার খেলোয়াড়েরাও রেফারির এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ।’ ম্যাচের ৮১ মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলের জায়গায় বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ড্যানিশ স্ট্রাইকার মার্টিন ব্রাথওয়াইটকে। মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যেই রিয়ালের ডি বক্সে ফারলাঁ মেন্দির চ্যালেঞ্জে মাঠে পড়ে যান ব্রাথওয়াইট। সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির আবেদন করেন বার্সার খেলোয়াড়েরা। কিন্তু রেফারি সেই আবেদনে সাড়া দেননি। এমনকি ভিএআরের সাহায্যও নেননি।

কোমান আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—ম্যাচে যতটা অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কথা ছিল, সেটাও নাকি রেফারি দেননি। জিদানকে এ বিষয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। এর উত্তরে রিয়াল কোচ বলেছেন, ‘অতিরিক্ত সময় ৩, ৪, ৫ বা ৬ মিনিটও হতে পারে...এ সিদ্ধান্ত রেফারি নেবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে,, আমরা মাঠে যেটা করেছি, ভালো খেলা উপহার দিয়েছি, আমাদের পক্ষে শুধু এটুকু করাই সম্ভব।’ কোমান যে বলেছেন ম্যাচটি রেফারি প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন, সেটা না হলে তাঁর দল অন্তত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত, এ বিষয়ে জিদান কী বলবেন? রিয়াল কোচের উত্তর, ‘আমরা খুশি হতে পারি, এটা অন্তত কেউ বলতে পারবে না যে আমরা শুধু রেফারির কল্যাণেই জিতেছি।’

default-image

বার্সার বিপক্ষে এই ম্যাচ জয়ের পর লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৩০ ম্যাচ খেলে জিদানের দলের পয়েন্ট এখন ৬৬। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে একটি ম্যাচ কম খেলেছে রিয়ালের নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা। আর ৩০ ম্যাচ খেলে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা। এল ক্লাসিকো জিততে পারলে রিয়াল বা বার্সা দুই দলই অন্য রকম একটা আনন্দ উপভোগ করে। এবার সেই আনন্দটা উপভোগ করছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দল রিয়াল।

তবে এই আনন্দের মধ্যেও একটি মন খারাপের কথা বলেছেন জিদান। এমনিতেই চোটাঘাতে রিয়ালের অবস্থা একটু খারাপ। বার্সেলোনার বিপক্ষে স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচ শেষে দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ফিটনেস নিয়ে শঙ্কায় আছেন। এর মধ্যেই আগামী বুধবার লিভারপুলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ খেলতে হবে রিয়ালকে। জিদানের কপালে তাই দুশ্চিন্তার স্পষ্ট ভাঁজ, ‘এখানে-ওখানে ব্যথা অনুভব করা খেলোয়াড়ের সংখ্যা আরও বাড়ল। বুঝতে পারছি না মৌসুমটা আমরা কীভাবে শেষ করব। ম্যাচটি শেষ করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল আমাদের জন্য। তবে আমরা এখনো টিকে আছি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

লিভারপুলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচটি নিজেদের মাঠে ৩-১ গোলে জিতেছে রিয়াল। সেদিক থেকে সেমিফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে খুব ভালোভাবেই এগিয়ে আছে জিদানের দল। তবে দুশ্চিন্তা একটু থেকেই যাচ্ছে লিভারপুল মহামূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোল পেয়ে যাওয়ায়। নিজেদের মাঠে লিভারপুল ২-০ গোলে জিতলেও অ্যাওয়ে গোলের হিসেবে উঠে যাবে সেমিফাইনালে। অবস্থা যখন এমন, জিদানের রিয়াল এখন কী করবে?

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আপাতত এল ক্লাসিকো জয়টা উদ্‌যাপন করতে চান মন ভরে। এরপর লিভারপুল ম্যাচ নিয়ে ভাববেন। তবে জিদান মনে মনে লিভারপুল ম্যাচের আগে তাঁর এবং তাঁর দলের করণীয় ঠিক করে রেখেছেন। প্রথমে এল ক্লাসিকো জয় উদ্‌যাপন নিয়ে জিদান বলেছেন, ‘কিছুই বদলাবে না। এখনো অনেক কিছুই বাকি আছে। এসবের মধ্যেই আজ আমাদের জয়টা উপভোগ করতে হবে। উদ্‌যাপনের রেশ থাকবে আগামীকালও। কারণ, আমরা কঠিন লড়াই করে টানা দুটি ম্যাচ জিতেছি।’

default-image

এরপর জিদান জানিয়েছেন লিভারপুলের ম্যাচের আগে কী করতে চান, ‘সবার আগে আমরা (এল ক্লাসিকো জয় উদ্‌যাপন শেষে) বিশ্রাম নেব। এখন দেখি কীভাবে ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া যায়। এরপর বুধবারের ম্যাচের প্রস্তুতি নেব।’ এল ক্লাসিকোর মতো বুধবার লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচেও জিদান পাচ্ছেন না তাঁর সেরা দুই ডিফেন্ডার সের্হিও রামোস ও রাফায়েল ভারানকে। রামোস চোটের কারণে মাঠের বাইরে আর ভারান এল ক্লাসিকোর আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চোটে কারণে বার্সেলোনার বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি লুকাস ভাসকেজও। ৪৩ মিনিটে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। লিভারপুলের বিপক্ষে খেলাও অনিশ্চিত তাঁর।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন